এইমাত্র
  • শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ: হাইকোর্টের রায়ে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
  • থানার গারদেই আসামিদের 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল!
  • জমি কেনার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারি
  • মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক আজ, গুরুত্বপূর্ণ নীতি কী?
  • স্বর্ণের দাম ভরিতে কমলো ৪ হাজার ৭২৩ টাকা
  • ৩ জেলায় নতুন এসপি, ৯ কর্মকর্তাকে বদলি
  • বিচার মীমাংসার কথা বলে নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা
  • নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ছাড়াল ৮০০, নিখোঁজ আরও ৩ হাজার
  • উজবেকিস্তানের সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি করছে ভারত
  • হরমুজে মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
  • আজ সোমবার, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন ছাত্রদল নেতা

    মো. মোস্তাফিজ, তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
    মো. মোস্তাফিজ, তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

    অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন ছাত্রদল নেতা

    মো. মোস্তাফিজ, তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

    বরগুনার তালতলীতে হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যবসা ও রোগীদের নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে প্রভাবিত করার অভিযোগ দেওয়ার পর ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. খাইরুল ইসলাম (২৯)-কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা ও আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক মো.আল মামুনের বিরুদ্ধে। 

    রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তালতলী উপজেলা শহরের বেটার লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাইরুল ইসলাম তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ‘আন নাফি মেডিসিন জোন’ নামে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারন সম্পাদক ও আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক আল মামুন তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।

    সম্প্রতি ছাত্রদলের সহ-সাধারন সম্পাদক ও আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক আল মামুন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) সংগ্রহ এবং রোগীদের নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে 

    বাধ্য করেন। এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে খাইরুল ইসলামসহ হাসপাতালসংলগ্ন কয়েকজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এমনকি তাকে মারধরের জন্য লোকজন ঠিক করে রাখেন। ঘটনার দিন রোববার বেলা ১১টার দিকে খাইরুল ইসলাম মোটরসাইকেলে করে উপজেলা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বেটার লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পৌঁছালে আল মামুন ও তার ভাই মাহফুজসহ ৮-১০ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন ও মোটরসাইকেল থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে নেওয়ার সময় এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।খবর পেয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    ভুক্তভোগী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ব্যবসায়িকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় আজ আমাকে পথরোধ করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বেটার লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক মো. আল মামুন, বলেন, 'ছোটভাইদের সাথে একটু হইছে। তা মিলে যাবো।'

    জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সানাউল্লাহ সানি বলেন, "দলীয় পরিচয় কাউকে মারধর বা অনিয়ম করার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।"

    তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    ত্রিশালে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

    ময়মনসিংহের ত্রিশাল-বালিপাড়া রোডের ঠাকুরবাড়ি মোড় এলাকায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।​নিহতদের তাৎক্ষণিক পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।​আহত ব্যক্তিরা হলেন— ফয়জুল (৩৪), রুবেল (৩০), হৃদয় (২২) ও নাবিল (২২)।​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া রোডের ঠাকুরবাড়ি মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি চলন্ত ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী মারা যান।​দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ফয়জুল ও রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহাম্মদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।এমআর-২

    থানার গারদেই আসামিদের 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল!

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার গারদে বসে যুবলীগ নেতা আজমেরী ওসমানের পক্ষে অনুগত নেতাকর্মীদের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।ভিডিওতে দেখা যায়, ফতুল্লা থানার গারদে থাকা যুবলীগের নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন। এসময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানও দেন। তবে ভিডিওটি কে এবং কীভাবে ধারণ করা হয়েছে, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।গারদে বসে ভিডিও ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম বলেন, ‘ভিডিওটির বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। কখন বা কীভাবে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০), ফেরদৌস (১৮), পলক (১৮), আবু বকর (১৮), তানভীর (১৮), লিমন (১৮) ও নয়ন (১৮)।পুলিশ জানায়, সাইনবোর্ড এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল করে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আজমেরী ওসমানের অনুগতরা- এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভূঁইগড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের একাধিক দল অবস্থান নেয়। মধ্যরাতে মিছিলের জন্য কয়েকজনকে জড়ো হতে দেখে পুলিশ ধাওয়া দিলে বেশিরভাগই পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরে রোববার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।ইখা

