• ই-পেপার

বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক

খুবি প্রতিনিধি
বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক
সংগৃহীত ছবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর অন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীরাও শিক্ষকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করেছেন।

এসব মেসেজের স্ক্রিনশর্ট যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।  

ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের একাধিক স্ক্রিনশর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ইনবক্সে ‘বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব’, ‘বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না’, ‘আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’–এমন সব বার্তা পাঠিয়েছেন। 

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে কৃষিপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্যক্ত করা মেসেজসংবলিত প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ করে ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমাকে তিনি মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল দিয়ে এসব কথা বলতেন। আমি নিজেই তাকে ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠালে তিনি এক্সেপ্ট করেই এসব বাক্য প্রদান শুরু করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে এসব অশালীন বাক্য প্রদানের ঘটনা ঘটায় তৎক্ষণাৎ তিনি ভয় পেয়ে সিনিয়রদের জানান। 

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

এই ঘটনা সামনে আসার পরে পূর্বে আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার কথা সামনে আসে। একই ডিসিপ্লিনের আরো দুজন ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান এই প্রতিবেদককে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অতীতে মৌখিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন আমাদের বিভাগের শিক্ষক রেজাউল ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক রেজাউল ইসলাম কালের কণ্ঠের কাছে অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। এসব অপপ্রচার শুরু হওয়ার পরে আমার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছি। এই বিষয়ে থানায় জিডি করা হলেও এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি। ডিসিপ্লিনের প্রধান হিসেবে আমি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি এবং শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়মের বাইরে যেতে বাধা দিয়েছি। মূলত ঈর্ষা ও শত্রুতা থেকেই আমার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.  হারুনর রশিদ খাঁন বলেন, ‘ডিনদের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ড. মো. ইয়াসিন স্যারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাকি পদক্ষেপ তদন্ত শেষ হলে কর্তৃপক্ষ নেবে বলে জানান তিনি।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল বুধবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দুই দিন কড়া নিরাপত্তায় থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জবি প্রতিনিধি
দুই দিন কড়া নিরাপত্তায় থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সংগৃহীত ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তার ঘোষণাসহ তিন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন।

উপাচার্য বলেন, আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরদিন ৬ আগস্টও বহাল থাকবে।

তিনি বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। ইতোমধ্যে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আমাদের প্রতিনিধি দল আহতদের দেখে এসেছে। আজকের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে যে সংগঠনেরই হোক। 

ড. মো. রইছ উদ্‌দীন আরো বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান উপাচার্য।

এর আগে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং মেডিক্যাল সেন্টারের সেবা উন্নয়নের দাবিতে জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্রফ্রন্ট ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের বাধা দেওয়া হলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। আহতদের জাতীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও ছাত্রশিবির এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে খুবিতে ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রীতিভোজ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে খুবিতে ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রীতিভোজ
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রীতিভোজ ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিল সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খশরুল আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। এই দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা একটি সম্মিলিত আয়োজন করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, তাদের সবাইকে এই আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, কোনো আবেদনকারীকে বাদ রাখা হয়নি। আমরা শুধু অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আয়োজনের প্রতিটি দিক যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্টি নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা ৪ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থীকে এ আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হলে ১ হাজার ১৮৫ জন, বিজয় ২৪ হলে ১ হাজার ১৩৫ জন, অপরাজিতা হলে ১ হাজার ৫০ জন, খান জাহান আলী হলে ৮৫১ জন এবং খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হলে ৭৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য পোলাও, মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টি ও সফট ড্রিংকস পরিবেশন করা হবে।

অপরাজিতা হলের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জন্য শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে এই দিবসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন একটি আয়োজন করেছে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরো বাড়াবে বলে আমি মনে করি।

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হলের শিক্ষার্থী মো. রিফাত হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা সব শিক্ষার্থীকে এই আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি আমাদের কাছে ভালো লেগেছে। 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-৫ আগস্ট সকাল ১১টায় অদম্য বাংলা চত্বর থেকে র‌্যালি, দুপুর ১২টায় চারুকলা স্কুলের আঙিনায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ও শেষে পুরস্কার বিতরণ, দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অদম্য বাংলা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’। এ ছাড়া বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও সুবিধাজনক সময়ে মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

বাকৃবিতে সোনালি দলের নেতৃত্বে অধ্যাপক হাম্মাদুর-আদহাম

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবিতে সোনালি দলের নেতৃত্বে অধ্যাপক হাম্মাদুর-আদহাম
অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান ও অধ্যাপক ড. এ কে এম আদহাম। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালি দলের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম আদহাম দায়িত্ব পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। 

নবগঠিত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুলাই ২০২৪-২৫ সময়কালের জন্য সোনালি দলের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর পরে নতুন এ কমিটি গঠন করা হলো।

কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা নির্বাচিত হয়েছেন। 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুগ্ম সম্পাদক-১ উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক-২ পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ছাদেকা হক, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম জি মোস্তফা আমিন, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান। 

এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান (কৃষি রসায়ন), অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম (এনিমেল সায়েন্স বিভাগ), অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল হাসান ভূঞা (পদার্থ বিজ্ঞান), অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির (কৃষি অর্থনীতি), অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক (গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান (ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিকস), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া (ফিজিওলজি), অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী (ডেইরি সায়েন্স)। 

পদাধিকার বলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক (একোয়াকালচার), অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান (কৃষিতত্ত্ব), অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার (ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিকস) এবং অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার (কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা)। তবে অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বর্তমানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় পদটি শূন্য থাকবে বলে কমিটির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নব কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক এবং ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। এ লক্ষ্য অর্জনে সোনালি দলের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা বিশ্বাস করি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব। সে লক্ষ্যে যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে আমরা থাকব এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

ঢাকা আলিয়া মাদরাসা চত্বরে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা আলিয়া মাদরাসা চত্বরে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ২
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর বকশীবাজারে অবস্থিত সরকারি আলিয়া মাদরাসা চত্বরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদলের দুই নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে চকবাজার থানাধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই নেতা হলেন সরকারি আলিয়া মাদরাসা শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) এবং লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭)।

জানা যায়, বিকেলে সানাউল্লাহ ও নিছার উদ্দিন আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা, রড ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে সাব্বির রহমান নামের এক শিক্ষার্থী তাদের উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহত দুজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

(cache)বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক | কালের কণ্ঠ