ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ জুলাই ২০২৬ ||  শ্রাবণ ১৩ ১৪৩৩ || ১৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিএনপি নেতা ফরহাদের ফেক ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: ২২:২৯, ২৮ জুলাই ২০২৬   আপডেট: ২২:৪৪, ২৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

বিএনপি নেতা ফরহাদের ফেক ভিডিও ভাইরাল

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেন আজাদ।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেন আজাদের একটি ফেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলের আইডি থেকে এই ফেক ভিও প্রচার করা হচ্ছে। যদিও এই ভিডিওতে শুধুমাত্র দু-একটি স্থির ছবিকে ভিডিও তৈরি করে এ প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ভিন্ন কিছু ছাত্র সংগঠনের পেজ থেকে এসব ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এবার তার পাল্টা হিসেবে ফরহাদ হোসেন আজাদকে টার্গেট করা হয়েছে। গত ২০ জুলাই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ওই ঘটনায় মারাত্মকভাবে ইমেজ সংকটে পড়া জামায়াতের নেতাকর্মীরা এবার বিএনপির নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদকে টার্গেট করা হয়েছে। আজাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিওতে একজন নারীর ছবি দেখা গেলেও তার মুখমন্ডল দেখা যায় না। স্থানীয় ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমেও ওই ভিডিওর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, “ফরহাদ হোসেন আজাদ ছাত্রদলের সোনালী অতীত। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার রাজনীতিকে কলঙ্কিত করতেই একটি চিহ্নিত মহল উঠেপড়ে লেগেছে।”

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দাবি করেছেন, “ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।”

তার ভাষ্য, “এটি রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে।”

তিনি বলেন, “ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারে।”

ভাইরাল পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি একটি কোলাজধর্মী ছবি। এতে একটি আপত্তিকর দৃশ্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পৃথক একটি প্রতিকৃতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ছবিটির বিভিন্ন অংশে আলো-ছায়া, মুখাবয়ব, শরীরের অনুপাত এবং ডিজিটাল সম্পাদনার কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। তবে কেবল দৃশ্যগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ ধরনের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা উন্নত সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি এবং জনপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ডিজিটাল কারসাজি ক্রমশ বাড়ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পরামর্শ, কোনো ভাইরাল ছবি বা ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজন হলে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। যাচাইহীন তথ্য প্রচার ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা/নজরুল/এসবি

9 Shares
facebook-white sharing button
whatsapp-white sharing button
messenger-white sharing button
twitter-white sharing button
linkedin-white sharing button
email-white sharing button
sharethis-white sharing button
pinterest-white sharing button
0 LIKE
0 LOVE
0 LOL
0 WOW
0 SAD
0 ANGRY

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২২, ২৮ জুলাই ২০২৬  
সাতক্ষীরায় ৩২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। একই সময়ে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে— ৪০৬ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ১৮ হাজার ৬৫৪ পিস ইয়াবা, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ১ হাজার ৪৭০ পাতা সুখি বড়ি, ১৫ হাজার ৭৪৬টি মাদকজাতীয় ট্যাবলেট, ১ কেজি হেরোইন, ৮ বোতল (১০০ মিলি) ও ৬ বোতল (৫০ মিলি) এলএসডি এবং ২ দশমিক ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি সদস্য দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিজিবির খুলনা সেক্টরের কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ্ মো. আশরাফুল আলাম, শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জাহান কনকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় জব্দ করা প্রাণঘাতী মাদক ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

ঢাকা/শাহীন/রফিক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০০, ২৮ জুলাই ২০২৬  আপডেট: ২২:০৩, ২৮ জুলাই ২০২৬
জোড়া লাগা দুই শিশুকে বাঁচানোর আকুতি, টাকার অভাবে থেমে আছে চিকিৎসা

বাবার কোলে জয়নব ও উম্মে কুলসুম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রাম। এই গ্রামের দরিদ্র দম্পতি নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার। গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাদের দুই কন্যাশিশু—জয়নব ও উম্মে কুলসুম।

