প্রিন্ট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
রংপুরে ৪ খুন: দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোববার জেলগেটে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে তাদের শরীরে এমফিটামিনসহ কোনো ধরনের মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
গুগল নিউজে ভোরের কাগজের খবর পড়তে ফলো করুন
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করে। এ সময় রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থে কারাগারের ভেতরেই নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। অনুমতি পাওয়ার পর মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যায় ডিবি পুলিশের দল।
আরও পড়ুন: শিশু আছিয়া হত্যা, হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
শিশু আছিয়া হত্যা, হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।
মামলায় হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
আরও পড়ুন: আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা, হাইকোর্টে রায় ঘোষণা চলছে
এর আগে গত ১১ আগস্ট শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন ও তার করা আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
মামলার নথি অনুযায়ী, রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা করেন।
গুরুতর আহত আছিয়াকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ১৩ মে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: পে স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত আজ
এরপর ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন- শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স
আইন অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে শিশু আছিয়া হত্যা মামলার যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: আজ মন্ত্রিসভায় পে স্কেল, দ্রুত প্রজ্ঞাপন
পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
শেষ পর্যন্ত শুনানি শেষে সোমবার হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা, হাইকোর্টে রায় ঘোষণা চলছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা শুরু করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করছেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
এর আগে গত ১১ আগস্ট শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন এবং তার করা আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়।
যেভাবে ঘটে আছিয়ার মৃত্যু
২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এরপর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি।
আরও পড়ুন: আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ
এ ঘটনায় করা মামলায় শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
একই রায়ে মামলার অপর তিন আসামি- শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখও আপিল করেন।
নারী-শিশু নির্যাতন মামলার জন্য বিশেষ বেঞ্চ
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য ২০২৬ সালের ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
এই বিশেষ বেঞ্চে মামলাগুলো পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন ওই টিমে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আছেন মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আজ রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট এ মামলায় উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়।
আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
মাগুরা সদর উপজেলায় ঘটে শিশু আছিয়ার ওপর ধর্ষণ ও হামলার মর্মান্তিক ঘটনা। রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে আট বছর বয়সী আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যারও চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলে কে দায়িত্ব পালন করবেন?
পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর এক বছর আগে, গত বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।
আজ সেই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন থেকে ২০২৪ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ফের পেছাল সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, শফিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্ট দল কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দেবে। অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে অনুসন্ধানটি নিষ্পত্তি করা হবে।
জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হন। প্রায় তিন বছর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান তিনি। সেনাপ্রধান থাকাকালে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন শফিউদ্দিন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এসব অভিযোগে এরই মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
ফের পেছাল সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে, গত ২০ মে সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।
আরো পড়ুন: দুর্ঘটনার কবলে তাসনুভা তিশা, অতঃপর
তবে লাশ উত্তোলনের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।
এরপর গত ২২ জুন মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম তদারকির জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে সেটিও নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরো পড়ুন: নেপালের বন্যা নিয়ে যা বললেন অপু বিশ্বাস
সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর আরো উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
ফের পেছাল সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে, গত ২০ মে সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।
আরো পড়ুন: দুর্ঘটনার কবলে তাসনুভা তিশা, অতঃপর
তবে লাশ উত্তোলনের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।
এরপর গত ২২ জুন মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম তদারকির জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে সেটিও নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরো পড়ুন: নেপালের বন্যা নিয়ে যা বললেন অপু বিশ্বাস
সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর আরো উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।