প্রিন্ট: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
যে কারণে হারুনের ওপর বিরক্ত ছিলেন হাসিনা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ফাইল ছবি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের ওপর বিরক্ত হয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অডিও কথোপকথনে এই তথ্য উঠে এসেছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-কে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন।
ওই কথোপকথনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিজের বদলি ঠেকানোর অনুরোধ করে হারুন বলেছিলেন, ‘স্যার, এটা (তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা) যদি অহন স্যার না করেন, তাহলে কিন্তু অর্ডার এহন করে দিবে স্যার। আমি নাই স্যার। ডিবিতে নাই স্যার। অর্ডার করে দিবে।’ অবশ্য ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হারুনকে ডিবি থেকে বদলি করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) দায়িত্ব দেওয়া হয়।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। এ সময় তিনি গণ-অভ্যুত্থানে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে অন্যদের ফোনে কথা বলার কথোপকথন তুলে ধরেন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মধ্যে ফোনে একটি কথোপকথন হয়। সেখানে কাদের বলেন, ‘হারুনকে কি সরায়ে দিচ্ছেন?’ জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) তো খুব অ্যাডামেন্ট (অনমনীয়)। আমরা সরাই নাই। উনি বলছিলেন অন্য খানে দিতে। আমি ডিএমপিতেই রেখে দিছি। মানে ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি।’ একপর্যায়ে আসাদুজ্জামান বলেন, আপনি একটু বলেন, বলতে বলতে আমি টায়ার্ড হয়ে গেছি। আপনি একটু না বললে আমি আর সাহস পাচ্ছি না। পরে কাদের বলেন, একটু ওয়েট করেন। একটু পর আসাদুজ্জামান বলেন, সব ‘ডিমোরালাইজড’ হয়ে যাবে। তখন কাদের বলেন, এটা আপনি নেত্রীকে বলে দেবেন। এ সময় আইজিপির (তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন কাদের।
সম্পর্কিত খবর
তিন সন্দেহে বরিশালে মাঠে পুলিশ, হেমায়েতপুরে জেএমবির আস্তানায় অভিযান
বরিশাল ব্যুরো ও যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর ও সাভার
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০ এএম
বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে বুধবার (১২ আগস্ট) বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটেছে। মহানগর দায়রা জজ আদালতের ১০ তলা ভবনের সামনে প্রধান ফটক থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিস্ফোরণটি ঘটে।
এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার সাভারে সাদাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠ থেকে ‘প্রেশারকুকার বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার বিকাল ৬টা ১০ মিনিটে বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। নিরাপদ দূরত্বে থেকে শত শত উৎসুক মানুষ ঘটনাটি দেখেন।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে বোমাটি উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সাভারে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি পাইপ বোমা ও বিস্ফোরকসহ আরিফ নামে এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করে সিটিটিসি। এর আগে ৩১ জুলাই আশুলিয়ার একটি মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া প্রেশারকুকার বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরপর বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে বরিশালে বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গি বা উগ্রবাদী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা দেখছে না পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তিনটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। প্রধান কারণ, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো। দ্বিতীয়ত, শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর মাস আগস্টকে কেন্দ্র করে এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরের পর ডাচ রাষ্ট্রদূতের বরিশালে আসার কর্মসূচিকে ঘিরেও বিস্ফোরণটি ঘটানো হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। কয়েকদিন আগে বাকেরগঞ্জে ঘটে যাওয়া আরেকটি বিস্ফোরণের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বরিশালে বিস্ফোরণ: সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের ইনচার্জ খলিলুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়া, বারুদের উপকরণ ও প্লাস্টিকসহ আলামত সংগ্রহ করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্ফোরণের ধরন ও ব্যবহৃত বিস্ফোরক সম্পর্কে জানা যাবে।’
ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ পান্না ও আইনজীবী তসলিমউদ্দিন আহম্মেদ নাশকতার জন্য পলাতক ফ্যাসিস্টের সহযোগীদের দায়ী করেন।
তবে মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আলামত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জঙ্গি বা উগ্রবাদীদের সংশ্লিষ্টতার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে জর্দার কৌটার মুখও পাওয়া গেছে। তার ধারণা, এটি বড়জোর পটকা হতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ১০ তলা ভবনের ওপর বা আদালত প্রাঙ্গণের সীমানার বাইরে থেকে বস্তুটি ছোড়া হয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএমপি কমিশনার বলেন, আতঙ্ক ছড়ানোই বিস্ফোরণের একটি উদ্দেশ্য বলে মনে হচ্ছে। আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কেউ উপস্থিতির জানান দিতেও এটি করে থাকতে পারে। এছাড়া অন্য কারণও তদন্তে রাখা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ৯ ও ১০ জুলাই মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বরিশাল ও ঝালকাঠি সফর করেন। বুধবার বরিশালের একটি হোটেলে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেলের সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যও বিস্ফোরণটি ঘটানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেমিনারটি পরে বাতিল হয়।
