রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন—পর্দার আড়ালে কি তবে বড় কোনো ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চূড়ান্ত হয়ে গেছে? ৫ আগস্ট কি তবে সত্যিই শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দিন হতে যাচ্ছে? অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধীর ‘পুষ্প-কূটনীতি’
সাধারণত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিজেপি এবং কংগ্রেসের অবস্থান দা-কুমড়া হলেও বাংলাদেশের ইস্যুতে ভারতের ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রদর্শনের এই চিত্র বিরল। দুই নেতার শেখ হাসিনার সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে ভারত সরকার ও বিরোধী দল একটি অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে ভারতকে তাঁর পাশে থাকার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডা. দেবী শেঠির দিল্লি মিশন: নিছক স্বাস্থ্য পরীক্ষা নাকি সফরের প্রস্তুতি?হঠাৎ করেই ব্যাঙ্গালুরু থেকে ডা. দেবী শেঠির দিল্লিতে উড়ে আসা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ৭৬ বছর বয়সী শেখ হাসিনার হার্টে এর আগেও সমস্যা ছিল। কোনো দীর্ঘ বিমান যাত্রা বা বাংলাদেশে ফেরার মতো বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক ধকল নেওয়ার আগে তাঁর স্বাস্থ্যের ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ নিতেই কি বিশ্বখ্যাত এই কার্ডিয়াক সার্জনকে আনা হয়েছে? নাকি এটি স্রেফ মানবিক গ্রাউন্ডে কোনো বড় সিদ্ধান্তের আগে শেষ মুহূর্তের সতর্কতা?
৫ আগস্টের সেই প্রেস কনফারেন্স ও শাকিব ফ্যাক্টর-আগামী ৫ আগস্ট ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকছেন বরপুত্র সাকিব আল হাসান ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংবাদ সম্মেলনটি হবে শেখ হাসিনার ‘রাজনৈতিক কামব্যাক’-এর প্ল্যাটফর্ম। যেখানে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ দর্শন এবং দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। সাকিব আল হাসানের মতো গ্লোবাল আইকনকে প্যানেলে রাখা হয়েছে তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার জন্য।
পর্দার আড়ালে কী ঘটছে?কূটনৈতিক একটি সূত্রের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্দার আড়ালে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা বিএনপি সরকার (২০২৬-এর প্রেক্ষাপট অনুযায়ী), ভারত এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে একটি ‘ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা’ (Tripartite Deal) হয়েছে। হয়তো কোনো বিশেষ শর্তে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ভারতের দুই প্রধান দলের নেতাদের সমর্থন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
অপেক্ষা ৫ আগস্টের-অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধীর হাতে ফুলের তোড়া আর ডা. দেবী শেঠির স্টেথোস্কোপ—সবই যেন একটি বিন্দুর দিকেই ইঙ্গিত করছে। আর তা হলো শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। তবে তিনি কি সাধারণ নাগরিক হিসেবে ফিরছেন, নাকি ফের রাজনীতির হাল ধরতে—তার উত্তর মিলবে ৫ আগস্টের সেই কাঙ্ক্ষিত সংবাদ সম্মেলনে।
এখন প্রশ্ন একটাই—দিল্লির এই গোপন তৎপরতা কি তবে ঢাকার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে যাচ্ছে?
All reactions:
1 comment
6 shares
Like
Comment
Share
All comments
Razaul Karim
ইনশাআল্লাহ জয় বাংলা