ফ্লাইওভারে উঠতে বিপাকে ‘পিংক বাস’, সহযোগিতায় পুরুষ চালক

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ফ্লাইওভারে উঠতে বিপাকে ‘পিংক বাস’, সহযোগিতায় পুরুষ চালক

রাজধানীতে সম্প্রতি চালু হওয়া নারীদের জন্য বিশেষ 'পিংক বাস' সেবার একটি দোতলা বাস নিয়ে ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক নারী চালক। পরবর্তীতে একজন পুরুষ চালকের সহায়তায় বাসটি নিরাপদে ফ্লাইওভারে তোলা সম্ভব হয়। বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শাহজাহানপুর এলাকায় ফ্লাইওভারের ঢাল বেয়ে দোতলা বাসটি ওপরে তুলতে ব্যর্থ হন চালক ফাহিমা সানজান। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বাসটি থামিয়ে দেন। পরে সড়কে দীর্ঘ যানজট ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এগিয়ে আসেন এক পুরুষ চালক। তিনি বাসটি চালিয়ে নিরাপদে ফ্লাইওভারে তোলেন। এ সময় বাসে থাকা নারী যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখা গেলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) নারীদের পরিচালিত এই ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করে। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ বেশ প্রশংসিত হলেও উদ্বোধনের পরদিনই যাত্রীসংকটে পড়েছে বাসগুলো।

রাজধানীর অনেক নারীই এখনো পিংক বাসের রুট সম্পর্কে অবগত নন। সরেজমিনে দেখা যায়, মতিঝিল থেকে মিরপুর-১০ অভিমুখী এবং আবদুল্লাহপুর থেকে মতিঝিলগামী দোতলা বাসগুলোতে মাত্র ৩ থেকে ৬ জন করে যাত্রী যাতায়াত করছেন। প্রচারণার অভাবে যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় নির্ধারিত অনেক পয়েন্টেই থামছে না বাসগুলো।

জেএইচআর

পরবর্তী খবর

ডিএমপির যুগান্তকারী সাফল্য, এক মাসেই ৬৩টি চোরাই গাড়ি ও ২,০০৭টি চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত:আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ডিএমপির যুগান্তকারী সাফল্য, এক মাসেই ৬৩টি চোরাই গাড়ি ও ২,০০৭টি চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের হারানো সম্পদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং থানা পুলিশের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ৬৩টি চোরাই যানবাহন এবং ২ হাজার ৭টি হারানো বা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া যানবাহন ও মোবাইল ফোনের মধ্যে যেগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

জুলাইয়ে চুরির খবর ৫০, উদ্ধার ৬৩ গাড়ি

ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাজধানীতে ৫০টি যানবাহন চুরির ঘটনা বা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া মোট ৬৩টি যানবাহন উদ্ধার করেছে। অর্থাৎ শুধু জুলাইয়ে চুরি হওয়া যানবাহনই নয়, এর আগের সময়ে চুরি যাওয়া কিছু যানবাহনও অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত টহল, সিগন্যাল চেকিং, তল্লাশি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ মোট ৪৯টি যানবাহন উদ্ধার করেছে।

অন্যদিকে, গোয়েন্দা শাখা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তির সহায়তায় এবং চোর চক্রের সদস্যদের গতিবিধি নজরদারি করে আরও ১৪টি চোরাই যানবাহন উদ্ধার করেছে।

উদ্ধার হওয়া যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের হালকা যানবাহন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এসব যানবাহন পর্যায়ক্রমে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চোরাই মোবাইল উদ্ধারে প্রযুক্তির ব্যবহার

জুলাই মাসে ডিএমপির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো হারানো ও চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার। ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে মোট ২ হাজার ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হারানো ও চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত ও অনুসরণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এসব ফোন উদ্ধার করা হয়।

চুরি বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও তদন্ত ইউনিটগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় চোরাই ফোনের গতিবিধি শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধারের পর প্রকৃত মালিকদের পরিচয় যাচাই করা হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে ফোনগুলো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে স্বস্তি

দীর্ঘদিন পর চুরি যাওয়া গাড়ি কিংবা হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ডিএমপির এমন উদ্যোগে নাগরিকদের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ডিএমপি বলছে, একটি মোবাইল ফোনের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ নথি, যোগাযোগের তথ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংরক্ষিত থাকে। ফলে ফোন হারানো বা চুরি যাওয়ার কারণে একজন নাগরিককে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতেও পড়তে হয়। এ কারণে মোবাইল উদ্ধারে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চোর চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার

যানবাহন চুরি ও মোবাইল ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। বিশেষ করে আন্তঃজেলা যানবাহন চোর চক্র এবং মোবাইল ছিনতাই ও চুরি চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর পাশাপাশি থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। চোরাই যানবাহন ও মোবাইল ফোনের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করে উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নাগরিকদের প্রতি পুলিশের পরামর্শ

কোনো ব্যক্তির মোবাইল ফোন, যানবাহন বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী হারিয়ে গেলে কিংবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।

