• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

কবি নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়া: রিজভী

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ৩১ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২১:৩৬, ৩১ জুলাই ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কবি নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়া: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহম্মেদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭৬ সালে দেশে এনে নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ এমনকি ২০২৪এর আন্দোলনে নজরুলের গানেই জাতি জেগে উঠেছে। শুধু শহর নয় প্রতিটি গ্রাম গঞ্জে নজরুলের আর্দশ ছড়িয়ে দিতে হবে। 

তিনি বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহী কবি নয়, তিনি যেমন খোদা ভিরু কবি তেমনি প্রেমের কবি। তিনি হিন্দু মুসলিম সকলের কবি। তিনি শ্যামা সঙ্গীত লেখার পাশাপাশি ইসলামী সঙ্গীত ও রচনা করেছেন। আমরা তার সাহিত্য থেকে ন্যায় অন্যায় বোধ শিখছি। 

রিজভি আরো বলেন, ‘কোন ভাবে যদি পরাজিত শক্তির উত্থান হয় কেউ কিন্তু স্থির থাকতে পারবেন না। কেউ নিরাপদে থাকতে পারবেন না। যারা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করার চেষ্ঠা করছেন তা করতে পারবেন না। বরং ঘোলা পানির মধ্যে আপনেরাও পরে যাবেন। আপনারা যা করছেন তাতে মনে করছেন শুধু বিএনপিই খাদে পড়বে। না শুধু বিএনপিই না আপনারাও বিপদে পড়বেন। এগুলো বাদ দিয়ে আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমস্যা সমাধানের আহবান জানান, এই নেতা।’

নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজ। 

জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আহমুদুল হক চৌধুরী স্বপনের সঞ্চালনায় কবি কাজি নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ও নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক যথাক্রমে ড. মুন্সি আবু সাইফ ও মোঃ গোলাম মোস্তফা। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী পারভেজুর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারযদি আবার আসে আমরা কেউ ঘরে থাকতে পারবোনা। ফ্যাসিস্ট আসলে দেশের গনতন্ত্র আবার বিপন্ন হবে বলে মনে করেন এই নেতা। তাই সকল নেতা-কর্মীদের সজাগ থেকে তাদের প্রতিহত করার আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহা সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ  অনুষ্ঠানের আগে নাটোর চিনিকল পরিদর্শন করেন। এ সব কোন কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় দুজন ক্যাশিয়ার ও সিবিএ সাধারণ সম্পাদক তাকে চিনিকলে স্বাগত জানান।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশিত: ২১:৫১, ২৪ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদের আত্মপ্রকাশ

ছবি: সভাপতি- ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান (বায়ে) ও সাধারণ সম্পাদক- কবি এনামুল হক জুয়েল (ডানে)

শব্দে জাগরণ, কণ্ঠে বাংলাদেশ মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিয় মিয়া হলে দেশের আবৃত্তিশিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন এবং সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদের আনুষ্ঠানিক আত্নপ্রকাশ ঘটেছে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসাস নির্বাহী কমিটির আহবায়ক, চিত্রনায়ক হেলাল খান ও প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, জাসাসের যুগ্ম আহবায়ক প্রকৌশলী জাকির হোসেন।  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে সভাপতি এবং কবি এনামুল হক জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সদ্যবিদায়ী আহবায়ক আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ। এরপর এক যৌথ ঘোষণায় বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে আবৃত্তি একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কবিতা ও আবৃত্তি মানুষের চেতনা, সাহস ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তাঁদের সম্মিলিত শক্তিকে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত করে আবৃত্তি শিল্পের উন্নয়ন, ভাষার শুদ্ধ চর্চা, সাহিত্যপ্রেম ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ কাজ করবে।

সংগঠনটি শিশু, কিশোর ও তরুণদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, উৎসব এবং নেতৃত্ব বিকাশমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাশাপাশি জাতীয় শিশু আবৃত্তি একাডেমি, জাতীয় শিশু আবৃত্তি অলিম্পিয়াড, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আবৃত্তি নেটওয়ার্ক, জাতীয় আবৃত্তি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ডিজিটাল আবৃত্তি উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রবীণ আবৃত্তিশিল্পীদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ, আজীবন সম্মাননা, ফেলোশিপ, ডিজিটাল আর্কাইভ এবং মেন্টরশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষক তৈরির জাতীয় কর্মসূচি, গবেষণা, প্রকাশনা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, মূল্যায়ন ও সনদায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষা ও আবৃত্তিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব, অনলাইন প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশের সকল আবৃত্তিশিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যম, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংস্কৃতিপ্রেমী নাগরিকদের এই জাতীয় উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিভি/এমআর

