বরগুনায় মর্গ থেকে গৃহবধূর মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি
বরগুনার তালতলীতে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে মরদেহ নিতে গিয়ে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। গত সোমবার রিমাকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
স্বজনদের দাবি, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই সেখান থেকে চলে যান। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা আবার মর্গে এলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে আবু বকর নামে নিহত রিমার এক স্বজন বলেন, আমরা শুনেছি, রিমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে ম্যানেজ করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরে আমরা ময়নাতদন্তের আবেদন করলে আজ সকালে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কিন্তু মরদেহ রেখেই রিমার স্বামী দ্রুত চলে যায়।
নিহত রিমার ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি দূরে ছিলাম। মোবাইল ফোনে জেনেছি আমার বোনকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া দুই একদিন আগেও তাকে মারধর করা হয়েছিল, তার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, হত্যা নাকি আত্মহত্যা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্যই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ জানায়নি।
বিজ্ঞাপন
নুরুল আহাদ অনিক/কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন
জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক গোষ্ঠীর নয়: এমপি মিলন
মুক্তিযুদ্ধের মতো জুলাই অভ্যুত্থানকেও কোনো একক গোষ্ঠী যেন নিজেদের করায়ত্ত করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে মোহনপুরে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে মোহনপুর উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের অকাতরে জীবন দেওয়ার ঐতিহাসিক ফসল।
আন্দোলনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এমপি বলেন, রাজপথে ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো সত্ত্বেও অভিভাবক ও মা-বাবারা ঘরে বসে না থেকে সন্তানদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। গুম, খুন, অপশাসন, দুর্নীতি, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি এবং ‘আয়নাঘর’-এর সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করতেই সাধারণ মানুষ এই অভূতপূর্ব ত্যাগ স্বীকার করেছে।
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য ‘শ্রমিক কার্ড’ চালু করা হবে। সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট ও কলকারখানার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা শেষে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।
মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আক্তার সামসুজ্জোহা ও বাচ্চু রহমান, রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন শাহ, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র মকবুল হোসেন, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক খুশবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/জেআইএম
‘গলার কাঁটা’ ব্রিটিশ আমলের টানেল, বছরের ৮ মাসই জমে থাকে পানি
টানেলের দুই পাশে জমে থাকা হাঁটুপানিতেই চলাচল/ছবি-জাগো নিউজ
মাত্র ২০ মিটার পাকা সড়ক। অথচ বছরের ৮-১০ মাস সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষকে।
ব্রিটিশ আমলে যোগাযোগের জন্য নির্মিত ট্যানেল এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরিকল্পনাহীন ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের উপজেলায় যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে ট্যানেলে যানবাহন বেঁধে যায়। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তার দাবি, প্রশাসনকে বিষয়টি বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ট্যানেলটি নির্মাণ করেছিল ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যুগ যুগ ধরে ট্যানেলের নিচ দিয়ে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল। কিন্তু গত এক দশকে আশপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো দিনেদিনে ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে পরিকল্পনার অভাব। এলাকায় নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই পানি শুকাতে শুকাতে আবার নতুন বর্ষা চলে আসে। এভাবেই বছরের ৮-১০ মাস পানির নিচে ডুবে থাকে সড়কটি।
