ছাত্রদল নেতার কফিশপে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতার মালিকানাধীন কফিশপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়া (২৮) মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তাকে মারধর ও অচেতন করে নগদ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।
এতে বলা হয়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রামের নেতৃত্বে বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ছোট পাইকুরা গ্রামের ‘বাগান বিলাস কফি হাউসে’ হামলা চালানো হয়। এটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নোমান আহমেদ। তার ভাগনে শাকিল মিয়া প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে পাশের গ্রামের অন্তর মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে কফিশপে গেলে সংগ্রামের ছেলে নাঈম মিয়া অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে অন্তর মিয়ার সঙ্গে নাঈমের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। কফিশপ পরিচালক শাকিল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
কিছুক্ষণ পর নাঈম তার বাবা মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম, চাচা মাসুদ, মুখলেসসহ আরও ২০-২৫ জনকে নিয়ে কফিশপে যান। তারা অন্তর মিয়াকে না পেয়ে শাকিল মিয়ার ওপর হামলা চালান। তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারীরা কফিশপের লাইট, চেয়ার, দোলনাসহ বিভিন্ন আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে ক্যাশ কাউন্টারে রাখা ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ওই দিনের বিক্রির ১৪ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়রা শাকিল মিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অভিযোগে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম (৫২) ছাড়াও তার ভাই মামুন মিয়া (৩৮), মোবারক (৪৫), মুখলেস (৩৫), মাসুদ মিয়া, নাঈম মিয়া (২২) ও সোহেল মিয়া (৪৬) এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের মালিক ও উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নোমান আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার প্রতিষ্ঠানে আগত এক কাস্টমারের স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সংগ্রাম ভাইয়ের ছেলে নাঈম পরে দলবল নিয়ে এসে ম্যানেজারকে মারধর করে, প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমি আইনের আশ্রয় চেয়েছি।'
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম সংগ্রামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে তার ছোট ভাই অভিযুক্ত মোহনগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রতিষ্ঠানটি আগে ভালোভাবেই চলত। বর্তমান মালিক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিবেশ বদলে গেছে। ঘটনার দিন নাঈমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়। পরে নাঈম ফোন করে বিষয়টি জানালে আমরা কফিশপে যাই। সেখানে এক কর্মীর বাজে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছুটা হাতাহাতি হয়। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে অন্য একটি ঘটনা।'
যোগাযোগ করা হলে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন উভয় পক্ষের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, 'ঘটনাটি আমরা শুনেছি। উভয়পক্ষই আইনিভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে বলে জেনেছি। কারও সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়নি। আমাদের কাছে এলে আমরা সমাধানের চেষ্টা করব।'
ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, 'বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
যা আছে রাষ্ট্রপতির শপথে, গোপনীয়তার শপথ নেই যে কারণে
দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারীরা নিজ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে সংবিধান অনুযায়ী শপথ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সবার উপরে থাকবেন এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
এ আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শপথবাক্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। তবে সেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের গোপনীয়তার শপথ থাকলেও রাষ্ট্রপতির জন্য গোপনীয়তার শপথ নেই।
রাষ্ট্রপতি শপথে বলবেন, আমি…………………., সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা) করিতেছি যে, আমি আইন-অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব; আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।
এই শব্দগুলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন হয়ে যায়।
কিন্তু গোপনীয়তার শপথ কেন নেই? জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদটি একটি আলংকারিক দায়িত্ব। এ কারণে এখানে গোপনীয়তার শপথ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ কারণেই রাষ্ট্রপতির গোপনীয়তার শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়নি।
তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের কোনো দায়যুক্ত কার্যনির্বাহের দায়িত্বে থাকেন না। রাষ্ট্র পরিচালনায় সাংবিধানিকভাবে যিনি বা যারা কোনো দায়িত্ব পালন বা পালন না করার কারণে দায়ী হতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়।
রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১১টার পর বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠানের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রস্তুতি ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে মহড়ার রীতি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে ৩টি চেয়ার থাকে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যরিস্টার কায়সার কামাল মঞ্চে আসন গ্রহণ করবেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠান শুরুর দুয়েক মিনিট আগে বঙ্গভনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করার সময় উচ্চস্বরে সবাইকে রাষ্ট্রপতির আগমন বার্তা দেওয়া হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে অর্কেস্ট্রার ঝংকারে বেজে উঠবে জাতীয় সংগীতের সুর। সেসময় প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সম্মান জানাবেন।
এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি চাইবেন, অনুমতি পাওয়ার পর পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াত হবে।
এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বর্তমান রাষ্ট্রপতি, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান স্পিকারকে মঞ্চে আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানাবেন। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকারকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর আহ্বান জানাবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
শপথ শেষ হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি হাতে থাকা ফোল্ডারের দুই পাশে দুটি কাগজে সই করবেন। এর মধ্যে একটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংরক্ষণ করবে অন্যটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য দেওয়া হবে।
এর মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শেষ হবে। এরপর সবাইকে আপ্যায়ন পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তারেক রহমানের ‘সম্ভাব্য’ সফর নিয়ে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করল ভারত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সম্ভাব্য’ সফর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেওয়া একটি বিবৃতি প্রত্যাহার করেছে দেশটি।
আজ শুক্রবার বিকেলে ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিবালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর মহড়ার কারণে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে 'চেঞ্জ অব গার্ড' অনুষ্ঠান হবে না।
দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) বিবৃতিটি প্রকাশ করলেও বিকেলের আগেই তা প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বা দিল্লির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনার কথা এর আগে জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। তারা বলেছিলেন, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে এ সফর হতে পারে।
গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে সফর নিয়ে আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে।