মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

‘উদ্বেগের জায়গাই’ বেশি দেখছেন দেবপ্রিয়

ছয় মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ৬২ হাজার শ্রমিক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

ছয় মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ৬২ হাজার শ্রমিক

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রধান ৩১টি সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই অবনতি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, মাথাপিছু ঋণ, রাজস্ব আদায়, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

সূচকের বাকি ১২টিতে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসব সূচকের অগ্রগতিও টেকসই নয়। অবশ্য, পরিস্থিতি অস্বস্থিকর বললেও হতাশ হওয়ার মতো নয় বলে মনে করে সিপিডি।  সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে সিপিডি। গতকাল সোমবার এক মিডিয়া সংলাপে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ সংক্রান্ত ৯টি খাতের ৩৬২ পর্যবেক্ষণে সিপিডির মূল্যায়নে স্বস্তি ও অস্বস্তির দিকগুলো তুলে ধরা হয়।

খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে, শাসন ও প্রশাসন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, জ্বালানি ও পরিবহন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা। শুধু ঘোষণার পরিবর্তে বাস্তবে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকেই  সিপিডির মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপটি রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিপিডির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সংস্থার সম্মাননীয়  ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অন্যদের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান সংলাপে অংশ নেন।  

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু কাঠামোগত সমস্যা পেয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বৈশ্বিক পরিস্থিতিও খুব ইতিবাচক ছিল না। ফলে অর্থনীতির উত্তরণের ধারা দুর্বল অবস্থায় ছিল এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে সরকারের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত দলিল তৈরি না করার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সরকার বারবার বলছে তারা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কী পরিস্থিতি থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তার একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি। ফলে এখন সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে পরিসংখ্যানের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, সংস্কার কর্মসূচির ক্ষেত্রেও সমন্বিত কোনো কর্মপরিকল্পনা দেখা যায়নি।

ইশতেহারে যেসব কমিশনের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোরও অনেকগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ মূল্যায়ন করতে সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের তালিকা করেছে বলে জানান দেবপ্রিয়। এগুলোকে নয়টি ভাগে বিভক্ত করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর আওতায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

বেতন বাড়ানো সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো করতে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে।

তিনি বলেন, এত দেরি না করে শুরুতেই যদি ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে নুতন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সময় চাইতেন সেটা ভালো হতো। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে। এতে সরকারের অন্যান্য কাজও বিঘ্নিত হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ছয় মাসেও বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কেন পারছেন না? একটা বড় বিষয় আছে, আর্থিক সক্ষমতা। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা (৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা), তা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হবে।’বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সিপিডি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতিরও ব্যত্যয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ড. দেবপ্রিয়। আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনে ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরও মব সহিংসতা, নারী, শিশু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। 

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিপিডি। এ ঘাটতি সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৯–২০ শতাংশ।

এনবিআরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। মোট কর রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। নিট বৈদেশিক সহায়তাও ৭৭১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৭৩৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

বন্ধ ৯৫ কারখানা, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজারের বেশি
শিল্প খাতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সিপিডি। জানুয়ারি-আগস্ট ২০২৬ সময়ে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ায় সরাসরি ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে শূন্যে নেমেছে। উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমে এসেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। নিট বিদেশি বিনিয়োগ ৬৬২ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যা, এলএনজি সংগ্রহে জটিলতা ও কার্গো গ্রহণে সমস্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিডি। এর প্রভাবে টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেলবোর্ড ও সিরামিকসহ গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার ১ হাজার ১৮৬ এমএমসি থেকে কমে ১ হাজার ১৪৮ এমএমসিতে নেমেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধিও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। 

সিপিডি বলছে, মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে নেমে ৭ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হলেও প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি এখনো নেতিবাচক। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিপরীতে আমদানি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ২১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। মাসিক গড় বিদেশে কর্মসংস্থান ৯৫ হাজার ৫২১ জন থেকে কমে ৫১ হাজার ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি হিসাবের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ৬০০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে চলে গেছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