সরেজমিন দেখা যায়, ট্যানেলের দুই পাশেই জমে আছে হাঁটুসমান পানি। সেই পানির মধ্য দিয়েই কাপড় তুলে, ব্যাগ মাথায় নিয়ে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতে যাচ্ছে মানুষ। ইজিবাইক, ভ্যান বিকল হয়ে পড়ে আছে পানিতে।
এসময় ইজিবাইক চালক রাজা আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানির কারণে ব্যাটারি শর্ট হয়ে যায়। মোটর নষ্ট হয়। মেরামত বাবদ মাসে ৫-৭ হাজার টাকা খরচ হয় । এই পানি ঠেলে গাড়ি চালানো যায় না।’
আলাউদ্দিন নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে মারিয়া বলে, ‘আগে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতাম। এখন হাঁটুসমান পানি। পানির নিচে রাস্তা ভাঙার কারণে একবার পড়ে গিয়েছিলাম। সেজন্য এখন পাঁয়ে হেঁটে ও ভ্যানে চলাচল করি। যাতায়াতে খুবই সমস্যা আমাদের।’
একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা রহমানের ভাষ্য, প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। বই-খাতা-ড্রেস ভিজে যায়। অনেক সময় ক্লাসও করতে পারি না। পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত পানি অপসারণ করা হোক।’
পথচারী রেজাউল ইসলাম ও মো. শান্টু জানান, বিকল্প রাস্তা হিসেবে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হয়। এখানে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
হাতিসাকোঁ এলাকার কৃষক বিষু শিকদার (৬৫) বলেন, ‘আগে চারপাশ ফাঁকা ছিল। মহাসড়কের পাইপ দিয়ে পানি নেমে বিলে চলে যেত। এখন যার যার মতো জায়গা ভরাট করে বাড়িঘর-দোকানপাট করেছে। পানি বের হওয়ার রাস্তা নেই।’
হাতিসাকোঁ ঘেঁষে বসবাস গৃহিণী রোজিনা খাতুনের। তিনি বলেন, ‘বর্ষায় সময় থেকে পানি জমা শুরু করে। পানি সরতে সরতে চৈত্র - বৈশাখ মাস লেগে যায়। পানি শুকাতে শুকাতে আবার বৃষ্টি চলে আসে।’ তার ভাষ্য, বছরে আট মাসের বেশি পানি থাকে। খুব কষ্ট করে মানুষ চলাচল করে।
এত দুর্ভোগের মধ্যেও সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে জানান স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কুমারখালী এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে থাকে। পানি বের করতে হলে মহাসড়কে একটি কালভার্ট করতে হবে, যা এলজিইডির পক্ষে সম্ভব নয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। বরাদ্দ পেলে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে ভোগান্তি নিরসন করা হবে।’
আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম
সরকারি অফিস যেন আবাসিক হোটেল, চলছে রান্না-রাত্রিযাপন
- অফিসেই নির্বাহী প্রকৌশলীর রাত্রিযাপন
- সরকারি কার্যালয়েই রান্নাবান্নার আয়োজন
- কর্মচারীদেরও অফিসে থাকার ব্যবস্থা
- নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা
বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি সাধারণ সরকারি কার্যালয়। দরজায় সরকারি সাইনবোর্ড, ভেতরে দাপ্তরিক কক্ষ। কিন্তু একটু ভেতরে গেলেই দৃশ্য পাল্টে যায়। অফিসের কক্ষেই বিছানা, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, বাজারের ব্যাগ, বিশ্রামকক্ষ—সব মিলিয়ে যেন সরকারি অফিস নয়, একটি আবাসিক ব্যবস্থাই গড়ে উঠেছে।
লালমনিরহাটে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) জেলা (রিজিয়ন) কার্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে কয়েকজন কর্মচারী নিয়মিত অফিসেই অবস্থান করছেন। রান্নাবান্না থেকে রাত্রিযাপন—সবই চলছে সরকারি অফিসের ভেতরে।
‘আমি আগে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম। কিন্তু স্যার আমাকে ওই বাসা ছেড়ে দিয়ে অফিসে থাকতে বলেছেন। এ নিয়ে স্যারের সঙ্গে আমার প্রায়ই কথা হয়, আমি সেখানে থাকতে চাই না। কিন্তু স্যার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলেই সেখানে থাকি ও রান্না করে খাই’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিজস্ব ভবন না থাকায় একটি দোতলা ভবন ভাড়া নিয়ে বিএমডিএ-এর কার্যক্রম চলছে। অফিসের নিচতলায় মালামাল রাখার জন্য একটি স্টোর রুম বানানো হলেও সেখানে সরকারি মালামালের চেয়ে সাংসারিক জিনিসপত্রই বেশি। সাজানো বিছানা থেকে শুরু করে রান্নার সব ধরনের আসবাবপত্র সেখানে বিদ্যমান। নিচতলার এই কক্ষটি ব্যবহার করছেন খাইরুল ইসলাম নামের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তিনি মূলত সদর বিএমডিএ-এর দায়িত্বে থাকলেও, অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেলা অফিসের হিসাব নিয়ন্ত্রণের জন্য তাকে এখানে রাখা হয়েছে।