না ফেরার দেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী

প্রকাশিত: ১৭:১৪, ১৯ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
না ফেরার দেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের সার্জিক্যাল আইসিইউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যাসহ মাল্টি অর্গান ফেইলিয়র নিয়ে ২৩ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাসায় ফিরে প্রায় দুই সপ্তাহ কিছুটা সুস্থ ছিলেন। ফের সমস্যা বাড়তে থাকায় ৪ জুন উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে ১৫ জুন পর্যন্ত রাখা হয়। 

বাড়িতে নিয়ে আসার একদিন পরেই অসুস্থ হয়ে পরায় ১৬ জুন ফের উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ৮৬ বছর বয়সী আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন। এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে শয্যাসায়ী। আল মুজাহিদী একসময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

সাহিত্যের সকল শাখায় বিচরণকারী এই গুণী ব্যক্তিত্ব ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কবিতা, উপন্যাস, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্যে অসংখ্য কালজয়ী কাজ উপহার দিয়েছেন।

হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’, ‘যুদ্ধ নাস্তি’, ‘মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা’ প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। ‘প্রথম প্রেম’, ‘চাঁদ ও চিরকুট’, ‘প্রপঞ্চের পাখি’ - উপন্যাস ও গল্প ।

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’ ছাড়াও জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

বিভি/এজেড

নেত্রকোণায় বাংলা কবিতায় আবিদ আজাদের স্বর ও স্বাতন্ত্র্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণা প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৮:১৮, ৮ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৮:৪৭, ৮ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নেত্রকোণায় বাংলা কবিতায় আবিদ আজাদের স্বর ও স্বাতন্ত্র্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আধুনিক বাংলা কবিতায় আবিদ আজাদের স্বর ও স্বাতন্ত্র্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ভবনে আয়োজিত এ সেমিনারে কবি আবিদ আজাদের কাব্যভাষা, চিন্তাজগৎ ও আধুনিক বাংলা কবিতায় তার স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন।

মুখ্য আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাহফুজা মাহবুব।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নীলান্তি নওশীন, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক কাব্য কৃত্তিকাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় আয়োজিত এ সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাহিত্যপ্রেমীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

বিভি/এসজি

ছেঁড়া শাড়ি, কাঁধে পুটুলি: কণ্ঠের জাদুতে ভাইরাল লাইলী

ফরিদপুর প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৭:১০, ২ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ছেঁড়া শাড়ি, কাঁধে পুটুলি: কণ্ঠের জাদুতে ভাইরাল লাইলী

পরনে ছেঁড়া শাড়ি, কাঁধে ঝুলছে ছোট্ট পুটুলি। এলোমেলো চুল, মুখে জীবনের কষ্টের ছাপ। দেখলে হয়তো অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে যেতেন। কিন্তু সেই মানুষটিই তার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ করছেন হাজারো মানুষকে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ফরিদপুরের লাইলী বেগম এখন প্রশংসায় ভাসছেন দেশজুড়ে। শুধু নেটিজেনদের আলোচনাতেই তিনি সীমাবন্ধ নেই; সরকারি দপ্তর থেকে রাজনৈতিক মহল সবাই এখন তার খোঁজখবর নিচ্ছে। 

ভবঘুরে সহজাত শিল্পী লাইলী বেগমের বয়স ৬০। শহরের আলীমুজ্জামান ব্রীজের বিসর্জন ঘাটের পাশে একটি ছাপড়া ঘরে থাকেন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ঘর ছেড়ে চলে এসেছেন এখানে। শহরের অলিগলি, হাটবাজার কিংবা মেলার মাঠ যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই গান গেয়েছেন তিনি। কখনো লোকগান, কখনো লালন, কখনো আবার নজরুলসংগীত। কিন্তু দারিদ্র্য আর জীর্ণ পোশাকের কারণে অনেক সময় অপমানও সহ্য করতে হয়েছে তাকে। 

গত ২৪ মে ফরিদপুরের ময়েজমঞ্জিলে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তার কণ্ঠে ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল’ গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বদলে যায় সবকিছু। রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন এই ভবঘুরে শিল্পী। এখন রাস্তায় দেখা হলেই মানুষ অনুরোধ করেন একটু গান শোনাতে।

লাইলী বেগমের পৈত্রিক বাড়ি নাটোরে। ছোটবেলায় হারিয়েছেন নিজের মা-বাবাকে। ফরিদপুরে পালক মায়ের স্নেহে বড় হওয়া এই নারী সেখান থেকেই গান শেখার হাতেখড়ি পান। জীবনের নানা ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গানকেই বেছে নিয়েছেন সঙ্গী হিসেবে।

জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষও এখন খোঁজ নিচ্ছেন তার। তবে লাইলীর কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়- গান। তার ভাষায়, গানই মানুষের আত্মার খোরাক যোগায়।

বিভি/এসজি