ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে পদ না পেয়ে ঝাড়ুমিছিল, ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি | ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন, বিবাহিত ও অছাত্রদের পদায়নের অভিযোগ তুলে ঝাড়ুমিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। মুখোশ পরে ঝাড়ু হাতে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ি সড়কে এই ঝাড়ুমিছিল বের করা হয়। বিকেল থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরিহিত ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী ঝাড়ু হাতে মিছিল করছেন। এসময় তারা জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সংগঠনের নীতিমালা উপেক্ষা করে বিবাহিত ও অছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।

আরিফ ইমরান নামের একজন ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন, ‌‘জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে এ ঝাড়ুমিছিল হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য লজ্জাজনক।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘২.০ লোডিং পেজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে নবগঠিত উপজেলা কমিটির সভাপতি শেখ অলিউল্লাহ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সায়মনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং জেলা ও উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানানো হয়।

সূত্র জানায়, ৩০ জুলাই ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিন ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের এক বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে শেখ অলিউল্লাহ রাসেলকে সভাপতি এবং আলমগীর কবির সায়মনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পদে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কমিটি ঘোষণার পরপরই সহসভাপতি পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সিজান। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং গঠিত কমিটি গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যক্তিগত আত্মসম্মান রক্ষার্থে তিনি পদত্যাগ করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

একইভাবে সহসভাপতি পদে থাকা অর্ণব হোম চৌধুরীও ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জানান, তিনি বিবাহিত হওয়ায় ছাত্রলীগের নীতিমালা অনুযায়ী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ নেই। এছাড়া তার অজান্তেই নতুন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী রফিকুল ইসলামও ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে আত্মগোপনে থাকা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিবাহিত ও অছাত্রদের অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের নীতিমালার পরিপন্থী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে নতুন কমিটির সভাপতি শেখ অলিউল্লাহ রাসেল নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে দায়িত্ব পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, পদ নয়, দায়িত্বই বড়। ছাত্রদের পাশে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

তবে নবগঠিত কমিটি নিয়ে ওঠা আর্থিক লেনদেন, বিবাহিত ও অছাত্রদের পদায়নের অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ কিংবা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঝাড়ুমিছিলের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

হোসাইন সুলভ/এসআর/জেআইএম

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী খবর

স্কুলব্যাগ-পরনের কাপড়ের মাঝে আজও মারুফকে খুঁজে ফেরেন মা মোর্শেদা

আব্দুল্লাহ আল নোমান | টাঙ্গাইল | প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শেষে বিজয় মিছিলে গুলিতে শহীদ হয় মারুফ মিয়া (১৪)। এরপর কেটে গেছে দুই বছর। অথচ আজও বিচার পায়নি মারুফের পরিবার। দেওয়া হয়নি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট)। দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে পরিবার।

টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবালিয়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া। তার বাবা একজন প্রবাসী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মারুফ বড় ছিল।

পরিবার সূত্র জনায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলে জুলাই আন্দোলন শেষে বিজয় মিছিল চলছিল। ঠিক তখনই শহরের মেইন রোডে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন দশম শ্রেণির ছাত্র মারুফ। এ ঘটনায় একই বছরের ১৮ আগস্ট নিহতের মা মোর্শেদা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলে জুলাই আন্দোলন শেষে বিজয় মিছিল চলছিল। ঠিক তখনই শহরের মেইন রোডে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন দশম শ্রেণির ছাত্র মারুফ। এ ঘটনায় একই বছরের ১৮ আগস্ট নিহতের মা মোর্শেদা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়’

টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় ছোট্ট একটা টিনের ঘরে মারুফের পরিবারের বসবাস। সরেজমিন দেখা যায়, এখনো ছেলের ছবি নিয়ে কান্না করেন মা মোর্শেদা বেগম। আদরের সন্তানের স্কুলব্যাগ, পরনের কাপড়, জুতা আর পারিবারিক ছবি আগলে রেখে তার দিন কাটে। এসব কিছুর মধ্যেই ছেলে মারুফকে খুঁজে চলেছেন তিনি। ভাইয়ের কথা স্মরণ করতেই বোন সানজিদা আক্তারের চোখ ছলছল করতে দেখা যায়। দুই ভাই বোনের মধ্য মারুফ বড়। বাবা একজন প্রবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারুফের স্মৃতিকে ধরে রাখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনায় ‘টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়াম’ এর নাম পরিবর্তন করে ‌‘শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম’ নামকরণ করা হয়েছে।

