• ই-পেপার

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার রায় প্রত্যাহার

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার রায় প্রত্যাহার
ফাইল ছবি

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে হবে এমন রায় পূর্ণাঙ্গভাবে লিখতে গিয়ে বিব্রত বোধ করেছেন হাইকোর্টের এক বিচারপতি। পরে ৪ আগস্ট দেওয়া রায় প্রত্যাহার করে নিলেন হাইকোর্ট।

এরপর নথি পাঠানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে। 

জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের যে রায় দিয়েছেন, সেটি লিখতে গিয়ে কনিষ্ঠ বিচারপতি দেখেন একসময় তিনি মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেছিলেন। কাজেই এ রায় তিনি দিতে পারেন না।

নিয়মানুযায়ী এটি শুনানির জন্য এখন নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দেবেন প্রধান বিচারপতি। 

সেই সঙ্গে গত ৪ আগস্ট ড. ইউনূসের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১১ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

লিগ্যাল এইডে সরকারি খরচায় ৪ লাখ ৮২ হাজার ৯০৬ মামলায় আইনি সহায়তা

বাসস
লিগ্যাল এইডে সরকারি খরচায় ৪ লাখ ৮২ হাজার ৯০৬ মামলায় আইনি সহায়তা
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে সরকারি খরচায় অস্বচ্ছল বিচার প্রার্থীদের ৪ লাখ ৮২ হাজার ৯০৬টি মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস এর মাধ্যমে ৩,৪৮৩টি মামলা, দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৫টি মামলা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৪ হাজার ৭০৮টি মামলায় আইনগত সহায়তা প্রধান করা হয়েছে।

দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল, সরকারি আইনি সহায়তা জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টারে (টোল ফ্রি-‘১৬৬৯৯’) কারাবন্দিদের এই আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের’ অধীনে সরকারি খরচায় এ সেবা দেয়া হয়।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধারের মামলায় বন্ধুর দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধারের মামলায় বন্ধুর দায় স্বীকার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর শেখ ওয়াসিম রনি নামে এক ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় বন্ধু মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার উপপরিদর্শক বেলায়েত হোসাইন আসামি মাসুমকে আদালতে হাজির করেন। এরপর আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।  

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার গভীররাতে বিসি দাস স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরদিন শুক্রবার ভোরে নিচতলার পাশে মাটি খুঁড়ে রনির লাশ উদ্ধার করে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ী ওয়াসিম রনি নিখোঁজ ছিল বলে গত ৮ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় জিডি করেন তার স্বজনরা। সেই জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ রনির বন্ধু মাসুমকে আটক করে। পরে মাসুমের দেখানো মতে তার বাসার পেছন থেকে মাটিতে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় রনির লাশ উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় রনির স্ত্রী নুসরাত জাহান সীমা লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, রনির কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ধার নেন মাসুম। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মাসুম টাকা ফেরত না দেওয়ায় তার বাসার নিচ তলার অফিসে যান রনি। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে পাওনা টাকা চাইতে ওয়াসিম রনি মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। ওইদিনের পর থেকে রনি নিখোঁজ ছিলেন।

স্বর্ণ জব্দের মামলায় বিমানের কর্মী সোয়েব রিমান্ড শেষে কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বর্ণ জব্দের মামলায় বিমানের কর্মী সোয়েব রিমান্ড শেষে কারাগারে
ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব কাজী সজিবকে (৩১) রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সোয়েবকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সোয়েবের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কাস্টমস, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিএফআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তল্লাশির সময় বিমানের ক্যাবিনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন সোয়েব। একপর্যায়ে তিনি তার শরীরে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বার দৌড়ে গিয়ে বিমানের ক্যাবিনে ফেলে দেন বলে মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ক্যাবিন থেকে ১২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জামিল সারোয়ার আহাদ বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।

নববধূর ‘আত্মহত্যা’ : রিমান্ড শেষে কারাগারে স্বামী রাহাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নববধূর ‘আত্মহত্যা’ : রিমান্ড শেষে কারাগারে স্বামী রাহাত
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার শ্যামপুরে নববধূর ‘আত্মহত্যায়’ প্ররোচনার মামলায় স্বামী রাহাত হোসেনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২০ আগস্ট শ্যামপুর থানায় রাহাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নববধূর মা। মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন।

২১ আগস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লট এলাকার নিজ বাসা থেকে রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার এসআই ইমাম হোসেন রাহাতের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে শুক্রবার রাহাতকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে পারিবারিকভাবে রাহাতের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আসামিরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে গালাগাল ও মারধর করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার নববধূর মাকে ফোন করে তার অচেতন হয়ে পড়ার কথা জানান। পরে রাহাতের বাবা লিটন ব্যাপারী ও ভাই সাইফ তাকে সূত্রাপুরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে তার মাও সেখানে যান। সেখানে মেয়েটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে রাহাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা।

এ মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।