সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬|৯ ভাদ্র, ১৪৩৩|১০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮

বরিশাল

আয়রন ব্রিজ খুলে নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, দুর্ভোগে ৪ গ্রামের মানুষ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৪
Shares
আয়রন ব্রিজ খুলে নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, দুর্ভোগে ৪ গ্রামের মানুষ

আয়রন ব্রিজ খুলে নেওয়ায় দুর্ভোগে ৪ গ্রামের মানুষ। ছবি: টাইমস টুডে

ঝালকাঠির রাজাপুরে দাফতরিক কোনো অনুমতি ছাড়াই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি আয়রন ব্রিজের লোহার মালামাল খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পথচারীদের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ব্রিজটি খুলে ফেলায় প্রায় চার গ্রামের কয়েকশত মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এদবর খালের ওপর থাকা জনগুরুত্বপূর্ণ পুরোনো আয়রন ব্রিজের বীমসহ বিভিন্ন মালামাল তুলে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন সাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর থাকা ওই সেতুটি ব্যবহার করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে খাল পারাপার হতেন। 

কিন্তু মানুষের চলাচলের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়া গোপনে ব্রিজের বীম ও অন্যান্য মালামাল তুলে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে বাধা দেন। পরে এলজিইডি অফিস থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের মালামালের তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরি করেন। এরপর উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় গ্রাম পুলিশ হেমায়েতের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি পুরোনো হওয়ায় এর কিছু অংশের স্লাব ভেঙে গিয়েছিল। ফলে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সুপারি গাছ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন। তারপরও সেতুটি ছিল ওই এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম ও কার্যত একমাত্র মাধ্যম। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে সেতুর বীম ও লোহার মালামাল খুলে নেওয়ায় বর্তমানে চার গ্রামের কয়েকশত মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন আকন বলেন, সেতুর মালামাল তুলেছি, পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য। সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুল হায়দার নিপু ও ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের অনুমতি নিয়ে খাল থেকে আয়রন ব্রিজের বীম ও মালামাল তুলেছি।

 মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে তিনি ব্রিজের বীম ও মালামাল নেওয়ার কে- এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন আকন বলেন, আমি এলাকায় সামাজিক কাজ করি, তাই।

এ বিষয়ে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

তবে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু বলেন, আমি কাউকে ওই ব্রিজের বীমসহ মালামাল তুলে নেওয়ার অনুমতি দেইনি। ব্রিজের মালামাল অন্যত্র নিতে হলে পরিষদে রেজুলেশন করতে হবে। মানুষের চলাচলের জন্য নতুন ব্রিজ কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা করে তারপর মালামাল নিতে হবে। তাও ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি করবে। এখানে মামুন আকনের কোনো অধিকার নেই মালামাল খুলে নেওয়ার।

রাজাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন দেবনাথ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এসব কাজ দল সমর্থন করে না। এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস এম জিয়াউল হক জানান, মালামাল ওঠানোর আগে আমাদের অনুমতি নেয়নি। আমরা শুনে লোক পাঠিয়ে সিজার লিস্ট করে দিয়েছি। পরে মাল চৌকিদার ইউনিয়ন পরিষদে এনে রেখেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। জেনে দেখি। ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সেতুটি পুনঃস্থাপন অথবা বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসাথে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনা অপসারণ বা এর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদন নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

খুলনা

ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ইউপি সদস্য

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৪৮
Shares
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ইউপি সদস্য

ধর্ষণ মামলার রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ইউপি সদস্য। ছবি: টাইমস টুডে

মেহেরপুরে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের মামলায় ইউপি সদস্য কলিমুদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদলতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কালু। পরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত কলিমুদ্দিন কালু সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল মন্ডলের ছেলে ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।  

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে পিরোজপুর গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারী রাতের খাবার শেষে ঘরে মশারি টাঙ্গানোর সময় ইউপি সদস্য কলিমুদ্দিন কালু ঘরে প্রবেশ করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় কাউকে ঘটনা না জানানোর জন্য হুমকি দেন কলিমুদ্দিন কালু। ঘটনার তিন দিন পর ভুক্তভোগীর মা পারভীনা খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামি কলিমুদ্দিন কালুকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন।

রায়ে জরিমানার ৫ লাখ টাকা ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যৎ সম্পদ থেকে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্য আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আইনানুযায়ী বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহীম শাহীন মামলা পরিচালনা করেন।

রায় ঘোষণার পর হাতকড়া পরিয়ে কালুকে আদালত থেকে বের করে নেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আদালত চত্বরে বেঞ্চে শুইয়ে মাথায় পানি দেওয়া হলেও জ্ঞান না ফেরায় পুলিশ সদস্যরা তাকে পিকআপে করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

(cache)আয়রন ব্রিজ খুলে নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, দুর্ভোগে ৪ গ্রামের মানুষ | Times Today BD