স্কুলব্যাগ-পরনের কাপড়ের মাঝে আজও মারুফকে খুঁজে ফেরেন মা মোর্শেদাটাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় ছোট্ট একটা টিনের ঘরে জুলাই শহীদ মারুফ মিয়ার পরিবারের বসবাস/ছবি-জাগো নিউজ

শহীদ মারুফের মা মোর্শেদা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি মারুফের ছবি দেখতে পারি না। আমার বুকের ধন একমাত্র ছেলে মারুফ আগস্টের ৪ তারিখ বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ছবি তুলেছে। পরের দিনই বিজয় মিছিলে শহীদ। এটা আমি সহ্য করতে পারি না। আমি টাকা-পয়সা কিছুই চাই না। চাই শুধু ছেলে হত্যার বিচার।’

‘জেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন ২৭০ জন। ৯ জন শহীদ হয়েছেন। এ ৯ জনের মধ্যে দুজন জেলায় শহীদ, বাকিরা অন্য জেলায় শহীদ হন। জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পাশে যেন সরকার সব সময়ই পাশে থাকে, আমরা সেই আহ্বান করছি’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘দুই বছরেও আমার ছেলে হত্যার বিচারের চার্জশিট দেওয়া হয়নি। নানা টালবাহানা চলছে। আমি দ্রুত সব হত্যার বিচার চাই।’

ভাই হত্যার বিচার চেয়ে বোন সানজিদা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি আমার ভাইকে অনেক ভালোবাসি। আমার ভাই এভাবে চলে যাবে আমরা কল্পনাও করেনি। আমি আমার ভাইকে হত্যার বিচার চাই। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুজ্জামান শাওন বলেন, ‘মারুফ হত্যা মামলার চার্জশিট এখনো দেওয়া হয়নি। সরকারের কাছে দাবি করছি, যেন দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হয়।’

স্কুলব্যাগ-পরনের কাপড়ের মাঝে আজও মারুফকে খুঁজে ফেরেন মা মোর্শেদাসন্তানের ছবি হাতে মা মোর্শেদা বেগমের কান্না/ছবি-জাগো নিউজ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক আল-আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধা ২৭০ জন। ৯ জন শহীদ হয়েছেন। ৯ জনের মধ্যে দুজন জেলায় শহীদ, বাকিরা অন্য জেলায় শহীদ হন। জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পাশে যেন সরকার সব সময় থাকে, আমরা সেই আহ্বান করছি।’

মামলায় অনেক আসামি থাকায় তাদের নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাই করতে একটু সময় লাগছে বলে জানান টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার এই মামলাগুলোর অবশ্যই বিচার হবে। তবে বিচারে যেন কোনো নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।

এসআর/এএসএম

পরবর্তী খবর

সকালে বাড়লেও বিকেলে নামতে শুরু করেছে তিস্তার পানি

জেলা প্রতিনিধি | নীলফামারী | প্রকাশিত: ০৩:৪৩ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২৬

উজানে ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল কমে আসায় নীলফামারীতে তিস্তার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে কাটেনি শঙ্কা। পানি বাড়ায় কৃষিজমি, কোথাও বসতভিটার পাশ ঘেঁষে এগিয়ে আসছে পানি। এছাড়া ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে মৌসুমী শাক সবজি, বাদাম ও ভুট্টার।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টা থেকে পানি নামতে শুরু করে। সবশেষ বিকেল ৩টা থেকে মাত্র ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে তিস্তাপাড়ের স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ বাঁধই বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সামান্য চাপেই ফাটল তৈরি হচ্ছে। তাই প্রতিটি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আমিরুল হক/এফএ/এএসএম

পরবর্তী খবর

চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সেতুর সংযোগ সড়কের ১৫ মিটার ধস, ঝুঁকিতে যান চলাচল

জেলা প্রতিনিধি | চাঁদপুর | প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কের প্রায় ১৫ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। এতে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের গাছতলা এলাকায় সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিছির গাজী জানান, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে গাছতলা এলাকার সেতুর সংযোগ সড়কের কিছু অংশ দেবে যেতে শুরু করে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বুধবার দুপুরে সড়কের আরও বেশ কিছু অংশ ধসে পড়ে।

চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সেতুর সংযোগ সড়কের ১৫ মিটার ধস, ঝুঁকিতে যান চলাচল

মোটরসাইকেল চালক মোসাদ্দেক আল আকিব জানান, যাওয়ার পথে হঠাৎ নজরে আসে সেতুর কিছু অংশ ধসে গেছে। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

চাঁদপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। ধসে যাওয়া অংশ বালু দিয়ে ভরাট শুরু করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে।

শরীফুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, আহত ২০

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় দলের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে শিবিরের তোলারাম কলেজ সভাপতি ইমদাদুল হক শুভ, সেক্রেটারি তামিম ও অর্থ সম্পাদক জুহাস, মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান, অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রয়েছেন। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী তুহিন আহমেদ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকিদের নাম জানা যায়নি। তাদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর শিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, মহানগরের উদ্যোগে নিজস্ব কার্যালয়ে জুলাই নিয়ে প্রোগ্রাম চলছিল। এমন সময়ে খবর পেলাম তোলারাম কলেজ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদককে মারধর করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আমরা তাদের উদ্ধার করতে গেলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের প্রায় ১৫-২০ জন আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাস দখলের জন্য ঝামেলা করছে। শিবিরের কারণে তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করতে পারছে না। এজন্য শিবিরের ওপর হামলা করেছে। হামলার নেতৃত্বে ছিল তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া, সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক, সাবেক সভাপতি পায়েল, তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক খান সুজন, সদর থানা ছাত্রদল নেতা মিলন, কদমরসূল কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাত, তোলারাম কলেজ ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন।

তবে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ছিল। ছাত্রশিবির এখানে উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দেয়। আমরা তাদের বলেছি এখানে উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দেওয়া যাবে না। এই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ছিল এবং সহাবস্থান আছে। তারা আমাদের একজনকে মেরে আহত করেছে।

সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শুনলাম গেটের বাইরে একজন আহত হয়েছে। ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। প্রশাসনকে জানানোর পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি ও এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এএইচ/এএসএম

পরবর্তী খবর

ছবি আঁকড়ে আজও কাঁদেন শহীদদের স্বজনরা

শরীফুল ইসলাম | প্রকাশিত: ০৩:২৬ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে স্বৈরাচারী সরকার পতনের দাবিতে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন রাজপথ পরিণত হয় সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তদানের মঞ্চে। সেই গণআন্দোলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৩১ জন ঢাকাসহ সারাদেশে আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান। গুলির শব্দ, টিয়ারশেলের ধোঁয়া আর আতঙ্ক উপেক্ষা করে তারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। দুই বছর পরও তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং স্বজন হারানোর বেদনা বহন করে চলেছে পরিবারগুলো।

জুলাই-আগস্টের সেই রক্তাক্ত দিনগুলো শুধু একটি গণআন্দোলনের ইতিহাস নয়; অসংখ্য পরিবারের বুকভাঙা কান্না, ত্যাগ ও আত্মদানের এক মর্মস্পর্শী অধ্যায়। কেউ চাঁদপুরের রাজপথে, কেউ রাজধানী ঢাকায়, আবার কেউ নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ হন। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবির আন্দোলন।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোতেই। সন্তান, ভাই কিংবা স্বামী হারানোর শোক আজও প্রতিদিন তাড়া করে ফেরে তাদের। জুলাই-আগস্ট ফিরে এলেই স্মৃতিগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রিয়জনের ছবি বুকে জড়িয়ে অশ্রু ঝরান স্বজনরা।

ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন। অন্যদিকে ফরিদগঞ্জে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন শাহাদাত হোসেন। তাদের বাবা-মা আজও সন্তানের শেষ স্মৃতি হিসেবে ছবিই আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন।

ছবি আঁকড়ে আজও কাঁদেন শহীদদের স্বজনরা

সাজ্জাদ হোসেনের বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ১৯ জুলাই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে আমার ছেলে শহীদ হয়। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। জুলাই মাস এলেই ছেলের কথা আরও বেশি মনে পড়ে। আমার স্ত্রী শুধু কাঁদে। তার শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না। প্রশাসন আমাদের খোঁজখবর নেয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু সন্তানের শূন্যতা তো আর কোনো কিছুতেই পূরণ হওয়ার নয়।

শাহাদাত হোসেনের মা সিরতাজ বেগম বলেন, আমার একটাই সন্তান ছিল। আন্দোলনে আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার বুক খালি করে দিয়েছে। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।

জুলাই যোদ্ধা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছি। এই আন্দোলনে চাঁদপুরের ৩১ জন প্রাণ দিয়েছেন। আমরা চাই, শহীদ পরিবারের পাশে সরকার সবসময় থাকুক এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখুক।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, চাঁদপুরের ৩১টি শহীদ পরিবারের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। সরকারি বিভিন্ন জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠানেও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর রাখছে।

এফএ/এএসএম

News Hub
Icon
এসএসসির ফল প্রকাশ সোমবার, জানা যাবে যেভাবে