এর আগে ৩ আগস্ট বাকেরগঞ্জের দুধলমৌ গ্রামে রহস্যজনক বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ তিনজন আহত হন। ওই ঘটনার সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণের বিস্ফোরণের যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে চাননি বিএমপি কমিশনার।
সাভারের সাদাপুরে আতঙ্ক: সাভার থানার ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন বলেন, লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে বুধবার রাত দেড়টার দিকে স্থানীয়রা একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর কাপড়চোপড়, কুরআন শরিফ ও একটি প্রেশারকুকার দেখতে পান। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি রাতে ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে যায়। সকালে পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সিটিটিসি ইউনিটকে বিষয়টি জানানো হয়। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেএমবির আস্তানায় অভিযান: এর আগে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর একটি বাড়িতে রাতভর অভিযান চালিয়ে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আরিফকে আটক করে সিটিটিসি। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকার আরিফ ১ আগস্ট ড্রাইভিং ও শিক্ষকতার ভুয়া পরিচয় দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। আরিফের কাছ থেকে জেএমবির বিপুল পরিমাণ লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, আরিফের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ছয়টি শক্তিশালী পাইপ বোমা ও বিভিন্ন কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৯টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে মোট ১৫টি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
শ্যামপুরে প্রায় ৪ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় আব্দুল জলিলের বাড়িতে অভিযান চালায় সিটিটিসি। ওসি সাইফুল আলম বলেন, পুরো এলাকা ঘিরে রেখে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফলভাবে কাজ শেষ করেছে।
বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা রহমান যুগান্তরকে বলেন, ১ আগস্ট বাসাটি ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়া নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, স্বামী-স্ত্রী থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে বাচ্চাদের পড়াবেন। ভেতরে এত ভয়ংকর পরিকল্পনা চলছিল, তা তারা বুঝতে পারেননি।
বোমারু মামুন এখনো অধরা: সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়া ও রাজধানীর মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে দুজনকে শনাক্ত করে সিটিটিসি। তাদের একজন আরিফ। অন্যজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’। আরিফ আটক হলেও মামুন এখনো ধরা পড়েননি।
৩১ জুলাই আশুলিয়ার একটি মুদিদোকানে ফেলে যাওয়া ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি প্রেশারকুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে রাধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকেও বোমা উদ্ধার করা হয়। দুটি ঘটনার যোগসূত্র, বোমার উৎস, নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে সিটিটিসি। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ছায়া অনুসন্ধানে নামে।
মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ও দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা অনেক আলোচিত জঙ্গি সদস্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তি পান। তাদের অনেকে কারাগার থেকে পালিয়ে বা মুক্ত হয়ে ছোট ছোট সেল গঠন করেন। নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়নের উৎস তৈরি ও বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেন। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শক্তিশালী ছাতাবোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে মামুনকে শনাক্ত করে পুলিশ।
২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে সময় তিনি নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য ছিলেন। একই বছরের ১৫ আগস্ট পান্থপথের একটি হোটেলে নব্য জেএমবির সদস্যরা আস্তানা গড়েছিল। সেখানে সিটিটিসির ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ অভিযানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম নামে এক মূল হামলাকারী নিহত হন। ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট ওই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অভিযোগপত্র ও পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও মামুনের নাম ছিল।
পুলিশ জানায়, জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন মামুন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি কেরানীগঞ্জ ও সাভারে বসবাস শুরু করেন। তার সঙ্গে শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফসহ অন্তত ১৫ জন যুক্ত হন।
যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ফাইল ছবি।
দেশের পাঁচ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে আগামী পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আরও ঘনীভূত হতে পারে।
