জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ করেপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২:২৯ এএম
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রচেষ্টা অনেকটাই সফল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। এমনকি জুলাইয়ের চেতনাকেও পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজনের মাধ্যমে খণ্ডিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যদি বলি ফ্যাসিবাদকে সম্পূর্ণ বিদায় করেছি, তাহলে সেটি নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করা হবে। বাস্তবে কিছু ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকে সরানো গেলেও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা ও তার কিছু উপাদান এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে রয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সাহস অর্জন করতে হবে। নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টেকনাফে অপহরণ ঠেকাতে বসবে দুই সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ৩:০২ এএম
টেকনাফে অপহরণ, মাদক পাচার ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে দুইটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক প্রতিরোধবিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী টেকনাফে অপহরণ, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে টেকনাফে দুইটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে শিগগিরই মাদক কারবারিদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক কারবারিদের তালিকার ভিত্তিতে দেশব্যাপী আরও কার্যকর ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, নাফ নদীতে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত জেলে ও তাদের ব্যবহৃত নৌকাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে নদীপথে অবৈধ যাতায়াত, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং প্রকৃত জেলেদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদক, অপহরণ ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরে তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
র্যাবের নাম বদলে হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন
স্টাফ করেপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২:৪৭ এএম
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬-এর একটি খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
খসড়া আইনে র্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীটির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনমত গ্রহণ শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
নতুন আইন কার্যকর হলে র্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।
খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির নিজস্ব প্রতীক (লোগো), পতাকা ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে। বাহিনীটির সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের যে কোনো স্থানে ইউনিট স্থাপন করা যাবে।
এসআরবির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে।
এ ছাড়া শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিটে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত করায় রেস্টুরেন্টকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা
স্টাফ করেপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২:৩৭ এএম
রাজধানীর কলাবাগানে ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ‘নিউ রান্নাঘর রেস্টুরেন্ট’-কে ২ লাখ ৫১ হাজার ৫৭৩ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ওই অর্থ সিটি করপোরেশনের সড়ক খনন তহবিলে জমা দিয়ে প্রমাণপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএসসিসি জানায়, সংস্থার প্রশাসকের সরেজমিন পরিদর্শনের সময় মিরপুর রোডের ৬৭ নম্বর কলাবাগানে অবস্থিত রেস্টুরেন্টটির সামনে সিটি করপোরেশনের নির্মিত ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। পরে প্রকৌশল বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টটির কার্যক্রমের কারণে সিসি টাইলসের ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ডিএসসিসির ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সড়ক খনন নীতিমালা-২০১৯ এর পরিপন্থি।
প্রকৌশল বিভাগের মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাতের আয়তন ৫০ দশমিক ২২ বর্গমিটার। ক্ষতিপূরণের মূল বিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৫১ হাজার ৫৭৩ টাকা।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আইন ও প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই এলাকায় গ্রিন ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার ও ল্যাবএইড আইকনিক ডায়াগনস্টিক ভবনের সামনে ফুটপাতে নির্মিত র্যাম্প, গেটওয়ে ও প্লান্টারের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি বলেছে, ফুটপাত, সড়ক ও ড্রেনসহ নগরের সব অবকাঠামো জনগণের সম্পদ। এসব অবকাঠামোর ক্ষতি করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো অননুমোদিত কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।
শ্রমিক কল্যাণে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী
স্টাফ করেপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২:১৩ এএম
শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবিমা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীতে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ লক্ষ্যে চলতি মাসেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত আন্তরিকভাবে একসঙ্গে কাজ করলে দেশের সব শ্রমিককে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব। দেশের প্রতিষ্ঠিত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানগুলো যখন শ্রমিক কল্যাণে এগিয়ে আসছে, তখন সরকারও তাদের পাশে থাকবে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের শ্রমিকরাই প্রকৃত সম্পদ। তাদের জন্য উন্নত চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান এবং সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং শ্রমিক অসন্তোষও কমে আসবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, দেশের সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ শ্রমিক ছাড়া কোনো শিল্প চলতে পারে না। তাই তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও শিল্পমালিক উভয়ের দায়িত্ব।
গার্ডিয়ান লাইফের স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিকেএমইএ, গার্ডিয়ান লাইফ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের আয়োজনের নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম কল্যাণ তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, তহবিলে কত অর্থ জমা হয়েছে, কত অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অর্থ জমা দিচ্ছে, এসব তথ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য।