    শাহজালালে যাত্রীদের ব্যাগেজে মিলল ৬২৫ কার্টন সিগারেট

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানকৃত বিদেশি সিগারেট, প্রসাধনী ও মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা।গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার বি ও সি-শিফট যৌথ ও পৃথকভাবে এ নজরদারি অভিযান পরিচালনা করে।কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি চালানো হয় দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (ইকে-৫৮৪) একটি ফ্লাইটে। উড়োজাহাজটি অবতরণের পর গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় যাত্রী মো. হিমেলের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৭০ কার্টন সিগারেট ও ১.২৪ কেজি হোয়াইটেনিং সিরাম উদ্ধার করা হয়। একই ফ্লাইটের অপর যাত্রী শারমিন আক্তারের ব্যাগ থেকে আরও ২৭০ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়। বি-শিফটের এই অভিযানে উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।অন্যদিকে, দিল্লি থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার (এআই-২৩৭) ফ্লাইটে সি-শিফটের অভিযানে যাত্রী মহাথে হাসান বাবুর ব্যাগ থেকে ৩১ কার্টন সিগারেট ও ১৩২ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম এবং সোহদুল হাসান শাকিলের ব্যাগেজ থেকে ৫৪ কার্টন সিগারেট, ১৪৪ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম ও ৩ কেজি জর্দা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া কাতার এয়ারওয়েজের (কিউআর-৬৪০) অন্য এক যাত্রী রফিকুল সরদারের ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩ লিটার বিদেশি লিকার। সি-শিফটের জব্দকৃত এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, দুই শিফটের সমন্বিত অভিযানে সর্বমোট ৬২৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ২৭৬ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম, ৫ কেজি জর্দা এবং ৩ লিটার লিকার জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত যাত্রীদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।পিএম

    জমি কেনার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারি

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি রেজিস্ট্রি করার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. মাহাবুর আলম (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।​মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. ইমরান হোসেন (৩৫) বাদী হয়ে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯ নম্বর আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২৮ আগস্ট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই সমন জারি করেন।​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের আবু বক্কারের ছেলে অভিযুক্ত মাহাবুর আলম জমি কেনার কথা বলে এবং পরবর্তীতে ফেরত দেওয়ার শর্তে নিকট আত্মীয় ও পূর্বপরিচিত ইমরান হোসেনের কাছে ৮ লাখ টাকা ধার চান। তার কথায় সরল বিশ্বাসে গত ৫ জানুয়ারি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নগদ ৮ লাখ টাকা দেন ইমরান। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও অভিযুক্ত নানা বাহানায় কালক্ষেপণ করতে থাকেন।​পরবর্তীতে গত ২৫ জুন অভিযুক্ত নিজ উদ্যোগে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এক মাসের মধ্যে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকারনামা দেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর গত ২২ আগস্ট পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হন এবং টাকা নেওয়ার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হলে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক অভিযোগটি আমলে নেন। পরে ২৮ আগস্ট অভিযুক্ত মাহাবুর আলমের বিরুদ্ধে সমন জারি করে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মাহাবুর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।ইখা

    উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলতিতে ঝুলছে উন্নয়নকাজ, বারবার ছাড় পাচ্ছেন ঠিকাদার

