বিজ্ঞাপন

নিয়ম বদলে অছাত্র ভিপিকে হলে রাখার অভিযোগ জাবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে

341 Shares
facebook sharing button
অ+
অ-
নিয়ম বদলে অছাত্র ভিপিকে হলে রাখার অভিযোগ জাবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদসমূহের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বরাদ্দকৃত হলে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রত্ব শেষ হওয়া জাকসু ভিপিকে হলে রাখার সুযোগ দিতেই আবাসন বিধিতে পরিবর্তন আনার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, জাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পদের মেয়াদ বহাল থাকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বরাদ্দকৃত হলে অবস্থান করতে পারবেন।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। নতুন এই নিয়ম নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি)-এর ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থান করা নিয়ে পূর্বে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এখন প্রশাসন সেই বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতেই তড়িঘড়ি করে নিয়ম সংশোধন করেছে কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অসংগত ও নিয়মবহির্ভূত উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। তিনি জানান, জাকসুর পক্ষ থেকে এমন কোনো সুবিধার দাবি জানানো হয়নি; বরং ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর হল ত্যাগ করাই দীর্ঘদিনের নিয়ম। নিয়মবহির্ভূত এই অফিস আদেশের ফলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরাও হলে থাকার সুযোগ পাবে, যা ক্যাম্পাসে নতুন করে আবাসন সংকট তৈরি করবে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে এই আদেশ বাতিলের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাকসু বডির সাথে কোনো আলোচনা না করেই প্রশাসন নজিরবিহীন ও দুঃখজনক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গঠনতন্ত্র সংশোধন না করে জারি করা এই আদেশটি জাকসুর মূল নীতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে মূলত হলে অবৈধ অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন স্বপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর জাকসু নেতাদের এই সুবিধার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, জাকসুর প্রতিনিধিরা আবেদন না করা সত্ত্বেও প্রশাসন স্বপ্রণোদিত হয়ে এই সুবিধা দিয়েছে। অথচ কিছুদিন পূর্বেও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অজুহাতে ছাত্রদলের শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের এমন দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিশেষ সুবিধার দাবি জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, দায়িত্ব পালনের স্বার্থে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে ছাত্রত্ব শেষ হলেও হলে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিষয়েও প্রশাসনের একটি স্পষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তবে এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর সরাসরি পরিপন্থি। অধ্যাদেশের ৫ (ট) ধারা অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র, চিকিৎসা ও গ্রন্থাগার কার্ড ফেরত দিয়ে আবাসিক হল ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় শাস্তি হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত রাখার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। জাকসু ভিপি ড্রপ আউট হওয়ায় কার্যত তার ছাত্রত্ব নেই।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্নাতকোত্তর চলাকালীন এক বছর ড্রপ দিয়েছিলেন তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে ভিপি নির্বাচিত হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ৫০৪ নম্বর কোর্স সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন তিনি।

পূর্বের এক মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যমান নিয়মে ছাত্রত্ব শেষ হলে কারও হলে থাকার বৈধতা নেই। পরীক্ষা শেষের এক সপ্তাহের মধ্যে হল ছাড়ার বিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রনেতা বা জাকসু প্রতিনিধি সবার জন্যই একই নীতি প্রযোজ্য হবে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য জানতে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও  তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনটি/আরকে