ঢাকা ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

কাদের-আরাফাত ফোনালাপ ‘টিভিতে মরদেহের ছবি দেখালে জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব’

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
Shares
sharethis sharing button
‘টিভিতে মরদেহের ছবি দেখালে জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব’
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সেতু ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যারা আগুন দিয়েছিল, তাদের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ গতকাল সোমবার প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় শেখ হাসিনার একটি ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনের লিখিত সংস্করণ তুলে ধরেন।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপ সরকারি সংস্থায় রেকর্ড হয়েছিল, যা পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিকে সত্য বলে প্রমাণিত হয়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত রেকর্ড অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে আলাপে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

কথোপকথনে আরও উঠে আসে যে, তৎকালীন মন্ত্রী হাছান মাহমুদ এই নির্দেশের জবাবে একে ‘টিট ফর ট্যাট’ বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং মহল্লায় মহল্লায় নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনালাপে শেখ হাসিনা র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করে প্রতিহত করার কথা বলেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা এবং গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপের বিষয়েও বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তৎকালীন শীর্ষ নেতারা।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাতের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পেশ করা হয়। রেকর্ড শুনে বোঝা যায়, জুলাই মাসে আন্দোলন দমনে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছিল। মোহাম্মদ এ আরাফাত ওবায়দুল কাদেরকে নিশ্চিত করেন যে, সংঘাত বা মারামারির কোনো ভিডিও ফুটেজ বা ছবি প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ (রাষ্ট্রের শত্রু) হিসেবে ঘোষণা করে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করার জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ‘ঢালাও পারমিশন’ দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনো উচ্চতর অনুমতি ছাড়াই তারা তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে পারে।

ফোনালাপে শোনা যায়–
ওবায়দুল কাদের: এই যে যারা কথা শোনে না, টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা...
আরাফাত: ওই যে অফ করে দিছি গতকাল দুই-একটা। আজকেও বলে রাখছি যেগুলো শুনবে না অফ করে দিতে সাথে সাথে।
ওবায়দুল কাদের: আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।

আরাফাত: আজকে ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো সংঘর্ষের-মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা লাশের ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অব দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব। আর ওই যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বসায়ে রাখছি যে, আপনি কন্সট্যান্টলি দেখবেন যে, টিভি সংঘর্ষের ছবি দেখাবে সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোনো পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম আর উইদাউট মাই পারমিশন এটা অন করবেন না, আর এই ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

Shares
facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

ঝালকাঠিতে ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:২০ পিএম
Shares
sharethis sharing button
ঝালকাঠিতে ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা পরিশোধের পাঁচ বছর পরও পণ্য বা অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঝালকাঠি সদর আমলি আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন। বুধবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইমাম হোসেন।

মামলার বাদী মো. হাচিবুর রহমান রাজু ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার বাসিন্দা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১২ মার্চ ইভ্যালির অনলাইন প্ল্যাটফর্‌ম থেকে একটি ‘বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি ডাবল ডিস্ক’ মোটরসাইকেল অর্ডার করেন মো. হাচিবুর রহমান রাজু। এরপর ১৫ মার্চ ‘নগদ’-এর মাধ্যমে মোটরসাইকেলটির মূল্য বাবদ ১ লাখ ৬ হাজার ৯৪০ টাকা পরিশোধ করেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ে মোটরসাইকেল সরবরাহ করতে না পারায় ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর স্থানীয় একটি শোরুম থেকে বাইকটি কেনার জন্য ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি চেক দেয় ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ। পরে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবটি স্থগিত (ফ্রিজ) রয়েছে বলে বাদী জানতে পারেন।

এরপর ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মোটরসাইকেল কিংবা পরিশোধ করা টাকা কোনোটিই ফেরত পাননি তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের বাইরে মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন হাচিবুর রহমান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইমাম হোসেন জানান, প্রাথমিক শুনানিতে অভিযোগের ভিত্তি বিবেচনা করে আদালত ইভ্যালির এমডি মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম যথা নিয়মে চলবে।

নেয়ামুল আহসান/এএফ

Shares
facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
Shares
sharethis sharing button
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত হেভিওয়েট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বিচার চলার সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে বলেন, এ জাতীয় রাজনীতিবিদের জন্ম যাতে এ দেশে আর কোনো দিন না হয় এবং জনগণের ম্যান্ডেটের দোহাই দিয়ে ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন নৃশংস কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রয়োজন।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই বহুল আলোচিত মামলায় ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন)। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনার মধ্য দিয়েই নিজেদের যুক্তিতর্ক পর্ব শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর।

এই মামলার মূল আসামি ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। বিচার-প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই এই মামলার সব আসামি পলাতক।