জ্বালানি সংকটে শিল্প 
শিল্প উৎপাদনে জ্বালানি সংকটের প্রভাবও সংলাপে তুলে ধরেন দেবপ্রিয়। সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা, বিকল্প এলএনজি কার্গো সংগ্রহে জটিলতা এবং সরবরাহ পরিকল্পনার দুর্বলতায় গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব পড়েছে। মার্চ-এপ্রিল সময়ে শিল্প উৎপাদনের সাধারণ সূচক এবং উৎপাদনশিল্পের সূচকের প্রবৃদ্ধি শূন্যে নেমে আসে। সিপিডির পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের তিন প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে ৬১ হাজার ৮৮১ জনের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। 

রাজস্ব আদারয়ের লক্ষ্যে ‘বড় চাপ’
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। সেই বিবেচনায় রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিও ‘উদ্বেগজনক’ বলে মনে করছে সিপিডি। দেবপ্রিয় উপমা দিয়ে বলেন, “একটি বাচ্চাকে আপনি এক বছরে বলতে চাচ্ছেন যে তোমার উচ্চতা ৩ ফুট থেকে ৬ ফুট বানাতে হবে।”বাস্তব পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। এনবিআরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ১ শতাংশ এবং মোট কর রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে।

দেবপ্রিয় বলেন, রিজার্ভ বাড়া বা পুঁজিপণ্য আমদানির মত কিছু সূচক ইতিবাচক দেখালেও সেগুলোর পেছনের কারণও বিবেচনায় নিতে হবে। রিজার্ভ বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সেটা হল যে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াটা স্বাস্থ্যের লক্ষণ নাকি এটা রক্তশূন্যতার লক্ষণ?” এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “মানে বিনিয়োগ নাই, সেহেতু আমদানি নাই, সেহেতু আপনার রিজার্ভ বাড়ছে।”সিপিডির পর্যালোচনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত বিপিএম-৬ পদ্ধতির হিসাবে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে গেছে।

আড়াই-তলা সরকার 
সরকারের কাঠামো নিয়েও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয়। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার বিশেষ সহকারীদের নিয়ে গঠিত সরকারকে তিনি ‘আড়াই-তলা সরকার’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সিপিডির এই ফেলো বলেন, “এই মুহূর্তে সরকারের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বেশি জনপ্রিয়। সরকারের যে অ্যাপ্রুভাল রেটিং, সেটাও খারাপ না, ৫০-এর উপরে। কিন্তু জনপ্রিয় হলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার যে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আছে, সেটা দিয়ে উনি রাজনৈতিক সাহস দেখিয়ে নিজের দলের লোকজনদের ঠিক পথে পরিচালনা করতে পারবেন কি না, আমলাকে ঠিক জায়গাতে রাখতে পারবেন কি না—এটিই আমি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি। ছয় মাসের সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়নে তিনি বলেন, “দিতে চাই ‘এ’, কিন্তু টানে তো ‘বি’-এর দিকে। সবচেয়ে প্রচলিত ফল মূল্যায়ন এসএসসি ও এইচএসসি অনুযায়ী ৭০ থেকে ৭৯ শতাংশ নম্বর মিললে বলা হয় ‘এ’ আর ৫০ থেকে ৫৯ নম্বরের মধ্যে থাকলে বলা হয় ‘বি’।

কিছু পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলছে সিপিডি
সিপিডির মূল্যায়নে সরকারের কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচক হিসেবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, অপ্রকাশিত অর্থ বৈধ করার প্রস্তাব প্রত্যাহার, ই-রিটার্ন ও ডিজিটাল আয়কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আরএমজির বাইরে রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ স্বাক্ষর, বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ চালু, স্টার্টআপ ফান্ড গঠন, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মেট্রো ও ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়, কৃষিঋণের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ও সুদ মওকুফ এবং নারী পরিচালিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। ব্যাংক খাতে পাঁচটি দুর্বল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন এবং পাঁচটি অকার্যকর এনবিএফআইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ প্রয়োগকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেছে সিপিডি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। 

সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির সুপারিশ
সিপিডি সরকারের প্রতি অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদের একটি ‘কোর বাজেট’ তৈরির সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি, ব্যাংক, এনবিআর, রাজস্ব-ব্যয়, এডিপি, লজিস্টিকস, ডিজিটালাইজেশন ও বেতন কমিশনসহ একটি সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় অনুসন্ধান, কৌশলগত মজুত ও উৎস বহুমুখীকরণের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সংসদে বেতন কাঠামো, ব্যাংকিং খাত, বিদ্যুৎ খাত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনেরও পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

এসএফ

Advertisement
এদিনের সব
Daily Adin Logo

খাবার পানি ‘ভয়ংকর’!

