বরিশালের উজিরপুরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান সুজনকে (২৭) আটক করে গণধোলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চকমান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুজন উপজেলার কেশবকাঠী-হাবিবপুর গ্রামের মো. শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আল আমিন তালুকদারের বাড়িতে এক নারীর সঙ্গে সুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। পরে তাকে আটক করা হলে স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাড়িতে সুজনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ঘটনার রাতে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিএনপি নেতা মো. শাহীন মাস্টারের হস্তক্ষেপে সুজনকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের বাবার ফোন পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিষয়টি করেছে।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন সুজনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুজন বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও উত্তর চকমান রেজিস্ট্রি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহিন হোসেন বলেন, ‘চোর ধরতে গিয়ে চোর হয়েছে। আমি ঘটনার সময় সেখানে ছিলাম।’
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ‘বক্স ক্রাব’ বা লজ্জাবতী কাঁকড়া। অদ্ভুত আকৃতির এই সামুদ্রিক কাঁকড়া নিয়ে স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মহিপুর মৎস্য বন্দরের ইলিয়াস মাঝির মাছ ধরার ট্রলারে কাঁকড়াটি ধরা পড়ে। পরে জেলেরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে এটি আড়তে নিয়ে আসেন। বন্দরের আখি ফিশ নামের একটি মাছের আড়তে কাঁকড়াটি নেওয়া হলে সেটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। তবে কাঁকড়াটি খাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকায় জেলেরা এটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।
আখি ফিশের মো. আলামিন বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত দেখা যায় না। তাই এটি নিয়ে জেলেদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়।
বক্স ক্রাবের খোলস গোল ও বেশ চওড়া। সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় এর শরীর অনেকটা গোলাকার। খোলস উঁচু ও শক্ত এবং ওপরের অংশ গম্বুজের মতো। খোলসজুড়ে ঘন কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ রয়েছে। দুই পাশে থাকা বড় ও মোটা দাঁড়া এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময়, কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এদের পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাঁকড়া সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে স্থানীয় মানুষ সাধারণত এগুলো খায় না। তবে যেসব এলাকায় এ কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, এ কাঁকড়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া, যা সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরও বলেন, উপকূলে এমন কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ নয়, প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।