প্রিন্ট: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি রিয়াজ সিকদারের বিরুদ্ধে। ওই ইউনিয়নের ইসলামপুর ও দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে।
প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানা যায়, বর্তমান সময়ে এসেও ওই দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার বিদ্যুতের আলো দেখতে পাননি।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের মাধ্যমে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কাজ শুরু করে। সেই সুযোগে অভিন্ন কৌশলে খুঁটি বসানোর জন্য পরিবহনের নাম করে চাঁদাবাজির অভিযোগের তীর এখন সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদারের দিকে।
গুগল নিউজে ভোরের কাগজের খবর পড়তে ফলো করুন
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক নিলেন নোয়াখালীর ‘আওয়ামী লীগ নেতা’
দুটি গ্রামের প্রায় শতাধিক গ্রাহককে বিদ্যুৎ লাইন দেওয়ার কথা বলে বাধ্যতামূলক দুই হাজার টাকা করে নিয়েছেন। মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা বলে আরও দুই হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য তহমিনা বেগম, সাহানাজ বেগম, রিয়াজ হাওলাদার, জাহিদ ফরাজীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, নাকফুল বন্ধক রেখে ও বাসার বাজার না করে তারা টাকা দিয়েছে। এমনকি নাসির উদ্দিনের বাড়ির পাশে বিদ্যুৎ খাম্বা বসাতে গিয়ে ধার্যকৃত দুই হাজার টাকা দিতে না পারায় তাৎক্ষণিক সেখান থেকে খাম্বা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতে ১০০০ টাকা রিয়াজ সিকদারকে দিলে পরদিন তার বাড়ির সামনে খাম্বা বসিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা চেপে যান এবং শ্রমিকদের খাওয়া বাবদ কিছু টাকা নেওয়ার কথা শিকার করেন। অন্য সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেন।
জানতে চাইলে বিদ্যুতের সাব-ঠিকাদার সুমন জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে রিয়াজ সিকদারের মাধ্যমে যে টাকা আদায় করা হয়েছে তা ওই গ্রাহকদের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোরভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান বলেন, সরকারি ভাবে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এখানে কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
ডিসি অফিসে ‘ছাত্রলীগ নেতার’ চাকরি, বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. শফিকুল ইসলামের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নাচনমহল ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঝালকাঠি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিটন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সাজু, রুবল ফকির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খানসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মো. শফিকুল ইসলাম নাচনমহল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তার বাবা মো. আঃ গনি হাওলাদার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। ফলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক নিলেন নোয়াখালীর ‘আওয়ামী লীগ নেতা’
বক্তারা বলেন, মো. শফিকুল ইসলাম ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পদে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন ব্যক্তির সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হলে তা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার সঙ্গে বেইমানি হবে।
তারা আরও বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির যেন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মো. শফিকুল ইসলামের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান তারা।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মৎস্য পদক’ পেল এফডিএ
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ভোলার উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদান রাখায় বেসরকারি সংস্থা হিসেবে ‘মৎস্য পদক-২০২৬’ অর্জন করেছে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)।
রোববার (১৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান। এফডিএ-এর পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সংস্থাটির সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ।
আরো পড়ুন: ৯ তলায় রূপান্তর হবে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, ভোলা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই মৎস্য চাষের বিস্তার, খামারিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘ দিন ধরে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে এফডিএ। মৎস্য খাতের এই সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় সংস্থাটির দায়িত্বশীল ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদক প্রদান করা হয়েছে।
মৎস্য খাতে এফডিএ-এর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে সংস্থাটির মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইদুর রহমান জানান, দেশি মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করতে পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া খালে প্রযুক্তিভিত্তিক মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপনসহ মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে এফডিএ।
পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় এফডিএ-এর নির্বাহী পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন জানান, এই স্বীকৃতি তাদের কাজের পরিধি ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
নবীজির (সা.) আদর্শে জীবন গড়লেই মিলবে শান্তি-কল্যাণ: ছারছীনার পীর ছাহেব
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন, নবীজি (সাঃ) শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেননি; তিনি মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, পরিবারে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, প্রতিবেশীর অধিকার কী, দরিদ্র ও অসহায়ের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হবে এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে তারও বাস্তব শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাই রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আদর্শকে শুধু আলোচনা ও ওয়াজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করলেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এককথায় নবীজি (সাঃ) এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ ও অনুকরণীয় পথনির্দেশ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ নানা ধরনের অশান্তি, হিংসা, বিভেদ, নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকটে নিমজ্জিত। এর অন্যতম কারণ হলো আমরা কুরআন-সুন্নাহ ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আদর্শ থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছি। মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে নবীজির (সাঃ) চরিত্র, ন্যায়নীতি, ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, আমানতদারি, সত্যবাদিতা ও মানবিকতার শিক্ষা অনুসরণ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবন ছিল সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা ও মানবকল্যাণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শত্রুকেও ক্ষমা করেছেন, অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ, অন্যায়, প্রতারণা ও অশান্তি দূর করে পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: জুমার নামাজ পড়লে কত বছরের গুনাহ মাফ হয়
তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন- নবীপ্রেমের দাবি শুধু মুখে প্রকাশ করলেই হবে না; বরং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর চরিত্র ধারণ এবং তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই প্রকৃত নবীপ্রেমের প্রকাশ ঘটাতে হবে। নবীজির (সাঃ) আদর্শকে জীবনের পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারলেই দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।
শনিবার (১৫ আগস্ট) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন ও ছারছীনা শরীফের মরহুম পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ) এর ২য় ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঈসালে সওয়াব ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির আলোচনায় একথা বলেন।
মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারীয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ যুব হিযবুল্লাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মো. মফিজ উদ্দীন, হযরত পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সরকার স্বৈরাচারী পথে: মুজিবুর রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার এভাবে চলতে থাকলে জামায়াতে ইসলামী সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে সারা দেশে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল মহানগর জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নকাজ থেকে জোরপূর্বক বিরত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী কি ভারত সফরে যাচ্ছেন?
তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত আন্দোলনে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, মেধার মূল্যায়নের বদলে নতুন প্রক্রিয়া চালু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দুর্নীতি বাড়বে এবং যোগ্য ও মেধাবীরা বঞ্চিত হবেন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সচেতন মানুষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুকনদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পার্থিব জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। তাই পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহে প্রত্যেককে সময় কাজে লাগাতে হবে। তিনি নিয়মিত কোরআন অধ্যয়ন, পরিবারকে পরিশুদ্ধ রাখা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: একযোগে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা
বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
তিনি বলেন, সমাজে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেই একটি মহল বিরোধিতা ও নির্যাতন শুরু করে। বর্তমানে সরাসরি নির্যাতনের পাশাপাশি কর্মীদের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তাদের চরিত্র নিয়ে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, নানা আইনি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জামায়াতে ইসলামী এখন দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং একটি দায়িত্বশীল ও প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন: চলতি অর্থবছরেই ৫ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মীর শাহ আলম
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। মহানগর শাখার ষাণ্মাসিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ।
সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও তারিকুল ইসলাম, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, মাওলানা হাবিবুর রহমান, আব্দুস সত্তার, শামীম কবির, মাহফুজুর রহমান আমিন, মাওলানা শফিউল্লাহ তালুকদার, মুহাম্মদ জাফর ইকবালসহ বিভিন্ন থানা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফার মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণে আহত হনুফা বেগম (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হনুফা বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল মৌ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মো. শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আলাউল হাসান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হনুফা বেগমের মেয়ের জামাই সুজন তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হনুফা বেগমের মরদেহের ময়নাতদন্ত শাহবাগ থানা পুলিশ করবে। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় করা মামলায় হত্যার ধারা সংযোজন করা হবে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট সকালে হনুফা বেগম তাঁর মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিমকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। বাড়ির পাশে তাঁরা তিনটি চিপসের প্যাকেট রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এর নিচে একটি নতুন বাজারের ব্যাগও ছিল, সেটিও চিপসের প্যাকেটগুলোর সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
বিষয়টি দেখতে যাওয়ার সময় ইতি একটি ইটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রশিতে টান দেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হনুফা, তাঁর মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিমের শরীরে আগুন লেগে যায়। পরে তিনজনই নদীতে ঝাঁপ দেন।
আরও পড়ুন: একজনের অপরাধে অন্যেজনের ফাঁসি
ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আহত তিনজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হনুফা বেগমের মৃত্যু হলো।
ঘটনার পর হনুফা বেগমের ছেলে জামাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন।
ঘটনার দিন পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বোমা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরক ও পেট্রোলের সংমিশ্রণে হাতে তৈরি বোমাটি বানানো হয়েছিল। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেটি সেখানে রেখেছিল, সে রহস্য তখনও উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
হনুফা বেগমের মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বরিশাল বাকেরগঞ্জ বোমা বিস্ফোরণ হনুফা বেগম জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট বিস্ফোরক মামলা পুলিশ তদন্ত বাংলাদেশ
সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন
মন্তব্য করুন
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণে আহত হনুফা বেগম (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হনুফা বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল মৌ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মো. শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আলাউল হাসান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হনুফা বেগমের মেয়ের জামাই সুজন তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হনুফা বেগমের মরদেহের ময়নাতদন্ত শাহবাগ থানা পুলিশ করবে। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় করা মামলায় হত্যার ধারা সংযোজন করা হবে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট সকালে হনুফা বেগম তাঁর মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিমকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। বাড়ির পাশে তাঁরা তিনটি চিপসের প্যাকেট রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এর নিচে একটি নতুন বাজারের ব্যাগও ছিল, সেটিও চিপসের প্যাকেটগুলোর সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
বিষয়টি দেখতে যাওয়ার সময় ইতি একটি ইটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রশিতে টান দেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হনুফা, তাঁর মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিমের শরীরে আগুন লেগে যায়। পরে তিনজনই নদীতে ঝাঁপ দেন।
আরও পড়ুন: একজনের অপরাধে অন্যেজনের ফাঁসি
ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আহত তিনজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হনুফা বেগমের মৃত্যু হলো।
ঘটনার পর হনুফা বেগমের ছেলে জামাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন।
ঘটনার দিন পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বোমা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরক ও পেট্রোলের সংমিশ্রণে হাতে তৈরি বোমাটি বানানো হয়েছিল। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেটি সেখানে রেখেছিল, সে রহস্য তখনও উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
হনুফা বেগমের মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বরিশাল বাকেরগঞ্জ বোমা বিস্ফোরণ হনুফা বেগম জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট বিস্ফোরক মামলা পুলিশ তদন্ত বাংলাদেশ