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ এএম

আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ এএম

খাবার পানি ‘ভয়ংকর’!

সুপেয় পানির সংকট এবং এর প্রভাবে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয় নিয়ে ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় বাংলাদেশে খাবার পানিতে উচ্চমাত্রার লবণাক্ততার পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের বাড়তি ঝুঁকির প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা।

খাবার পানির উচ্চ লবণাক্ততা বাড়িয়ে তুলছে উপকূলীয় মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি। অতীতের রেকর্ড ভেঙে খুলনার কয়রায় ৫৫ শতাংশের বেশি খাবার পানির উৎসে মিলেছে লবণ। চল্লিশোর্ধ্ব প্রায় ১৬ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করে এ তথ্য জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

গতকাল সোমবার মহাখালীর আইসিডিডিআর,বি-এর সাসাকাওয়া মিলনায়তনে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সহযোগিতায় আইসিডিডিআর,বি আয়োজিত ‘পানীয় জলের লবণাক্ততা ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: বাংলাদেশের প্রমাণ ও নীতিগত সুপারিশ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের নীতি ও ফলাফল প্রকাশ সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

আইসিডিডিআর,বি-এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. আলিয়া নাহিদ ‘এনআইএইচআর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ সেন্টার ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’-এর বাংলাদেশ কর্মসূচির প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করেন। কর্মসূচির আওতায় খুলনার কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার ৭১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাধীন ১৭২টি গ্রামের পানির উৎসের লবণাক্ততা পরীক্ষা করা হয়।

গবেষকরা মোট ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস জরিপ করেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৩টি বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ খাবার পানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। খাবার পানির উৎসের মধ্যে কয়রায় ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, উপকূলীয় বাংলাদেশের লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য যে পানির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেই পানিই এখন ক্রমশ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। খাবার পানির লবণাক্ততা এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়। পানির মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীরাও বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

গবেষণার আরেকটি অংশে কয়রা ও আশাশুনির ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জন প্রাপ্তবয়স্কের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজনের বা ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের ঝুঁকি রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। এ হার কয়রায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এই তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা পানি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ইন্টারভেনশন প্যাকেজ তৈরি করেন। পানি বিষয়ক কর্মসূচির লক্ষ্য হলো কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি, পানির উৎসের সুষ্ঠ‍ুপরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে কম লবণাক্ত খাবার পানির প্রাপ্য বাড়ানো। এর আওতায় কমিউনিটি রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার ও টিউবওয়েলের পাশাপাশি খাবার পানির উৎসের জন্য একটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল রেজিস্ট্রি ও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে কমিউনিটি মোবিলাইজেশন ও স্বাস্থ্য শিক্ষার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ডিজিটাল সেবা যুক্ত হবে। অ্যালগরিদমভিত্তিক ‘ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে স্ক্রিনিং, রেফারেল, চিকিৎসা ও ফলো-আপ কার্যক্রমে সহায়তা করা হবে। গত প্রায় দুই দশক ধরে উপকূলীয় বাংলাদেশে পরিচালিত গবেষণায় খাবার পানির লবণাক্ততা, বিশেষ করে সোডিয়ামের আধিক্যের সঙ্গে রক্তচাপ বৃদ্ধির যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

গবেষকরা বলছেন, উপকূলীয় ১৯ জেলার পানিতে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী সোডিয়াম। প্রতিদিন লবণাক্ত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন দুই কোটি মানুষ। হৃদরোগজনিত প্রতি দুটি মৃত্যুর মধ্যে ১টির জন্য দায়ী নোনাপানি। খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রতি পাঁচজনে একজন উচ্চমাত্রার হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার পদ্ধতি আধুনিকায়ন করাসহ কম লবণাক্ত পানির প্রাপ্যতা বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন ওই গবেষকরা।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পাওলো ভিইনিস বলেন, বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তথ্যে খাবার পানির লবণাক্ততার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাস্থ্যভিত্তিক মাত্রা এখনো নির্ধারিত হয়নি। সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান কীভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। তিনি খাবার পানির স্বাস্থ্যভিত্তিক মানদণ্ড নির্ধারণে উপযুক্ত নির্দেশিকা প্রণয়নের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান বাটলার বলেন, গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাস খাবার পানির পুকুর ও অগভীর ভূগর্ভস্থ পানির দীর্ঘমেয়াদি লবণাক্ততার কারণ হতে পারে। জলোচ্ছ্বাসের পর পানির উৎস দ্রুত পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি উপকূলীয় পোল্ডার বা বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে তা আরো উঁচু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যের প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ এখনও সীমিত। নিরাপদ খাবার পানি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণকে যুক্ত করে তথ্য-প্রমাণ তৈরি ও সমাধান পরীক্ষা করার মাধ্যমে আইসিডিডিআর,বি এ ঘাটতি পূরণে কাজ করছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মিসেস ফাহমিদা খানম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য লবণাক্ততা ইতিমধ্যেই বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ আরো বাড়বে। এ ধরনের গবেষণালব্ধ প্রমাণ দেশের ভেতরে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিয়মিত পরিবীক্ষণ জোরদার এবং পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিস শেখ মোমেনা মনি বলেন, খাবার পানির লবণাক্ততা যদি উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় ভূমিকা রাখে, তাহলে প্রতিরোধের উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যখাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