বর্তমানে তিন মাস বয়সী এই শিশুদের দুটি আলাদা মাথা, চার হাত ও চার পা থাকলেও বুক থেকে পেট পর্যন্ত অংশ একে অপরের সাথে শক্তভাবে লেগে আছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই দুই বোনকে আলাদা করা সম্ভব। তবে, সেই আশার আলো ফিকে হয়ে আসছে চরম আর্থিক অনটনে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপারেশন শুরুর আগে প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে শিশু দুটির শরীরে একাধিক জটিল পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন। জন্মের তিন মাস পর তাদের পুনরায় ঢাকায় এনে চিকিৎসা শুরুর কথা থাকলেও যাতায়াত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিপুল খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই পরিবারটির।

শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান আগে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে স্থানীয় একটি দোকানে সামান্য বেতনে চাকরি করেন।

তিনি বলেন, “ডাক্তাররা আশা দিয়েছেন, আমার মেয়েদের আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু, সেই চিকিৎসার বিশাল খরচ বহন করার কোনো সামর্থ্য আমার নেই। যেখানে সন্তানদের জন্য নিয়মিত দুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাব কীভাবে?”

শিশুদের মা সানজিদা আক্তার নিজেদের দৈনন্দিন কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, “ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন সামান্য নড়াচড়া করলেই অন্যজন কষ্টে কেঁদে ওঠে। সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের জন্য ওদের নিয়মিত ঢাকায় নিতে হবে, কিন্তু আমাদের সেই পথ এখন বন্ধ।”

শিশুদের স্বজন মাহতাব উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার খরচ সাধারণ কোনো পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর অবিলম্বে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”

দৌলতপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকলে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করার সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল হবে।

দৌলতপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানিয়েছেন, শিশু দুটির চিকিৎসায় উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি যেখানে জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে দুটি পৃথক সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে, সেখানে কেবল অর্থের অভাব যেন দেয়াল হয়ে না দাঁড়ায়।

ঢাকা/কাঞ্চন/রফিক

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২৮ জুলাই ২০২৬  আপডেট: ২২:৫৭, ২৮ জুলাই ২০২৬
বাংলায় কথা বলায় মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক

বাংলা ভাষায় কথা বলায় বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে জোরপূর্বক ভারতীয় নারীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে। পুশব্যাকের এমন অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বিগত ২০ বছর ধরে সাইদা ফকির তার স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে মুম্বাইতে গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেন।

সাইদা ফকির ১৯ জুলাই বাজার করতে গেলে তাকে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক করে মুম্বাই পুলিশ। এ সময় বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলেও তার দাবি কানো তোলেনি পুলিশ। মুম্বাই পুলিশ উল্টো পরিবারের সঙ্গেও তাকে যোগাযোগের সুযোগ দেয়নি।

পরিবারের তরফে সাইদা নিখোঁজ থাকায় পুলিশের দ্বারস্থ হলে জানতে পারে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আসামের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনায় আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের মাথায়।

পরিবার জানায়, কোনোরকম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই চার দিনের মাথায় ২৩ জুন আসাম সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয় সাইদাকে। বর্তমানে কোনোভাবে সিলেট হয়ে বসিরহাট সীমান্তের অদূরে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন তিনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখান থেকেই ভিডিও কলে ভারতে ফেরার আকুতি জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাইদা। এরপর তাকে দেশে ফেরাতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সাইদার ছেলে ও বৌমা।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সাইদার ভারতীয় নাগরিকত্বের সব ধরনের প্রমাণপত্র তুলে ধরা হয়। হাইকোর্ট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। পরিবার আপাতত পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

মাত্র একমাস আগেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসে পুশব্যাকের ভুক্তভোগী সোনালী বিবি ও তার পরিবার। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারেরকে রীতিমতো ভৎর্সনা করেছে আদালত। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার অপরাধে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে। কেন্দ্রের তরফে এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে যে সেই নির্দেশ এসে পৌঁছায়নি সাইদা বিবির ঘটনায় এই বিষয়টি আবারো পরিষ্কার হয়েছে।

সাইদার পুত্রবধূ রুপালি কারিগর এবং পুত্র সাইন ফকির বলেন, “আমরা আদালত ছাড়াও মানবাধিকার কমিশনে গিয়েছি। মায়ের ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত প্রমাণ সেখানে জমা দিয়েছি। আমার মাকে ফেরত পেতে চাই। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। আমরা ইতিমধ্যে প্রশাসনিক একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”
 

