প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম (ভিজিট : ০)

X
মেলেনি সত্যতা, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে জড়িয়ে একটি আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি ঘিরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তাঁর ভাষ্য, এটি রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে।
তিনি বলেন, “ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারে।”
ভাইরাল পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি একটি কোলাজধর্মী ছবি। এতে একটি আপত্তিকর দৃশ্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পৃথক একটি প্রতিকৃতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ছবিটির বিভিন্ন অংশে আলো-ছায়া, মুখাবয়ব, শরীরের অনুপাত এবং ডিজিটাল সম্পাদনার কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। তবে কেবল দৃশ্যগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ ধরনের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা উন্নত সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি এবং জনপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ডিজিটাল কারসাজি ক্রমশ বাড়ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পরামর্শ, কোনো ভাইরাল ছবি বা ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজন হলে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। যাচাইহীন তথ্য প্রচার ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।