যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তিনি তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন।
শুক্রবার বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন বলেন, তার বাবার ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগ তাকে শারীরিকভাবে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে।
তবে জো বাইডেনের এক মুখপাত্র হান্টার বাইডেনের এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউস ছাড়ার চার মাসেরও কম সময় পর জো বাইডেন জানান, তিনি ‘আক্রমণাত্মক ধরনের’ প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যানসারটি তার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
এরপর একই বছরের অক্টোবরে বাইডেনের একজন মুখপাত্র জানান, তিনি ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিয়েশন থেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সময় জো বাইডেন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক তীক্ষ্ণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
চলতি বছরের জুনে শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাইডেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিকথা আগামী ১৭ নভেম্বর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আরডে পদত্যাগ করেছেন। ২০২৩ সালে ৩৭ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়ে তিনি ক্যামব্রিজের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। খবর সিএনএনের।
বুধবার রাতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান আরডে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে তার একাডেমিক কাজের বিরুদ্ধে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ এবং খেলাধুলা ও তহবিল সংগ্রহের সাফল্য নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছিল।
এক বিবৃতিতে আরডে বলেন, একাডেমিক জীবনে সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও তিনি যে ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা কেবল একাডেমিক মতবিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধারাবাহিক অভিযোগ, জল্পনা ও জনসমক্ষে মন্তব্য তার এবং তার কাছের মানুষদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেও জানান তিনি।
তার বিবৃতিটি গুড ল’ প্রজেক্ট নামের একটি প্রচারাভিযানকারী সংগঠন প্রকাশ করে। সংগঠনটি গত মাসে সমালোচনা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আরডেকে সমর্থন দিয়ে আসছে। সংগঠনটির আগে প্রচারিত এক চিঠিতে দুই ডজনের বেশি শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক স্বাক্ষর করেন। সেখানে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগকে আরডে ও প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা অন্যান্য কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ‘অপপ্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
ক্যামব্রিজে আরডের নিয়োগ তার ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পের কারণেও ব্যাপক আলোচনায় আসে। তিনি জানিয়েছিলেন, ডিসলেক্সিয়া, বিকাশজনিত বিলম্ব ও অটিজমের কারণে ১১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কথা বলতে পারতেন না এবং কৈশোরের শেষভাগ পর্যন্ত পড়তে পারতেন না।
গত মাসে তার একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন নাথান কোফনাস। তিনি একসময় ক্যামব্রিজে দর্শনের গবেষক ছিলেন।
এরপর ২৪ জুলাই লন্ডনের দ্য টাইমস আরডের ২০১৫ সালের পিএইচডি গবেষণাপত্র নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। এতে গবেষণাপত্রের কয়েকটি অংশের সঙ্গে অন্য এক গবেষকের আগের একটি গবেষণাপত্রের ‘হুবহু বা প্রায় হুবহু’ মিল থাকার দাবি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত এখনো চলমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা বা আরডের একাডেমিক কাজের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয়টি।