আদালতে যুক্তিতর্ক তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে যে নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটেছে, তার ব্যক্তিগত দায় এই মামলার প্রত্যেক আসামির ওপর বর্তায়। পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের নীতিনির্ধারণী পদে থাকায় তাদের সবার ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (উচ্চতর কমান্ডের দায়িত্ব) রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, আসামিরা তাদের অর্পিত ক্ষমতাবলে এই ভয়াবহ অপরাধ ঠেকানোর কোনো চেষ্টা তো করেনইনি, বরং উল্টো উসকানি দিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের অপরাধ বন্ধের পদক্ষেপ না নিয়ে আন্দোলনকারীদের সরাসরি ‘মারার জন্য’ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জেনেশুনেই এমন প্রাণঘাতী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কেও তিনি সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, তারা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। হাজারও নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা ও প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর জখম করার মূল দায় এই আসামিদের ঘাড়েই চাপে।

অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, এই আসামিরা কোনো ধরনের অনুকম্পা বা শিথিলতা পাওয়ার বিন্দুমাত্র হকদার নন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী মানসিকতার পুনরাবৃত্তি রুখতে তাদের সর্বোচ্চ সাজার বিকল্প নেই।

Shares
facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
3 Shares
sharethis sharing button
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর
ছবি: সংগৃহীত

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার ৩ দিনের মাথায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী ডনের জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।

জামিন আবেদনে বলা হয়, ডনের বিরুদ্ধে এজাহার ও গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাই তাকে জামিন দেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে রবিবার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

জানা গেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর তাকে হেফাজতে নেয় সিআইডি।

উল্লেখ্য, সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে আসে।

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

অন্তরা/

3 Shares
facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

শ্রীনগরে কুলসুম হত্যা মামলায় সুমনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
Shares
sharethis sharing button
শ্রীনগরে কুলসুম হত্যা মামলায় সুমনের যাবজ্জীবন
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে কুলসুম বেগম (৩৫) হত্যা মামলায় মো. সুমন হোসেন ওরফে সুমন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফুল আলম ভূঁইয়া এ রায় দেন। ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি নিখোঁজ হন পূর্ব হাসাড়গাঁওয়ের কুলসুম বেগম। নিখোঁজের ১৯ দিন পর একই এলাকার একটি পতিত জমি থেকে তার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আলামত দেখে কঙ্কালটি কুলসুমের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তার ছেলে কামরুল হাসান অয়ন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআই মুন্সীগঞ্জে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, কুলসুমের ছেলে কামরুলকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে সুমন বিভিন্ন সময়ে ৬ লাখ টাকা নেন। পরে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে ১৭ জানুয়ারি কুলসুমকে অনাবাদি জমিতে ডেকে নিয়ে ধারালো দা দিয়ে হত্যা করেন সুমন। পরে মরদেহ ঘাসের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সুমনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

রায়ের পর মামলার আইনজীবী ও সাবেক পিপি মো. হালিম হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট ও খুশি।

অন্যদিকে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী কামরুল হাসান অয়ন বলেন, ‘আমরা আসামির ফাঁসির আদেশ আশা করেছিলাম। তবে আদালতের রায়কে আমরা সম্মান করি।’

মহিউদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/

Shares
facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

কালীগঞ্জে মরা ছাগল জবাই, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবসায়ির জরিমানা

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
Shares
sharethis sharing button
কালীগঞ্জে মরা ছাগল জবাই, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবসায়ির জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে মরা ছাগল জবাই করতে গিয়ে আলমগীর হোসেন নামের এক ছাগল ব্যবসায়ী স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছে।

পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মিট কন্ট্রোল-১ আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মেইন বাস টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী মোটর শ্রমিক আলতু মিয়া খবরের কাগজকে জানান, সোমবার বিকেলে একটি ইজিবাইক ১০ টি ছোট-বড় ছাগল নিয়ে বাস টার্মিনালে আসে। এ সময় ইজিবাইকের ভেতর থেকে আলমগীর একটি ছোট্ট মরা ছাগল ও একটি আধমরা ছাগল নামায়। এরপর সে একাই পা দিয়ে চেপে ধরে ছাগল দুটি জবাই করে। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয় লোকজন জবাই করা ছাগলসহ ব্যবসায়ীকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনে খবর দেন।

কালীগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন খবরের কাগজকে জানান, খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জিল্লু রাইন ঘটনাস্থলে যান। তারা প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের কাছে মরা ছাগল জবাইয়ের ঘটনা শুনেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত করে অসুস্থ মরা ছাগল জবাইয়ের অপরাধে ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জবাই করা ছাগল বাজেয়াপ্ত করে তা মাটিতে পুতে ফেলার নির্দেশ দেন।

মাহফুজুর রহমান/থিওটোনিয়াস/

Shares
facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

নিউজ এলার্ট পেতে চান?

এখনই সাবস্ক্রাইব করুন!
Powered by Feedify