তিনি জানান, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতি থেকে শনিবার (১৩-১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া এই তিন দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। বৃহস্পতিবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবার রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবারও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
৩১তম বিসিএস পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিয়া, সম্পাদক নাজিম
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
ফাইল ছবি
বিসিএস ৩১তম ব্যাচের পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ জিয়াউল হক; সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। ওই ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি ভোটে তারা নির্বাচিত হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। এদিন বিকাল ৫টায় নির্বাচন কমিশন এ ফলাফল ঘোষণা করে।
সংগঠনটি জানায়, আপাতত দুই জনের কমিটি নির্বাচন করা হয়েছে। পরে এক বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩১তম বিসিএস ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাদের কল্যাণ এবং পদোন্নতিতে এ কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন সদস্যরা।
সম্পর্কিত খবর
তিন সন্দেহে বরিশালে মাঠে পুলিশ, হেমায়েতপুরে জেএমবির আস্তানায় অভিযান
বরিশাল ব্যুরো ও যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর ও সাভার
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০ এএম
বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে বুধবার (১২ আগস্ট) বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটেছে। মহানগর দায়রা জজ আদালতের ১০ তলা ভবনের সামনে প্রধান ফটক থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিস্ফোরণটি ঘটে।
এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার সাভারে সাদাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠ থেকে ‘প্রেশারকুকার বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার বিকাল ৬টা ১০ মিনিটে বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। নিরাপদ দূরত্বে থেকে শত শত উৎসুক মানুষ ঘটনাটি দেখেন।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে বোমাটি উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সাভারে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি পাইপ বোমা ও বিস্ফোরকসহ আরিফ নামে এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করে সিটিটিসি। এর আগে ৩১ জুলাই আশুলিয়ার একটি মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া প্রেশারকুকার বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরপর বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে বরিশালে বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গি বা উগ্রবাদী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা দেখছে না পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তিনটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। প্রধান কারণ, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো। দ্বিতীয়ত, শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর মাস আগস্টকে কেন্দ্র করে এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরের পর ডাচ রাষ্ট্রদূতের বরিশালে আসার কর্মসূচিকে ঘিরেও বিস্ফোরণটি ঘটানো হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। কয়েকদিন আগে বাকেরগঞ্জে ঘটে যাওয়া আরেকটি বিস্ফোরণের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বরিশালে বিস্ফোরণ: সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের ইনচার্জ খলিলুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়া, বারুদের উপকরণ ও প্লাস্টিকসহ আলামত সংগ্রহ করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্ফোরণের ধরন ও ব্যবহৃত বিস্ফোরক সম্পর্কে জানা যাবে।’
ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ পান্না ও আইনজীবী তসলিমউদ্দিন আহম্মেদ নাশকতার জন্য পলাতক ফ্যাসিস্টের সহযোগীদের দায়ী করেন।
তবে মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আলামত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জঙ্গি বা উগ্রবাদীদের সংশ্লিষ্টতার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে জর্দার কৌটার মুখও পাওয়া গেছে। তার ধারণা, এটি বড়জোর পটকা হতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ১০ তলা ভবনের ওপর বা আদালত প্রাঙ্গণের সীমানার বাইরে থেকে বস্তুটি ছোড়া হয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএমপি কমিশনার বলেন, আতঙ্ক ছড়ানোই বিস্ফোরণের একটি উদ্দেশ্য বলে মনে হচ্ছে। আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কেউ উপস্থিতির জানান দিতেও এটি করে থাকতে পারে। এছাড়া অন্য কারণও তদন্তে রাখা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ৯ ও ১০ জুলাই মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বরিশাল ও ঝালকাঠি সফর করেন। বুধবার বরিশালের একটি হোটেলে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেলের সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যও বিস্ফোরণটি ঘটানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেমিনারটি পরে বাতিল হয়।
এর আগে ৩ আগস্ট বাকেরগঞ্জের দুধলমৌ গ্রামে রহস্যজনক বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ তিনজন আহত হন। ওই ঘটনার সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণের বিস্ফোরণের যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে চাননি বিএমপি কমিশনার।
