ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিয়ে করা এক বাংলাদেশি স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন এক চীনা নাগরিক। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মার্কিন ডলার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ওই নারী নিখোঁজ হয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) রাতে অভিযোগকারী চীনা নাগরিক ফুলবাড়ী থানায় গেলে পুলিশ তাকে ঢাকার সাভার থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। কারণ ঘটনাটি সাভার এলাকায় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযোগকারী চীনা নাগরিকের নাম আন হংওয়েই। তার দাবি, স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন তার কাছ থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদা খাতুন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় আন হংওয়েইর সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর চীনা স্বামীকে নিয়ে মোর্শেদা নিজ গ্রামের বাড়িতে আসেন। সে সময় বিদেশি জামাতাকে দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, চীনা নাগরিকের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোর্শেদা খাতুনের ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, “একজন চীনা নাগরিক থানায় এসেছিলেন। অভিযোগের ঘটনাটি ঢাকার সাভার এলাকায় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাই তাকে সাভার থানায় যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
মোরেলগঞ্জে খাল পুনঃখননে কৃষিতে সমৃদ্ধির সম্ভাবনা
মন্তব্য করুন
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার বেড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ছত্রাকযুক্ত (ফাঙ্গাস আক্রান্ত) পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) উপজেলার ৫ নম্বর নতুন ভারেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা কিছু পাউরুটিতে কালো দাগ ও ছত্রাকের উপস্থিতি দেখতে পান অভিভাবকরা। এরপর তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা বিল্লাল হোসেন প্রথমে ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি নিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মোক্তার হোসেনের কাছে অভিযোগ জানান। পরে আরও কয়েকজন অভিভাবক একই ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এমন খাবার বিতরণ হওয়া উদ্বেগজনক। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব পাউরুটি খেয়ে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তার দায়ভার কে নেবে—সেই প্রশ্নও উঠছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ১৫০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বেড়া উপজেলার ১১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাউরুটি, কলা, বিস্কুট ও ডিম সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রখর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি উৎপাদিত পাউরুটি গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোক্তার হোসেন বলেন, “বিতরণ করা পাউরুটির প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ১৯ জুন এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২৩ জুন উল্লেখ ছিল। তবে পরে কয়েকটি পাউরুটিতে কালো দাগ ও ছত্রাকের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।”
তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাকের স্থানীয় প্রতিনিধিকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর বেড়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মোরেলগঞ্জে খাল পুনঃখননে কৃষিতে সমৃদ্ধির সম্ভাবনা
মন্তব্য করুন
ছবি: প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি খাল পুনঃখননের ফলে বদলে যেতে শুরু করেছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় একাধিক ফসল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন সাধারণ কৃষকরা।
দুটি ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার পরিবারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পথ সুগম হচ্ছে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পে খালের দুই পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য মাটির রাস্তা নির্মাণ, সামাজিক বনায়নের আওতায় ৫ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ, মিষ্টি পানি সংরক্ষণ, খাবার পানির সংকট নিরসন, ছোট ছোট কাঠের সেতু নির্মাণ এবং ফসলি মাঠের পানি নিষ্কাশনে পাইপলাইন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা সরকারের এ সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে জানা যায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অধীনে উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের বলইবুনিয়া মোল্লারজোর থেকে আমবাড়িয়া গাজীবাড়ি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসী স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খয়েরের খেজুরবাড়ি পর্যন্ত আরও ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে।
প্রতিটি প্রকল্পে ২৩৮ জন করে অতিদরিদ্র শ্রমিক কাজ করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটছে। একই সঙ্গে বলইবুনিয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া, বাঁশবাড়িয়া, পাতাবাড়িয়া এবং খাউলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বরিশাল, মধ্য বরিশাল, মানিকজোর, খেজুরবাড়িয়া, উত্তর খেজুরবাড়িয়া, মধ্যম খেজুরবাড়িয়া ও সন্ন্যাসীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রাচীন এ দুটি খাল বছরের পর বছর পলি জমে ভরাট হয়ে প্রায় অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ফসলি মাঠে জমে থাকত এবং জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। পুনঃখননের ফলে খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এবং কৃষকরা একাধিক ফসল উৎপাদনের আশা করছেন।
খাল খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক পান্না মিয়া, মিজান শেখ, রফিকুল ইসলাম, রেনু বেগম, বিউটি বেগম ও ফুলমিয়াসহ অন্যরা জানান, নিজ গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বচ্ছন্দে চলতে পারছেন। তাদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষকরা নতুন নতুন ফসল আবাদ করতে পারবেন।
খাউলিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও খাল খনন কমিটির সদস্য সচিব বিটুল বিশ্বাস বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ বলেন, অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুটি ইউনিয়নে মোট ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, মিষ্টি পানি সংরক্ষণ এবং খাবার পানির সংকট দূরীকরণসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রকল্প এ অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।
মন্তব্য করুন