    নির্ধারিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একাধিক উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি। অনেক প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এলজিইডি থেকে প্রাপ্ত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।নথি অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের IRIDP-3 প্রকল্পের আওতায় খড়খড়ি নদীর ওপর পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছরেএ ২২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এই মেয়াদেও কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।একই নথিতে দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের Tulo-2 প্রকল্পের আওতায় দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণের কাজ পায় পঞ্চগড় সদরের মেসার্স প্রধান এন্টারপ্রাইজ। কাজটি শুরু হয় গত বছরের ১৬ এপ্রিল। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। পরে এই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে কাজ পিছিয়ে পড়ার জন্য সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে।একই অর্থবছরে Tulo-2 প্রকল্পের আওতায় মেসার্স সোহান ট্রেডার্স দেবীডুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই। কাজটি শেষের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল চলতি বছরের ৫ মে। অথচ কাজটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৪০ শতাংশ। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।সবচেয়ে কম অগ্রগতির পরও মেয়াদ বৃদ্ধির ঘটনা দেখা গেছে ওই অর্থবছরের Tulo-2 প্রকল্পের টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণকাজে। দেবীগঞ্জের মেসার্স সুমন ট্রেডার্স ২০২৫ সালের ৮ জুলাই কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩ মে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ করতে না পারায় চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কাজটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র প্রায় ২৫ শতাংশ। এরই মধ্যে পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে।এছাড়া GDDRIDP প্রকল্পের আওতায় পামুলী ইউনিয়নে ৫০ দশমিক ১০ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এরপরও ২০২৭ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে এর ভৌত অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ।সরেজমিনে দেখা যায়, উন্নয়নকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।পামুলী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন প্রায় ৫০ মিটার সেতুটিও স্থানীয় যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পামুলী ইউনিয়নের শান্তিরহাট ও দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় অন্যান্য কৃষিপণ্যের পাশাপাশি বাদাম কেনাবেচার একটি আঞ্চলিক হাব গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ট্রাকে করে পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সাথে নদী পারাপারের জন্য বিকল্প বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে কয়েক দিন আগে একটি ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার নিচে পড়ে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। গুরুতর আহন হন চালক ও যাত্রী।সেতুটি নির্মাণ হলে দণ্ডপাল, সুন্দরদিঘী ও পামুলী ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বোদা উপজেলার যোগাযোগ সহজ হবে এবং দূরত্বও কমে আসবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।সরকারি বিধি ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি ও দায় বিবেচনায় চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি কম থাকার পরও বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পঞ্চগড় জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা বলেন, “কাজের অগ্রগতি কম থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত বা চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হলে ঠিকাদাররা স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ পান। প্রকৌশলীর দায়িত্ব শুধু সময় বাড়ানো নয়, ঠিকাদারের কাছ থেকে সময়মতো কাজ শেষ করে তা বুঝে নেওয়াও। কেন তিনি কাজটি সময়মতো বুঝে নিতে পারছেন না, সেটিও প্রশ্ন। এভাবে কাজ ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ উন্নয়নকাজের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।”উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল হক প্রধান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করলে এবং বারংবার এভাবে সময় বৃদ্ধি অবশ্যই ব্যত্যয়। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজ বুঝিয়ে নেওয়ার দায় উপজেলা প্রকৌশলী এড়াতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উচিৎ বিষয়গুলো যাচাই করে কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ।এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি জেলা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। ঠিকাদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বৃদ্ধি করা হয়, এটা নিয়মেই আছে। বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবনের কাজ সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে থেমে আছে। আর শীঘ্রই সোনাহার ও পামুলীর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে।এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সফিউল আলমকে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এইদিকে দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুনগত মান বজায় রেখে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়কে যথাযথ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।উল্লেখ্য, দেবীগঞ্জে যোগদানের তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার ইসলাম শাকিলের বদলি আদেশ হলেও উপর মহলকে ম্যানেজ করে সেই বদলি আদেশ বাতিলের অভিযোগ উঠেছে।এইদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি সংক্রান্ত ২২ মে ১৯৮৩ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ জুন ১৯৮৩ তারিখে ইডি/এস এ ১-১৩/৮৩-২৫৭(১০০) স্মারকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, দপ্তর, পরিদপ্তর এবং অন্যান্য বদলিযোগ্য পদে থাকা যেসব কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বা একই পদে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন, তাদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে।এমআর-২

    বদলির শেষ মুহূর্তে ইউএনওর ‘তেলেসমাতি’: দুই দিনে ৩ শতাধিক নামজারি অনুমোদন!

