প্রিন্ট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
Advertisement
বৃদ্ধাশ্রম খুলে ৬৪ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস কারাদণ্ড
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
জাকিয়া খান। ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন
Advertisement
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবার নামে সরকারি তহবিল লুটের এক চতুর জালিয়াতির তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য তৈরি মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের অপরাধে জাকিয়া খান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে ৭৬ মাসের বা সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে বিচারক নাতাশা সি মার্ল এই রায় দেন।
আদালতের তথ্য থেকে জানা যায় লোভ ও প্রতারণার এক অবিশ্বাস্য গল্প। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র চালাতেন জাকিয়া। এর পাশাপাশি বাসায় গিয়ে সেবা দেওয়ার আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং বেআইনি টাকা লুকিয়ে ফেলার জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামের আরও দুটি সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর ধরে চলে এই কারচুপি। নিয়ম অনুযায়ী প্রবীণ নাগরিকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাকিয়া ও তার চক্রের দালালরা তাদের নগদ টাকার লোভ দেখাতেন। কোনো সেবা না পেয়েও প্রবীণরা শুধু ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করে দিতেন, আর তার বদলে হাতে হাতে পেয়ে যেতেন নগদ ঘুষের টাকা। অন্যদিকে জাকিয়া খান সরকার বা মেডিকেয়ারের কাছে সেবা দেওয়ার ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে তুলে নিতেন কোটি কোটি ডলার।
গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খান নিজের অফিসে বসেই কীভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। জানা গেছে, এই কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠান দুটি প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে সরকার তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েও ফেলে। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ দিয়ে জাকিয়া গড়ে তোলেন বিলাসবহুল বাড়ি, জমিয়েছিলেন প্রচুর নগদ টাকা ও খাঁটি সোনার গয়না।
তদন্তে সব ধরা পড়ার পর গত বছর জাকিয়া নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। বিচারে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ওই ৫৬ মিলিয়ন ডলার সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুটি বাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ।
মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নাম ভাঙিয়ে যারা সরকারের টাকা মারবে, তাদের সবাইকে এভাবেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
Advertisement
সম্পর্কিত খবর
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
লোহিত সাগরের আরও দুই কৌশলগত দ্বীপ দখলে নিল হুথিরা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
আরও পড়ুন
Advertisement
দক্ষিণ লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা ও হুথি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটির ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলো।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সরকারি দুই কর্মকর্তা ও এক হুথি কর্মকর্তার বরাতে গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপে হুথি যোদ্ধাদের মোতায়েনের তথ্য পাওয়া গেছে। দ্বীপ দুটি বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিত্র কয়েকশ সেনা দ্বীপপুঞ্জ থেকে সরে যাওয়ার পর হুথিরা সেখানে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে। এর আগে গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ভেতরে অবস্থিত বন্দরনগরী মোখা ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয় তারা। মায়ুন দ্বীপটি পেরিম নামেও পরিচিত এবং বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত।
সাম্প্রতিক এসব দখলের ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব ঘিরে হুথিদের সামরিক অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। এ প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
রোববার সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুথিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। জবাবে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা চালায় হুথিরা। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব।
হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার মুখে ইয়েমেন সরকার লোহিত সাগর উপকূলে আরও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকারি এক কর্মকর্তা মোখা বন্দরনগরী ও বাব আল-মান্দেবের একটি দ্বীপ হুথিদের দখলে যাওয়াকে ‘বেদনাদায়ক’ পরাজয় হিসেবে স্বীকার করেছেন।
এদিকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বিকল্প দীর্ঘ নৌপথ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েমেনে নতুন করে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে দেশটিতে সংঘাতের কারণে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৮২ হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে চলা ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে স্থবির থাকলেও সাম্প্রতিক হুথি অগ্রযাত্রায় পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। মোখা, মায়ুন ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জসহ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে।
Advertisement
Advertisement