অনুষ্ঠানের সভাপতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, লবণাক্ততা ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে বহু বছরের গবেষণালব্ধ প্রমাণ রয়েছে। এসব প্রমাণ একত্র করে বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা ও নীতিতে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল ও উন্মুক্ত আলোচনায় শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গণমাধ্যম এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেমিনার থেকে পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার, খাবার পানিতে সোডিয়ামের স্বাস্থ্যভিত্তিক নির্দেশিকা প্রণয়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বৃদ্ধি, পানির উৎসের টেকসই ব্যবস্থাপনা, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে নিরাপদ পানির কার্যক্রম একীভূত করার আহ্বান জানানো হয়।

গবেষকরা বলছেন, উপকূলীয় ১৯ জেলার পানিতে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী সোডিয়াম। প্রতিদিন লবণাক্ত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন দুই কোটি মানুষ। হৃদরোগজনিত প্রতি দুটি মৃত্যুর মধ্যে ১টির জন্য দায়ী নোনাপানি। খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রতি পাঁচজনে একজন উচ্চমাত্রার হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার পদ্ধতি আধুনিকায়ন করাসহ কম লবণাক্ত পানির প্রাপ্যতা বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন ওই গবেষকদল।

এসএফ

Advertisement
এদিনের সব
Daily Adin Logo

ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ডবল’ ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০১ এএম

আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০১ এএম

ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ডবল’ ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি

১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বলটি নিলামে ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশনসে শনিবার বলটি ৩৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। যদিও নিলামকারীদের প্রত্যাশা ছিল, এর দাম প্রায় ১ কোটি ডলার বা ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই বল দিয়েই বিতর্কিত গোলটি করেছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ম্যারাডোনা। গোলরক্ষক পিটার শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত দিলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়। ম্যাচ শেষে গোলটি নিয়ে ম্যারাডোনা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সেটি হয়েছিল ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে এবং কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে’। এরপর থেকেই গোলটি ফুটবল ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়।

একই ম্যাচে ম্যারাডোনা আরেকটি অসাধারণ গোল করেন, যা পরে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ইংল্যান্ডের পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলরক্ষক শিলটনকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি। ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে দলটি।

নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি সত্যিকার অর্থেই অদ্বিতীয় একটি স্মারক। তর্কসাপেক্ষে এটি ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহযোগ্য বস্তু।’

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার সেই ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন তিউনিসিয়ার রেফারি আলী বিন নাসের। ম্যাচ শেষে অ্যাডিডাসের তৈরি ‘আজটেকা’ বলটি তিনি সংগ্রহ করেন এবং তিন দশকের বেশি সময় নিজের কাছে রাখেন। ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিন নাসের নিশ্চিত করেন, পুরো ম্যাচে একমাত্র এই বলটিই ব্যবহার করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে স্বাধীন যাচাইয়েও এর সত্যতা নিশ্চিত হয়। বিন নাসের ২০২২ সালে বলটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে বিক্রি করেছিলেন। নতুন মালিক ২০২৩ সালে সেটি আবার নিলামে তুললেও নির্ধারিত সর্বনিম্ন দাম না ওঠায় তখন বিক্রি হয়নি। একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিটিও ২০২২ সালে নিলামে বিক্রি হয়েছিল। সেটির দাম উঠেছিল ৭১ লাখ পাউন্ড।