পুলিশের কাছে দ্রুত অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রযুক্তিগত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে হারানো বা চুরি যাওয়া সম্পদের পরিচয় শনাক্ত করতেও সহায়তা করে এসব তথ্য।

ডিএমপি জানিয়েছে, নগরবাসীর সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এমএ
 

পরবর্তী খবর

ডিএমপি কমিশনারের দিকনির্দেশনায় রাজধানীতে ৪৮৮ জন গ্রেফতার, ৫৫টি মামলা দায়ের

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত:আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
ডিএমপি কমিশনারের দিকনির্দেশনায় রাজধানীতে ৪৮৮ জন গ্রেফতার, ৫৫টি মামলা দায়ের
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চলমান অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৫৫টি মামলা করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা ও সরাসরি তদারকিতে মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ক্রাইম বিভাগ, গোয়েন্দা শাখা এবং কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সমন্বয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে শুধু আসামিদের গ্রেপ্তারই নয়, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে একজন অপহৃত ব্যক্তিকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিভাগভিত্তিক অভিযানে গ্রেপ্তার

ডিএমপির আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগে। এ বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মতিঝিল বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৯ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৯ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৩ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া গোয়েন্দা শাখা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

অভিযানকালে বিভিন্ন অপরাধীর কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি সুইচগিয়ার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তলও জব্দ করা হয়।

মাদক উদ্ধার

পুলিশের অভিযানে ১১ কেজি গাঁজা এবং ১৬ হাজার ২২২টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম

অভিযানে অপরাধীদের কাছ থেকে দুটি ওয়াকিটকি, দুটি হ্যান্ডকাফ, একটি বৈদ্যুতিক ট্র্যাকার এবং মাদক পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মডেলের ১৯টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ২৮টি সচল সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে নগদ এক হাজার ৪০০ টাকাও জব্দ করা হয়।

অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার

সার্বিক অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ একজন অপহৃত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুরে ৩৭ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় পৃথক ও সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এবং আদালতের ছয়টি পরোয়ানাভুক্ত একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আইনগত ব্যবস্থা

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অপহরণসহ বিভিন্ন ফৌজদারি আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযানে জব্দ করা অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামত যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের ধরন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এমএ
 

পরবর্তী খবর

ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়ার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত:আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়ার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

অনলাইন মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট প্রস্তুত, প্রচার ও বিক্রির অপরাধে গ্রেপ্তার ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদ (২৫) সম্পর্কে বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটির সঙ্গে খাজা সাকলাইন ফারুক (২৩), মাহতির মো. সিয়াম, শাকির মাহমুদ ও সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদ যুক্ত ছিলেন। পুরো প্রক্রিয়াটিতে সুমাইয়াকে সরাসরি সহায়তা করতেন তাঁর বাবা এবং সাবেক প্রেমিক।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুমাইয়া সাঈদ ও তাঁর অন্যতম সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া সাঈদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার রুদ্র গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবু সাঈদ এবং মায়ের নাম লাকিয়া সরকার। তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার 'এফ' ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি বিশেষ টিম অনলাইনে সাইবার অপরাধ পর্যবেক্ষণ করার সময় ইনস্টাগ্রামে এক নারীর ছবি ব্যবহার করে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রচার দেখতে পায়। তদন্তে দেখা যায়, উক্ত টেলিগ্রাম গ্রুপ থেকে নির্দিষ্ট ফি-র বিনিময়ে আপত্তিকর ভিডিও সরবরাহ করা হতো। বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্যাকেজের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদ নম্বরের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন নিশ্চিত করা হতো।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ওই মোবাইল নম্বরের অবস্থান বসুন্ধরা এলাকায় শনাক্ত করার পর ডিবির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়া সাঈদকে আটক করে। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া স্বীকার করেন যে, তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও বিক্রি করতেন। অভিযানকালে তাঁর থেকে একটি দামি আইফোনসহ অপরাধ সংশ্লিষ্ট নানা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেএইচআর

পরবর্তী খবর

বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত:আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও তা বিক্রির অভিযোগে রাজধানী ঢাকা থেকে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামের এক জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় তাঁর মূল সহযোগী ও প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককেও আটক করা হয়।

মেয়ের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও সম্মতি প্রদান এবং সেখান থেকে অর্জিত অর্থ গ্রহণ করার অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও এই মামলায় আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডিতে আপত্তিকর কনটেন্ট ও তা বিক্রির প্রচারণা ডিবির নজরে আসে। বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ সাপেক্ষে এসব অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বিক্রি করা হতো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’-এর প্রস্তাবও দেওয়া হতো।

পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তাঁদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে গত ১১ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি। সেখান থেকে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর নিকট থেকে দুটি দামি স্মার্টফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাড্ডা এলাকার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ সংলগ্ন স্থান থেকে তাঁর প্রধান সহযোগী ও প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একাধিক সহযোগীর সঙ্গে মিলে সুমাইয়া এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর বাবা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও মেয়েকে নিরস্ত না করে বরং ওই আয়ের টাকা গ্রহণ করতেন।

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার সম্পূর্ণ রহস্য উন্মোচন এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

জেএইচআর