সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনলাইন জুয়ার আসর থেকে চারখাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। এ সময় অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চারখাই বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত অনলাইন জুয়া চক্রের সদস্যরা হলেন- চারখাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কচকটখা গ্রামের মৃত কুতুব আলীর ছেলে পাভেল আহমদ (২৭), গোলাঘাট গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে দুলাল আহমদ (৩০), পূর্বখলা গ্রামের মৃত খসরু মিয়ার ছেলে জামিল আহমদ (২৪), করগ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে সাবু আহমদ (৩২), কচকটখা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে জাবের আহমদ (২৯) এবং লাংলাকোনা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মো. জসিম আহমদ (৩১)।
র্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে চারখাই বাজারের ওই রেস্তোরাঁয় অনলাইন জুয়ার আসরে অভিযান চালানো হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ছয়টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া খেলার বিভিন্ন আলামত পাওয়ার কথাও জানিয়েছে র্যাব। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করে র্যাব-৯।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অনলাইন জুয়াড়িদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত পাভেল আহমদ চারখাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন ছাত্রদল বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক এনাম।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল কোনো ধরনের অন্যায়, অনৈতিক বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংগঠন তার দায় নেবে না। পাভেল আহমদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছয় মাস আগেই সরকারি পরিদর্শনে ধরা পড়েছিল।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিরাপদ কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন না করা, জাহাজভাঙার কাজের ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া, নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করানো, ওভারটাইমের টাকা না দেওয়া এবং শুক্রবারেও কাজ করানোর মতো অনিয়ম পেয়েছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।
এসব অনিয়ম সংশোধনে প্রতিষ্ঠানটিকে একের পর এক নোটিশ দেওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে ইয়ার্ডটির কর্ণধার ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করে অধিদপ্তর। কিন্তু অভিযোগ সংশোধনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইয়ার্ডটির কার্যক্রম চলেছে। আর মামলার মাত্র এক মাসের মাথায় পুরোনো জাহাজের বদ্ধ স্থানে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে একসঙ্গে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
ডিআইএফইর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক ও মামলার বাদী শাহেদ পারভেজ জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফেরদৌস স্টিল পরিদর্শন করেন তারা। তখন নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। জাহাজভাঙার কাজে ব্যবহৃত নিরাপত্তা সামগ্রী ও নিরাপদ কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে শ্রমিকদের যথেষ্ট সচেতন করা হতো না। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নির্ধারিত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দেয়নি। শ্রমিকদের নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো, অতিরিক্ত কাজের ওভারটাইমের অর্থ না দেওয়া এবং শুক্রবারেও কাজ করানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম সংশোধনে প্রথম ও দ্বিতীয় নোটিশের পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এরপরও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় শ্রম আদালতে মামলা করে অধিদপ্তর। মামলায় ফেরদৌস স্টিলের কর্ণধার ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ আলীকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন বলে জানান শাহেদ পারভেজ।
কিন্তু সরকারি পরিদর্শনে এসব অনিয়ম শনাক্ত এবং মামলা হওয়ার পরও ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম চলতে থাকে। দুর্ঘটনাটি ঘটে ‘এমটি রাসি’ নামের প্রায় ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আগে এলএনজি পরিবহন করত। এটি কাটার জন্য ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ৫২৯তম সভায় প্রতিষ্ঠানটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর বিস্ফোরক অধিদপ্তর ঘটনাস্থলে পরীক্ষা চালিয়ে জাহাজের কার্গো ট্যাংকের পাশে থাকা ব্যালাস্ট এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করে।
বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, জাহাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য যে অংশে পানি রাখা হয়, সেই ব্যালাস্ট এলাকায় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. সাইফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটির এলএনজি ট্যাংক কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাহাজের তলায় থাকা একটি ট্যাংকের চারপাশ কাটার প্রায় ১০ মিনিট পর সেটি পুরোপুরি খোলার জন্য শ্রমিকরা সেখানে যান। প্রথমে দুজন শ্রমিক সেখানে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে আক্রান্ত হন আরও দুজন। পরে কাটিং ফোরম্যান সেখানে গিয়ে জ্ঞান হারান।
দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত সবাই ঘটনাস্থলেই মারা যাননি। কয়েকজনকে জাহাজ থেকে বের করে আনার পরও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পলাশ দাশকে উদ্ধারের পরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় কারখানায় অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক কিংবা অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল না। সময়মতো অক্সিজেন ও চিকিৎসা দেওয়া গেলে প্রাণহানি কমতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাদের দল ঘটনাস্থলে যায়। অথচ প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকেরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হতে শুরু করেন সকাল ৯টার দিকেই।
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ও মামলার আসামি মো. ইউসুফ আলী।
তিনি গণমাধ্যমে জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে বের হওয়া পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়ার খবর পেয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ফোরম্যানসহ কয়েকজন গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়ে সেখানে যান। তারা ভেতরে ঢোকার পর আর বের হতে না পারলে তাদের উদ্ধারে অন্য শ্রমিকরা এগিয়ে যান। এভাবেই একের পর এক শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হন।
ইউসুফ আলীর দাবি, কারখানায় প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা সামগ্রী রয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেই শ্রমিকদের কাজে নামানো হয়। দুর্ঘটনার দিন শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। ডিআইএফইর নোটিশ এবং শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করার বিষয়টি তার জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল তা খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কার গাফিলতি ছিল, কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয় তদন্তে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিস্ফোরক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।
এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং জাহাজভাঙা শিল্প মালিকদের সংগঠন বিএসবিআরএর পৃথক তদন্ত কমিটির পাশাপাশি বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে রয়েছেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খান। কমিটিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দেবে।
এদিকে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে ‘স্টপ অপারেশন অর্ডার’ জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, ‘তদন্ত চলমান থাকায় মামলা হওয়ার সুযোগ কম। ইয়ার্ড বন্ধ করাকেও তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’
এদিকে ৯ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে এমন প্রাণহানি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।’
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘একটি ইয়ার্ডে একই ঘটনায় ৯ শ্রমিকের প্রাণহানি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। শ্রমিকের জীবনকে কোনোভাবেই শিল্পের উৎপাদন ও মুনাফার চেয়ে কম মূল্য দেওয়া যায় না। মালিকপক্ষের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকেও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক (ডা.) এম আবু সাঈদ বলেন, ‘একসঙ্গে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু প্রমাণ করে কোথাও গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংক বা বদ্ধ স্থানে শ্রমিক পাঠানোর আগে গ্যাস ও অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, নিয়মিত গ্যাস মনিটরিং এবং শ্রমিকদের উপযুক্ত রেসপিরেটরি সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।’
ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, ‘জাহাজভাঙা শিল্পে গত ২৫ বছরে একই ঘটনায় এত শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেনি। ঘটনাটিকে শুধু দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। গ্যাস ফ্রি সার্টিফিকেট দেওয়ার পরও কীভাবে জাহাজের ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাস পাওয়া গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।’
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, জাহাজভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনার পর বারবার তদন্ত কমিটি হলেও অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের ফল অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের দাবি, ফেরদৌস স্টিলের ঘটনায় তদন্ত দ্রুত শেষ করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। একই সঙ্গে নিহত ৯ শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং প্রতিটি জাহাজে কাজ শুরুর আগে ও কাজ চলাকালে বাধ্যতামূলক গ্যাস পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দুর্ঘটনার তিনদিন পর রোববার বিকেল পর্যন্ত সীতাকুণ্ড থানায় কোনো মামলা হয়নি।
থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মামলা করার জন্য এখনো থানায় আসেনি। পুলিশ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে এমন প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।’