এসএফ

Advertisement
এদিনের সব
Daily Adin Logo

আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে ৮ হাজার দলিল

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে ৮ হাজার দলিল

আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় জমির দলিল নিবন্ধন, জাল দলিল সম্পাদনের অভিযোগ, জমির প্রকৃত শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক অনিয়মের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাবরেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পেয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে এবং নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে তদন্তে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ। যেভাবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছর নিজেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয় (ভাতিজির জামাই) পরিচয় দিয়ে করছেন সব অনিয়ম ও দুর্নীতি।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ। রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহর নামে বিস্তর তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাইকেলকে চাকরিচ্যুত করাসহ শাস্তির সুপারিশ করা হবে।

নাম তার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ। খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রর অফিসে কর্মরত। যাকে সবাই চিনে দাপটশালী দুর্নীতিবাজ ও পল্টিবাজ। বিগত আওয়ামী শাসনামলে তার মাস্তানী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি ছিল লাগামহীন। সবার কাছে তার পরিচয় ছিল সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ক‍্যাশিয়ার হিসেবে। আর এখন তিনি হয়ে গেছেন পুরো তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের গড ফাদার। সরকারি চাকরি করেও তিনি ২০-৩০ জনের মাস্তান বাহিনী নিয়ে প্রকাশ‍্যে তেজগাঁও কমপ্লেক্স দাপিয়ে বেড়ান।

মাস্তানবেষ্টিত এই সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলকে দেখে সবাই পল্টিবাজ হিসেবে হাসাহাসি করে। তিনি আগে ছিলেন দাপুটে আওয়ামী ফ‍্যাসিস্ট। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর হলেন জিয়ার সৈনিক। বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ‍্য থেকে শুরু করে একজন দলীয় নেতার ভূমিকায় তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন। অনেকেই মন্তব‍্য করেছেন পুরনো বোতলে নতুন মদ। 

জানা গেছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের লাঠিয়াল খিলগাঁও-এর সাব-রেজিস্টার মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ নারী কেলেংকারিতেও চ‍্যাম্পিয়ন। সাব-রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ পকেটে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অভিজাত গুলশান-বনানীর গোপন আড্ডায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। সেখানে উঠতি বয়সী তথাকথিত মডেল, নাটকপাড়ার অভিনেত্রী এবং র‍্যাম্প মডেলদের সাথে রাতভর মদ পান করেন এবং একাধিক নারীর সাথে ফুর্তি করতে দেখা যায় তাকে। তার এই বেপরোয়া জীবন যাপনের কারণে পরিবারও নাখোশ।

তার কাছে ঘনিষ্ঠজনরা বলেছেন আওয়ামী লীগের সময় তিনি যা করতেন এখনো তাই করেন। সাব-রেজিস্টার বদলি থেকে শুরু করে উপর মহলকে খুশি করার জন‍্য গালা পার্টি, নারী সাপ্লাই থেকে শুরু করে দামিদামি ব্র‍্যান্ডের মদও সাপ্লাই দেন সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। সব আমলেই তিনি ভালো আছেন। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করলেও এখনো তিনি বহালতবিয়তে। তিনি বলে বেড়ান দুদক তার চুলও স্পর্শ করতে পারবে না। কেননা মাইকেল নাকি প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা দেন তাদের। অথচ বিগত দিনে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে মাইকেল প্রকাশ‍্যে অপকর্ম করতেন তা সবার জানা। তিনি বিগত সময় আওয়ামী সরকারের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ‍্যে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ‍্যে চ‍্যাম্পিয়ন ছিলেন।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমানে খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাবরেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাভার সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সাভারের বিলামালিয়া মৌজার বিতর্কিত জমিতে ধারাবাহিক দলিল নিবন্ধন করা হয়। একই সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জালিয়াতি, রাজস্ব ফাঁকি এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। বিষয়টি সরকারের নজরে এলে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অপরদিকে সাবরেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই বছরে সাভারের বিলামালিয়া মৌজায় প্রায় আট হাজার দলিল নিবন্ধিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসবের উল্লেখযোগ্য অংশ নিবন্ধিত হয়েছে এমন সময়, যখন ওই এলাকার নির্দিষ্ট জমি হস্তান্তরের ওপর আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় কোনো জমি হস্তান্তর বা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। বরং ধারাবাহিকভাবে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তে আদালতের আদেশ, নিবন্ধন রেকর্ড, দলিল সম্পাদনের তারিখ, জমির খতিয়ান, মৌজা মানচিত্র, রাজউকের সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র এবং নিবন্ধন আইনের বিধান পর্যালোচনা করা হবে। 