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বদলি আদেশের শেষ মুহূর্তে উপজেলা ভূমি অফিসে অস্বাভাবিক গতিতে বিপুলসংখ্যক নামজারি মামলা অনুমোদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকার সুযোগে ওই পদের প্রশাসনিক ক্ষমতা পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি তিন শতাধিক নামজারি ফাইল অনুমোদন করেছেন বলে ভূমি অফিস-সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি ও নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ায় এই বিপুলসংখ্যক ফাইল অনুমোদনের নেপথ্যে কয়েক লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৬ ও ২৭ আগস্টের মধ্যে অনুমোদিত বহু ফাইলের কাজ অফিস সময়ের পর, এমনকি গভীর রাতেও সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের বিধান থাকলেও ইউএনও তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে এসব ফাইল ডিজিটাল সিস্টেমে অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত নাজির পলাশ দাশ জানান, ইউএনও স্যার মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট সিস্টেমে আইডি অ্যাক্সেস পেয়েছিলেন এবং বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট দায়িত্ব পেয়ে ২৭ আগস্ট অপরাহ্ণে দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্যবর্তী মাত্র দুই কর্মদিবসেই তিনি এই বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির প্রশাসনিক নামজারি নিষ্পত্তির সুযোগ পান।সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের (তহশিলদার) সঙ্গে কথা বলে অস্বাভাবিক সংখ্যক ফাইল অনুমোদনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাতকানিয়া সদর ভূমি অফিসের তহশিলদার কাজী ইমরুল কায়েস জানান, ইউএনও আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০টি নামজারি ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন, তবে এসব ফাইল দিনে না রাতে অনুমোদন হয়েছে তা তিনি অবহিত নন। বাজালিয়া ভূমি অফিসের তহশিলদার মোকাম্মেল হোসেনের হিসাব মতে, তাঁদের দপ্তর থেকে পাঠানো আনুমানিক ৩০টি নামজারি ফাইল অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যদিকে দেউদিঘী ভূমি অফিসের তহশিলদার সালাউদ্দিন বেশ কিছু ফাইল অনুমোদনের কথা স্বীকার করলেও চূড়ান্ত সংখ্যা জানাতে পারেননি। তুলাতলী ভূমি অফিসের তহশিলদার হারেজ আহমদ নামজারি প্রক্রিয়ার বিষয় এসিল্যান্ডের এখতিয়ারভুক্ত উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফাইলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। সকল ইউনিয়ন কার্যালয়ের তথ্যের সমন্বয়ে সংখ্যাগত ভিন্নতা থাকলেও, দুই দিনে অস্বাভাবিক সংখ্যক নামজারি নিষ্পত্তির বিষয়টি স্পষ্ট। তবে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড ও সিস্টেমের লগ পরীক্ষা করলে প্রতিটি আবেদনের চূড়ান্ত অনুমোদন ও সময়ের নির্ভুল চিত্র পাওয়া সম্ভব।সাধারণ একজন আবেদনকারীকে যেখানে নামজারি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেখানে বদলি আদেশের পর মাত্র দুই দিনে এত বিপুল সংখ্যক নথি নিষ্পত্তি প্রশাসনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি নামজারি মামলায় দলিলাদি যাচাই, খতিয়ান বিশ্লেষণ, স্বত্ব ও দখল তদন্ত, ওয়ারিশান সনদ পরীক্ষা এবং শুনানি গ্রহণসহ একাধিক আইনি ধাপ পার হতে হয়। যদি ফাইলগুলো পূর্বে থেকেই শুনানি ও তদন্ত শেষে প্রস্তুত রাখা হয়ে থাকে, তবে এতদিন কেন আটকে রাখা হয়েছিল, আর যদি পূর্বপ্রস্তুতি না থাকে, তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শত শত আবেদনের আইনি আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে সম্পন্ন হলো তা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংশয় দেখা দিয়েছে। সাতকানিয়ায় সম্প্রতি দায়িত্ব পালন করা একজন সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অফিস সময়ের বাইরে বা গভীর রাতে শত শত নামজারি মামলা অনুমোদনের ঘটনাটি ঘটলে তা অবশ্যই প্রশাসনিক তদন্তের দাবি রাখে, কারণ এত স্বল্প সময়ে প্রতিটি ফাইলের আইনি বৈধতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়।নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সাতকানিয়ায় যোগদানের পর খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে তিন দফায় বদলি করা হয়। প্রথম দফায় গত ১০ মার্চ তাঁকে সাতকানিয়া থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর বিভাগে ন্যস্ত করা হয়, দ্বিতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল তাঁকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয় এবং সর্বশেষ ২৩ আগস্ট চূড়ান্ত আদেশে তাঁকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। তিন দফা আদেশের পর ২৭ আগস্ট ছিল সাতকানিয়ায় তাঁর শেষ কর্মদিবস। আর এই শেষ মুহূর্তেই ২৫ আগস্ট তিনি এসিল্যান্ডের সাময়িক দায়িত্ব পেয়ে দুই দিনে বিপুল সংখ্যক নামজারি অনুমোদনের ঘটনাটি ঘটান।অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান নামজারি অনুমোদনের সংখ্যা, বাসভবনে গভীর রাতে ফাইল অনুমোদন বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। উল্টো সংবাদ অনুসন্ধানের বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি এ প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমি যে গুজব পার্টির সদস্য, তা জানা ছিল না। আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিক। এতই যখন ইউএনও ও এসিল্যান্ড অফিস নিয়ে মাথাব্যথা, বিসিএস দিয়ে ক্যাডার হয়ে যাও। ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনে ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুমোদিত সকল নামজারি মামলার ডিজিটাল রেকর্ড ও টাইমলাইন বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।পিএম
    Loading…