অফিসের দোতলায় গেলে যে কেউ চমকে উঠবেন। সামনে দুটি টেবিল, ভেতরে হিসাবরক্ষকের কক্ষ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কক্ষ তার পাশেই রয়েছে থাই গ্লাস দিয়ে ঘেরা নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হুদার একটি সুসজ্জিত বিশ্রামকক্ষ। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদানের পর থেকেই সেই কক্ষে তার রাত্রিযাপন ও রান্নাবান্না চলছে। তাকে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন বুয়াকে, যার বেতন দেওয়া হচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অফিসে এ নির্বাহী প্রকৌশলীর দেখভালের জন্য মাস্টার রোলে আরও তিনজন অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দিনে ও রাতে তারা পালাক্রমে ডিউটি করেন। এছাড়া, সরকারের দেওয়া গাড়িটি তিনি অনায়াসেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে বগুড়া পর্যন্ত যাতায়াতে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘আমি অফিসে রান্না করি। মিটিং থেকে শুরু করে স্যারের খাবার প্রয়োজন হলে রান্না করতে হয়। ওপরের রুমটিতে স্যার রেস্ট করেন এবং রাতে ঘুমান’
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রফিকুল ইসলাম বলেন, অফিসটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে তিন বছর আগে। স্যার মাঝেমধ্যে ভেতরের কক্ষটি রেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আশপাশে কোনো বাসা ভাড়া নেননি, যেদিন অফিস করেন সেখানেই থাকেন। আমাদের রান্না করার জন্য একজন খালা আছেন।
খাইরুল ইসলামের বিষয়ে তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার বাড়ি, তিনিও বাসা ভাড়া না নিয়ে অফিসের নিচতলায় থাকেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে ক্যাশ শাখা নিয়ন্ত্রণ করেন। এবং রাতে অফিস পাহারা দেন।
অস্থায়ী কর্মচারী মিঠুন চন্দ্র রায় জানান, আমরা চারজন অস্থায়ী কর্মী এখানে আছি। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পালাক্রমে ডিউটি করি। স্যারের কক্ষের পাশে থাকা-খাওয়ার যে সুব্যবস্থা রয়েছে, মূলত সেখানেই নির্বাহী প্রকৌশলী থাকেন। আর নিচের রুমে আমাদের অ্যাকাউন্ট্যান্ট থাকেন।
রান্নার দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী কর্মী ময়না বেগম বলেন, আমি অফিসে রান্না করি। মিটিং থেকে শুরু করে স্যারের খাবার প্রয়োজন হলে রান্না করতে হয়। ওপরের রুমটিতে স্যার রেস্ট করেন এবং রাতে ঘুমান।
অফিসের সামনের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মানিক মিয়া জানান, খাইরুল ইসলাম ও ময়না বেগম প্রায়ই তার দোকান থেকে অফিসের জন্য শাকসবজি ও বাজার নিয়ে যান। নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদানের পর থেকেই এ কেনাকাটা চলছে।
অফিসে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী খাইরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ছুটি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসেছি। আমি আগে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম। কিন্তু স্যার আমাকে ওই বাসা ছেড়ে দিয়ে অফিসে থাকতে বলেছেন। এ নিয়ে স্যারের সঙ্গে আমার প্রায়ই কথা হয়, আমি সেখানে থাকতে চাই না। কিন্তু স্যার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলেই সেখানে থাকি ও রান্না করে খাই।
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ব্যবহারবিধি অনুযায়ী, সরকারি অফিস কক্ষ বা চত্বর কোনোভাবেই বসবাসের স্থান নয়। সেখানে রান্নার সরঞ্জাম বা শোয়ার ব্যবস্থা রাখা সরকারি স্থাবর সম্পত্তি ও কর্মপরিবেশের নিয়মের চরম বরখেলাপ। অফিসে রান্নার চুলা ব্যবহার মারাত্মক অগ্নিঝুঁকি তৈরি করে, যা সরকারি নিরাপত্তা বিধানের পরিপন্থি। দাপ্তরিক জরুরি ডিউটি বা নাইট গার্ড ছাড়া অন্য কোনো কর্মীর অননুমোদিত রাত্রিযাপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট বিএমডিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হুদা বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে ভূমি বরাদ্দের আবেদন করেছি, তাই আপাতত ভাড়া ভবনে আছি। জনবল সংকটের কারণে অফিস পাহারার জন্য কয়েকজনকে মাস্টার রোলে রাখা হয়েছে।
থাকা ও রান্নার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয়। দূর থেকে কোনো অফিসার আসলে বা রাত হয়ে গেলে তাদের থাকার জন্য এ ব্যবস্থা। ওপরের ও নিচের বেডরুমগুলো আমার নয়, গেস্টদের জন্য রাখা হয়েছে। আমার থাকার বিষয়টি সঠিক নয়, তবে অফিস চলাকালীন দুপুরে বাইরের হোটেলের খাবার খাই না বলে এখানে রান্না হয়।
উল্লেখ্য, কৃষকদের সেচ ও ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে কুড়িগ্রাম থেকে আলাদা করে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে লালমনিরহাটে বিএমডিএ-এর জেলা কার্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু সেবার মান বাড়ানোর বদলে সরকারি অফিসের এমন অপব্যবহার সচেতন মহলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এমআইএসএন/কেএইচকে/জেআইএম
সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় এখনো হয়নি: ডা. তাহের
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এবং সমমনা ১১ দল জনগণের মৌলিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে আছে। সরকারকে সতর্ক করার আন্দোলন, জনগণকে সচেতন করার আন্দোলন। আমরা সব সময় আন্দোলনে আছি, আন্দোলনে থাকব। জাতীয় সংসদেও আমাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, সরকার পতনের মতো চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় এখনো হয়নি। মানুষের দাবি বা সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যে পরিমাণের চাপ সৃষ্টি করার দরকার, সেটা আমরা করছি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কালিকাপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে এসব কথা বলেন ডা. তাহের।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ।
এর আগে তিনি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখেন।
এসআর/জেআইএম
নকশায় থাকলেও ৫০ মিটার বাদ রেখে সড়কের কাজ শেষ করার প্রস্তুতি
নওগাঁর বদলগাছীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় পুরো সড়ক অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবে শেষ প্রান্তের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে না। সরকারি নথিতে প্রকৃত গ্রামের নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘নওগাঁ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫৮ টাকা ব্যয়ে মিঠাপুর পুরাতন হাটখোলা থেকে উজালপুর গ্রাম ইউনিব্লক সড়ক পর্যন্ত ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং প্রায় তিন মিটার প্রস্থের একটি পাকা সড়ক নির্মাণের প্রকল্প ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গেজেটভুক্ত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশায় পুরো ৫৫০ মিটার সড়ক থাকলেও কাজ শুরুর পর দেখা যায়, শেষের প্রায় ৫০ মিটার অংশ কাঁচা রেখেই নির্মাণকাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ওই অংশে বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া প্রকল্প-সংক্রান্ত সরকারি নথিতে সড়কের শেষ প্রান্ত ‘জগপাড়া’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই এলাকায় ‘জগপাড়া’ নামে কোনো গ্রাম বা পাড়া নেই। প্রকৃত নাম ‘উজালপুর’। এ ধরনের নাম পরিবর্তন ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।
উজালপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রণব মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাত্র ৫০-৬০ মিটার রাস্তা বাদ দেওয়ায় পুরো সড়কের সুবিধাই অনেকটা নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টি হলে কাঁচা অংশে কাদা জমবে, তখন মানুষের চলাচল ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হবে। বাদ দেওয়া অংশটি ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে আবারও সরকারি অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।’
কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর মেসার্স সবুজ সাথী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান মারুফ বলেন, ‘এস্টিমেটে ৫৫০ মিটার রাস্তার কথা আছে। তবে একটি ছোট অংশ বাদ রয়েছে। বিষয়টি টেন্ডারেও ছিল না। কেন বাদ গেছে, তা আমি জানি না। আবার এক ব্যক্তি তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ করায় কাজেও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বদলগাছী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহারিয়ার বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে অন্য কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে বাদ পড়া অংশের কাজ করা যেতে পারে। তবে শুরুতেই কেন ওই অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’
গ্রামের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, নথিপত্র দেখে বিষয়টি বলতে হবে।
নওগাঁ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মুনসুর আলী বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
আরমান হোসেন রুমন/এসআর/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ হকার পুনর্বাসনের স্থান গুঁড়িয়ে দিলো রেলওয়ে, ক্ষুব্ধ নাসিক প্রশাসক
- ২ রেজিস্ট্রার অফিসের খাবার টেবিলে ঘুসের লেনদেন, ছবি ভাইরাল
- ৩ মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ পাঁচ মাদক কারবারি আটক
- ৪ বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, ইমাম গ্রেফতার
- ৫ আদালতের সিদ্ধান্তে অপরাধী হাতি ফিরে যাচ্ছে মালিকের কাছে