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু আদালতের আদেশ অমান্য হয়েছে কি না, সেটিই নয়; বরং পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আইন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। বিশেষভাবে দেখা হবে-আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে দলিল নিবন্ধিত হলো। জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন বা পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না; প্লট বিক্রিকে সাধারণ জমি বিক্রি হিসেবে দেখিয়ে ভ্যাট ও উৎসকর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না; দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না; নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা যোগসাজশ ছিল কি না। 

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত প্রতিবেদন। প্রয়োজনীয় নথি, সরকারি রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তে কেবল একটি বা দুটি দলিল নয়; সংশ্লিষ্ট সময়ের পুরো নিবন্ধন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে বিপুলসংখ্যক দলিল, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং সরকারি নথিও যাচাই করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে এটি শুধু একজন সাব-রেজিস্ট্রারের দায় নির্ধারণের বিষয় থাকবে না; বরং ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, তদারকির দুর্বলতা এবং জবাবদিহির সংকটও সামনে চলে আসবে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে, সেই বিষয়টিও তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে আসবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি এখন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। কারণ সেই প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে-আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজারো দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ কেবল প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার ফল, নাকি এর পেছনে সক্রিয় ছিল একটি সুসংগঠিত অনিয়ম ও দুর্নীতির নেটওয়ার্ক। 

অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি দলিল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাস্তবে প্লট আকারে বিক্রি হওয়া জমি দলিলে সাধারণ জমি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য ভ্যাট ও উৎসকর আদায় হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট দলিল পর্যালোচনায় সরকারের প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এই অভিযোগেরও পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হবে। রাজস্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো জমির প্রকৃত ব্যবহার বা প্রকৃতি গোপন করে কম মূল্যে নিবন্ধন করা হলে শুধু সরকারের রাজস্বই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; ভবিষ্যতে সেই সম্পত্তি নিয়ে আইনি জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে। 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহর দায়িত্ব পালনকালে (২১ নভেম্বর ২০২১ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩) ওই মৌজায় প্রায় আট হাজার দলিল সম্পাদিত হয়। এর বড় একটি অংশই হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের হস্তান্তর নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে। বর্তমানে খিলগাঁওয়ে কর্মরত এই কর্মকর্তা অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিতর্কিত ওই আবাসন প্রকল্পটি নিয়ে উচ্চ আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে।

রাজউকের মহাপরিকল্পনায় জলাধার ও বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত স্থানে এমন প্রকল্পের বৈধতা বাতিল করেন সুপ্রিম কোর্ট। এরপর বিলামালিয়া ও বলিয়ারপুর মৌজার নির্দিষ্ট সম্পত্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার পাশাপাশি রাজউক জনসতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিও জারি করে। তার পরও ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হাজারো দলিল নিবন্ধনের নেপথ্যে কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের সক্রিয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দালাল চক্রের প্রলোভনে এখনো জমি কেনাবেচা থামেনি। ‘ভবিষ্যতে সরকার প্লট মালিকদের মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে’ এমন চটকদার আশ্বাসে অনেকেই বিনিয়োগ করছেন। 

ভূমি নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী জমির শ্রেণি ভিত্তিক সরকারি মূল্য নির্ধারিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক বা ‘বাড়ি‘ শ্রেণির অতি মূল্যবান জমিকে দলিলে ‘সাইল’ বা নিচু জমি হিসেবে দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ নিবন্ধন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক ও স্থানীয় কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তবে মাইকেল মহিউদ্দিনের দাবি, তার সময়ে জমির শ্রেণি বদল করে কোনো নিবন্ধন হয়নি।

সবচেয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি হয়েছে ভ্যাট ও উৎস করের ক্ষেত্রে। ২০১০ সালের রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন আইন অনুযায়ী, রাস্তা বা অবকাঠামো উন্নয়ন করে জমি বিক্রি করলে বিক্রেতাকে ডেভেলপার হিসেবে গণ্য করে কর আদায় বাধ্যতামূলক। কিন্তু শত শত দলিলে রাস্তার উল্লেখ থাকলেও কর আদায়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ২০২৩ সালে সম্পাদিত বেশকিছু দলিলে প্লটকে সাধারণ জমি দেখিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তার মতে, এটি কর আইনেরও মারাত্মক লঙ্ঘন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্তের আওতায় আসা উচিত।

অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, একই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করে একটি জমিকে অসংখ্য ছোট অংশে ভাগ করে বিক্রি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই দিন একাধিক ক্রেতার নামে দলিল হয়েছে, যা পুরোপুরি বাণিজ্যিক প্লট বিক্রির প্রতিচ্ছবি। অথচ কাগজে-কলমে একে সাধারণ জমি দেখিয়ে কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। দলিলের বৈধতা নিশ্চিতে মুসাবিদাকারক (দলিল লেখক) ও শনাক্তকারীর সই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বহু দলিলে তা অনুপস্থিত। কোথাও নাম থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। নিবন্ধন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পরিচয় যাচাই ছাড়া এসব ভুয়া দলিলের কারণে ভবিষ্যতে মারাত্মক মালিকানা বিরোধ ও আইনি জটিলতা তৈরি হবে। 

মাইকেলের অপসারণ দাবি রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে 
এর আগে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের পূর্ব সাব-রেজিস্ট্রার থাকাকালীন দুর্নীতি, দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নকল পেতে ভোগান্তিসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে দলিল লেখক ও ভেন্ডার সমিতি। সমিতির আহ্বায়কের পক্ষ থেকে দলিল লেখকরা কলম বিরতি কর্মসূচিও পালন করেন। এছাড়াও মুন্সিগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকায় মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী জনগণ ও দলিল লেখকরা। সংবাদ সম্মেলনে বেআইনীভাবে বরখাস্তকৃত দলিল লেখক ও ভুক্তভোগী জনসাধারণ তাদের অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

তারা জানান, দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী এই সাব রেজিষ্ট্রার মুন্সিগঞ্জে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই দলিল লেখক ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছেন। তার অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলিল লেখকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের প্রতিবাদে ২০১৮ সালের প্রথম সপ্তাহে দলিল লেখক সমিতি ৭ দিনের কর্মবিরতি পালন করে। এই ৭ দিন মুন্সিগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়নি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সেই সময় প্রতিনিয়ত তার কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকে।

এরপর তিনি চাপে পড়ে তার অন্যায্য দাবি-দাওয়া থেকে সরে এসে আর ভুল হবেনা স্বীকারোক্তি দিয়ে দলিল লেখকদের আন্দোলন থামান। এরপর থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দলিল লেখকদের হয়রানি শুরু করেন। তার অনিয়ম দুর্নীতি এখনও চলমান। আন্দোলনের ৭ম দিনে দলিল লেখকদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের কথোপকথনের একটি অডিও টেপ এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে দলিল প্রতি ঘুষ নির্ধারণের একটি বৈঠকের অডিও টেপ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। সাব-রেজিষ্ট্রারের অনিয়ম দুর্নীতির শিকার দলিল লেখক ও সাধারণ জনগণ সাংবাদিকদের মাধ্যমে তার বিচার এবং অপসারণ দাবি করেন। 

একই অভিযোগ নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন। সাব-রেজিস্ট্রার দলিল লেখক ও ভেন্ডার সমিতির আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান রিপন বলেন, পূর্ব সাব-রেজিস্ট্রার মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দুর্নীতি, স্থানীয় দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া অহেতুক ছুটি নিয়ে অনুপস্থিত থাকেন তিনি। এতে নকল পেতে ভোগান্তিসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আমাদের জিম্মি করে ফেলেছেন। অবিলম্বে তার প্রত্যাহার জরুরী। তাকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, নতুন ভূমি আইন বাস্তবায়নে দলিল লেখকদের বা জমির মালিকদের আপত্তি থেকে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। কিছুদিন গেলেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

এসএফ

Advertisement
এদিনের সব
Daily Adin Logo

‘প্রতিবাদ’ জানাতে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে এদিন অফিসে

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

‘প্রতিবাদ’ জানাতে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে এদিন অফিসে