সাভারের সাদাপুরে আতঙ্ক: সাভার থানার ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন বলেন, লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে বুধবার রাত দেড়টার দিকে স্থানীয়রা একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর কাপড়চোপড়, কুরআন শরিফ ও একটি প্রেশারকুকার দেখতে পান। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি রাতে ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে যায়। সকালে পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সিটিটিসি ইউনিটকে বিষয়টি জানানো হয়। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেএমবির আস্তানায় অভিযান: এর আগে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর একটি বাড়িতে রাতভর অভিযান চালিয়ে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আরিফকে আটক করে সিটিটিসি। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকার আরিফ ১ আগস্ট ড্রাইভিং ও শিক্ষকতার ভুয়া পরিচয় দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। আরিফের কাছ থেকে জেএমবির বিপুল পরিমাণ লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, আরিফের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ছয়টি শক্তিশালী পাইপ বোমা ও বিভিন্ন কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৯টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে মোট ১৫টি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
শ্যামপুরে প্রায় ৪ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় আব্দুল জলিলের বাড়িতে অভিযান চালায় সিটিটিসি। ওসি সাইফুল আলম বলেন, পুরো এলাকা ঘিরে রেখে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফলভাবে কাজ শেষ করেছে।
বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা রহমান যুগান্তরকে বলেন, ১ আগস্ট বাসাটি ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়া নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, স্বামী-স্ত্রী থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে বাচ্চাদের পড়াবেন। ভেতরে এত ভয়ংকর পরিকল্পনা চলছিল, তা তারা বুঝতে পারেননি।
বোমারু মামুন এখনো অধরা: সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়া ও রাজধানীর মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে দুজনকে শনাক্ত করে সিটিটিসি। তাদের একজন আরিফ। অন্যজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’। আরিফ আটক হলেও মামুন এখনো ধরা পড়েননি।
৩১ জুলাই আশুলিয়ার একটি মুদিদোকানে ফেলে যাওয়া ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি প্রেশারকুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে রাধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকেও বোমা উদ্ধার করা হয়। দুটি ঘটনার যোগসূত্র, বোমার উৎস, নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে সিটিটিসি। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ছায়া অনুসন্ধানে নামে।
মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ও দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা অনেক আলোচিত জঙ্গি সদস্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তি পান। তাদের অনেকে কারাগার থেকে পালিয়ে বা মুক্ত হয়ে ছোট ছোট সেল গঠন করেন। নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়নের উৎস তৈরি ও বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেন। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শক্তিশালী ছাতাবোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে মামুনকে শনাক্ত করে পুলিশ।
২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে সময় তিনি নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য ছিলেন। একই বছরের ১৫ আগস্ট পান্থপথের একটি হোটেলে নব্য জেএমবির সদস্যরা আস্তানা গড়েছিল। সেখানে সিটিটিসির ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ অভিযানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম নামে এক মূল হামলাকারী নিহত হন। ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট ওই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অভিযোগপত্র ও পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও মামুনের নাম ছিল।
পুলিশ জানায়, জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন মামুন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি কেরানীগঞ্জ ও সাভারে বসবাস শুরু করেন। তার সঙ্গে শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফসহ অন্তত ১৫ জন যুক্ত হন।
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, ১২ আগস্ট থেকেই বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
এর আগে গত ১১ জুন জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হলো।
স্মারকে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। এসব আয়োজন রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবাগুলো এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মামুন ভূঁইয়ার সই করা স্মারকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করা, আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্পর্কিত খবর
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, ১২ আগস্ট থেকেই বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
এর আগে গত ১১ জুন জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হলো।
স্মারকে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। এসব আয়োজন রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবাগুলো এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মামুন ভূঁইয়ার সই করা স্মারকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করা, আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।