• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিএনপি নেতা ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের ফেক ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ২৮ জুলাই ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিএনপি নেতা ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের ফেক ভিডিও ভাইরাল

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেন আজাদের একটি ফেক ভিডিও ভাইরাল করেছে একটি কুচক্রি মহল। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলের আইডি থেকে এই ফেক ভিও প্রচার করা হচ্ছে। যদিও এই ভিডিওতে শুধুমাত্র দু-একটি স্থির ছবিকে ভিডিও তৈরি করে এ প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ভিন্ন কিছু ছাত্র সংগঠনের পেজ থেকে এসব ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন- সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এবার তার পাল্টা হিসেবে ফরহাদ হোসেন আজাদকে টার্গেট করা হয়েছে। গত ২০ জুলাই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ওই ঘটনায় মারাত্মকভাবে ইমেজ সংকটে পড়া জামায়াতের নেতাকর্মীরা এবার বিএনপির নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদকে টার্গেট করা হয়েছে। আজাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিওতে একজন নারীর ছবি দেখা গেলেও তার মুখমন্ডল দেখা যায় না। স্থানীয় ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমেও ওই ভিডিওর সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ ছাত্রদলের সোনালী অতীত। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার রাজনীতিকে কলঙ্কিত করতেই একটি চিহ্নিত মহল উঠেপড়ে লেগেছে। 

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তাঁর ভাষ্য, এটি রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারে।”

ভাইরাল পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি একটি কোলাজধর্মী ছবি। এতে একটি আপত্তিকর দৃশ্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পৃথক একটি প্রতিকৃতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ছবিটির বিভিন্ন অংশে আলো-ছায়া, মুখাবয়ব, শরীরের অনুপাত এবং ডিজিটাল সম্পাদনার কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। তবে কেবল দৃশ্যগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ ধরনের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা উন্নত সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি এবং জনপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ডিজিটাল কারসাজি ক্রমশ বাড়ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পরামর্শ, কোনো ভাইরাল ছবি বা ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজন হলে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। যাচাইহীন তথ্য প্রচার ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

হাসনাত-সারজিস গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করায় উপদেষ্টা হতে পারেনি: রাশেদ খান

প্রকাশিত: ১৪:০৬, ২৮ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৪:০৬, ২৮ জুলাই ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হাসনাত-সারজিস গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করায় উপদেষ্টা হতে পারেনি: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান দাবি করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছিলেন। আর এ কারণেই তারা ছাত্র উপদেষ্টা হতে পারেননি। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

রাশেদ খান বলেন, ‘জুলাই মাসে আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচার ও শহীদদের স্মৃতিচারণ করার জন্য জুলাই পদযাত্রা নামক কর্মসূচি হাতে নেয় এনসিপি। কিন্তু তাদের নেতাদের মুখে আওয়ামী লীগের বিচারের বক্তব্য শোনা যায় না, তারা সারাক্ষণ বিএনপির পতন বা বিএনপির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের হুমকি দিচ্ছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের একটি অডিও থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ওই অডিওর বরাত দিয়ে রাশেদ খান বলেন, সেখানে এমন বক্তব্য রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসনাত ও সারজিস আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘নাহিদ ইসলাম ১ নম্বর সমন্বয়ক এবং আসিফ মাহমুদ ৪ নম্বর সমন্বয়ক হয়েও ছাত্র উপদেষ্টা হয়েছেন। কিন্তু ২ ও ৩ নম্বর সমন্বয়ক হওয়া সত্ত্বেও সারজিস ও হাসনাত উপদেষ্টা হতে পারেননি।’

রাশেদ খানের ভাষ্য, ৭ আগস্ট রাতে একজন ছাত্র উপদেষ্টা তাকে বলেছিলেন, ‘হাসনাত-সারজিস জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।’ সেই বক্তব্যের সূত্র ধরেই তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করার কারণেই তারা ছাত্র উপদেষ্টা হওয়ার সুযোগ পাননি। তবে তাদের পেছনে থেকেও আসিফ মাহমুদ ছাত্র উপদেষ্টা হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিভি/এসজি

জুলাই ব‍্যর্থ হলে ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা হতো বাংলাদেশে: মজিবুর রহমান মঞ্জু

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ২৭ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৬:৩৪, ২৭ জুলাই ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জুলাই ব‍্যর্থ হলে ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা হতো বাংলাদেশে: মজিবুর রহমান মঞ্জু

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে দেশের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল ও শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হতো। বহু সাংবাদিক গুম, কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হতেন। শুধু তাই নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনা পরিবারের ‘শেখতন্ত্র’ বা ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি’ শীর্ষক এবি পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজীব আহাম্মদ, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, এবিএম খালিদ হাসান এবং ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলী।

সমাপনী বক্তব্যে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার মোবাইল জার্নালিস্টদের জুলাইয়ের সেই দুঃসাহসিক দিনগুলোর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছয়জন সাংবাদিককে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু ২০১৩ সালের ৫ মে আলেম-ওলামাদের আন্দোলন দমনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এরপর দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, দৈনিক আমার দেশ ও একুশে টেলিভিশন কীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও তার সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সে বিষয়ে জাতি এখনো কোনো স্পষ্ট জবাব পায়নি।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে গণমাধ্যমকর্মীরা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন—আওয়ামী ব্লক ও অ্যান্টি-আওয়ামী ব্লক। এখন তারা বিএনপি ব্লক, জামায়াত ব্লক এবং পলাতক-গুপ্ত আওয়ামী ব্লক—এই তিন ধারায় বিভক্ত। জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে শুধু জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করলেই চলবে না; নির্বাচন কমিশনে চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোতে দলীয় নিয়োগ এবং সরকারি দল হিসেবে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা থেকে সরে আসার বিষয়েও প্রশ্ন তুলতে হবে।

সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অন্যতম। আবু সাঈদের ছবি এবং আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিকরাই আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা ও করপোরেট মিডিয়াকে এক করে দেখা উচিত নয়। করপোরেট মিডিয়ার একটি বড় অংশ ফ্যাসিবাদী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সংবাদ সেন্সর করেছে। তিনি আরও বলেন, মোবাইল জার্নালিস্টদের ধারণ করা ভিডিও, ছবি ও অন্যান্য আলামত ভবিষ্যতের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ৫ আগস্টের পরও রাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি।

দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোবাইল জার্নালিস্ট, ফটোসাংবাদিক ও মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরাই সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওচিত্র ও তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ অনেক তথাকথিত সিনিয়র সাংবাদিক অফিসে বসে তথ্য গোপন করেছেন। তিনি শহীদ সাংবাদিকদের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, মোবাইল জার্নালিজমের স্বীকৃতির দাবি প্রথম তাঁদের দলই জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে। তিনি সব সাংবাদিকের অধিকার, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মূলধারার সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় সংকটে তাঁরা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, সেই প্রশ্ন নিজেদেরই করা উচিত।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবাদিক নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা, যার অন্যতম উদাহরণ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড। তিনি জুলাই গণহত্যায় নিহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের ঘটনার বিচার পৃথক ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানান।

দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের বিষয়টি যথাযথভাবে আলোচিত হয়নি। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের আগে অন্য কোনো গণআন্দোলনে সাংবাদিকদের শহীদ হওয়ার এমন নজির ছিল না এবং এলিট শ্রেণির সাংবাদিকরা তুলনামূলক কম ঝুঁকি নিয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেন।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজীব আহাম্মদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সম্পর্কিত অধিকাংশ ভিডিও, ছবি ও নথি মোবাইল জার্নালিস্টদের অবদানে সংরক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে এখনো গণমাধ্যমের অনীহা রয়ে গেছে এবং ২০২৪ সালের শিক্ষা সাংবাদিক সমাজ পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়াজ-এর সম্পাদক সাইফ আল তুহিন, ঢাকা ডিজিট-এর আইয়ুব আলী, আরটিভির সংবাদকর্মী জনী, আবুল হোসেন হৃদয়, স্পষ্টবাদী-এর প্রতিনিধি, শীর্ষ নিউজ-এর হেলাল মিয়া, সমকাল-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল রাজু, সংবাদকর্মী এম আর আমিন, সাহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ এবং সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।

বিভি/পিএইচ

বিরোধী রাজনৈতিক জোটে ঐক্যের পরিবর্তে ভাঙনের প্রবণতা: রাশেদ খাঁন

প্রকাশিত: ১৫:২৮, ২৭ জুলাই ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিরোধী রাজনৈতিক জোটে ঐক্যের পরিবর্তে ভাঙনের প্রবণতা: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকারের পতন নিয়ে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক জোটে ঐক্যের পরিবর্তে ভাঙনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, সম্প্রতি খেলাফত মজলিস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আগে যে জোটকে ১১ দলীয় বলা হতো, তা এখন ৯ দলীয় অবস্থায় নেমে এসেছে। তার মতে, এটি বিরোধী জোটের দুর্বলতার ইঙ্গিত।

তিনি আরও দাবি করেন, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ অতীতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্তের পেছনে জামায়াতের সম্ভাব্য লাভ-লোকসানের হিসাবও বিবেচনায় ছিলো।

এ ছাড়া রাশেদ খাঁন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

রাশেদ খাঁনের মতে, বিরোধী শিবিরে ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তির প্রবণতাই বর্তমানে বেশি দৃশ্যমান।

বিভি/এআই

জামায়াত আমিরের বক্তব্য মিথ্যাচার, বিএনপি ফ্যাসিবাদ নয়: মির্জা ফখরুল

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশিত: ১২:১৪, ২৭ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১২:১৫, ২৭ জুলাই ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জামায়াত আমিরের বক্তব্য মিথ্যাচার, বিএনপি ফ্যাসিবাদ নয়: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতাবিবর্জিত এবং যারা এমন মন্তব্য করছেন, তাদের বিএনপির গঠনতন্ত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। এ কারণে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিএনপির গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহ্বান জানান।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিআরডিবির রংপুর বিভাগীয় দপ্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “বিএনপি পাঁচবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, কোনো ধরনের জুলুম বা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতায় আসেনি। তাই বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল বলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের অপলাপ।”

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটি নেবে। দল যাকে সবচেয়ে যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো মন্তব্য নেই বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিছু পরিকল্পনা করছে। এটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বিষয়। এ প্রক্রিয়ায় বিএনপি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না।

উত্তরাঞ্চলকে কৃষিতে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কথা জানান তিনি। বলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এর আগে সকালে রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিআরডিবির বিভাগীয় দপ্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এবং ঋণের চেক বিতরণ করেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিআরডিবির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সচিব, বিআরডিবির মহাপরিচালক, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিআরডিবির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয় এবং উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

বিভি/পিএইচ

সর্বাধিক পঠিত