‘মাফিয়া মাইকেলের সম্পদ বেশুমার’শীর্ষক প্রধান শিরোনামে গত ৯ আগস্ট দৈনিক এদিনের প্রথম পাতায়  প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিযুক্ত বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআরএসএ) মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। লিখিত প্রতিবাদে তিনি নিজের সম্পর্কে স্পষ্টীকরণ করে বলেন, প্রতিবেদনটিতে আমাকে জড়িয়ে বদলি বাণিজ্য, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সাবেক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

একজন সরকারি কর্মকর্তা ও একটি পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে আমার ব্যক্তিগত, পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য : বহুল আলোচিত এই কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দৈনিক এদিনে সংবাদ প্রকাশের পর ওইদিন তিনি যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয়ধারী কতিপয় ব্যক্তিকে নিয়ে দৈনিকে এদিন অফিসে এসে হুমকি-ধমকি দেন। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় অন্তত ১২ জনের একটি দল নিয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ পত্রিকাটির বনানী অফিসে হাজির হন।

সংবাদটি ছাপানোর কারণ জানতে চান সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও নির্বাহী সম্পাদকের কাছে। এ সময় তিনি এবং তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী কায়দায় সংশ্লিষ্টদের হুমকি-ধমকি দেন। যার রেকর্ড এদিন কার্যালয়ের সিসি টিভি ক্যামেরা এবং নিজস্ব ফটোসাংবাদিকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর পরও এদিনের অনমনীয় অবস্থানের কারণে পরদিন মাইকেল একা এসে এদিনের সাংবাদিকদের কাছে কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

পরদিন দৈনিক এদিনে একটি প্রতিবাদ ছাপা হওয়ার পরই ভোল পাল্টান মাইকেল। এবার তিনি এদিনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ আনেন। যে কারণে মাইকেলের বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয় দৈনিক এদিন।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আমি ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) থেকে সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছি। এটি সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য। প্রকৃত সত্য হলো, আমি ২৮তম বিসিএস-এর নন-ক্যাডার প্রার্থী হিসেবে সরকারি বিধিমোতাবেক সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হই। 

প্রতিবেদকের বক্তব্য : দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা অভিযোগে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রতিবেদনে আমাকে ‘মাফিয়া মাইকেল’আখ্যা দিয়ে বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল টাকা লেনদেন ও সিন্ডিকেট পরিচালনার যে দাবি করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন সম্পূর্ণভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নীতিমালার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আমার প্রশাসনিক অবস্থান ও দায়িত্বের বাস্তবতার সঙ্গেও এ ধরনের অভিযোগের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

প্রতিবেদকের বক্তব্য : আইন মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে অভিযোগ ও নথিতে তার এসব অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ডেস্কে তার সহকর্মীদের মুখে মুখে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

মাইকেল আরো বলেন, প্রতিবেদনে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, জমি, ইটভাটা বা মাছের ঘেরের যে দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। বিশেষ করে আমার নামে ২৯টি ফ্ল্যাট থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা কথিত সম্পদকেও আমার সম্পদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। তার সঙ্গে আমার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এবং আমার অবস্থান থেকে প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগই নেই। 

প্রতিবেদকের বক্তব্য : মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর নামে-বেনামে যত সম্পদ রয়েছে, সে বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে তার এসব সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। শিগগিরই তার সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন সূত্র। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে কমিশন। আর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ছিলেন তাঁর শ্বশুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সুবাদে আইনমন্ত্রী তার চাচাশ্বশুর এই পরিচয়ে আওয়ামী লীগের সময় সকল বদলি-নিয়োগ বাণিজ্য করতেন। তার দাপটে অন্য কর্মকর্তারা কোণঠাসা থাকতেন। 

মাইকেল বলেন, প্রতিবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা হওয়া অনভিপ্রেত বা যাচাই-বাছাইহীন অভিযোগকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তা প্রমাণিত সত্য। তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত পারিবারিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য : বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু অভিযোগ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। আর তিনি নিজেই প্রতিবাদলিপিতে তাঁর অবৈধ সম্পদ অর্জন, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যসহ সকল অপরাধের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। আলোচ্য প্রতিবেদনটিতে তাঁর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ পাওয়া গেছে, সে সংক্রান্ত সকল তথ্য-প্রমাণাদি দৈনিক এদিনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এসএফ

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল :

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.

(cache)‘প্রতিবাদ’ জানাতে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে এদিন অফিসে | The Daily Adin