ঢাকা/শাহেদ

কক্সবাজার প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২৭, ২৮ জুলাই ২০২৬  আপডেট: ২১:৩৭, ২৮ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারে বনকর্মীদের ওপর হামলা: ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দখলদারদের হামলায় কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়।

কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সমিতি পাড়ার মৃত হোছনের ছেলে জসিম উদ্দিন, মো. আলমের ছেলে শাহাব উদ্দিন, মো. হোছনের ছেলে আব্দুল্লাহ, তাজল মুল্লুকের ছেলে জয়নাল, আবুল হোসেনের ছেলে নাজির হোসেন নাজু, শহর আলীর ছেলে আবু তাহের, মো. হাছনের ছেলে রাসেল, মোহাম্মদ নুরের ছেলে ওবায়দুল হক, আমির হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া, আবুল কাসেমের ছেলে আবছার, আব্দুল্লার ছেলে আতিক উল্লাহ, এজাহার মিয়ার ছেলে হাবিব আহমদ, মেহের আলীর ছেলে মীর আহমদ, ছৈয়দ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ নুর, আবুল হোসেনের ছেলে আমির হোসেন, জাগের হোসেনের ছেলে এনাম মিয়া, আবুল হোসেনের ছেলে ইসমাইলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ হামলা করা হয়।

বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে বনকর্মীরা অভিযান চালাতে গেলে স্থানীয় একদল দখলদার সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হয়। হামলায় বন বিভাগের অভিযানে ব্যবহৃত সরকারি সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা/তারেকুর/বকুল

কাজী লাবণ্য  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৭, ২৮ জুলাই ২০২৬  আপডেট: ২১:৩৬, ২৮ জুলাই ২০২৬
বিউটি রাণী, নারী সমাজ ও ভার্চুয়ালিটি

সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের ‘পর্দা আর দেয়াল’ দুটোই সরিয়ে দিয়েছে। এই পর্দা কিংবা দেয়াল সরানোর অর্থ একই স্ক্রীনে, একই মন্তব্য-ঘরে, একই স্ট্যাটাসের আলোয় সব কিছুই উদ্ভাসিত হওয়ার সুযোগ। তবে ডিজিটাল উম্মুক্ততার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নারীদের উপর। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নারীদের চার দেয়াল ডিঙিয়ে বিশ্বমঞ্চে কণ্ঠ তুলে ধরার অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে।

এতে একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে নিজেদের কথা স্বাধীনভাবে বলার সুযোগ, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে শালীনতার নাম করে নীতিপুলিশি আর ট্রোলিং-এর নতুন ভার্চুয়াল খাঁচা। অধিকার, শালীনতা ও স্বচ্ছন্দ্যের ত্রিমাত্রিক সমীকরণে সমাজে নারীর অবস্থান ঠিক কোথায় সেটিই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সাহিত্য, রাজনীতি, প্রতিবাদ কিংবা ব্যক্তিগত উপলব্ধি যে কোনো বিষয়ে নারী এখন নিজের ভালোলাগা, মন্দলাগা অর্থাৎ মতামত সরাসরি প্রকাশ করতে পারছেন। কোনো মিডিয়া, কোনো দল কিংবা কারো গেটকিপিং ছাড়াই কথা বলতে পারছেন, নিজেকে উপস্থাপন করতে পারছেন। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামকে কাজে লাগিয়ে হাজারো নারী ঘরে বসেই সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন। অর্থনৈতিক এই স্বাবলম্বিতা তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কিন্তু বাস্তব সমাজের মতোই ভার্চুয়াল জগতেও নারীদের প্রতিনিয়ত পার হতে হয় ‘শালীনতা’র এক অদৃশ্য পরীক্ষা। সমাজ যুগের পর যুগ ধরে কিংবা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শালীনতার যে সংজ্ঞা ঠিক করে রেখেছে, যে লক্ষ্মণরেখা এঁকে রেখেছে তা আজ এই সময়ে এসে অনেক বেশি চড়া সুর ধারণ করেছে; বলা যায় সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। পোশাক কেমন হবে, কথা বলার ঢং কেমন হবে, কতটুকু হাসা যাবে, কতখানি কাঁদা যাবে— এসবের ফ্রি পরামর্শ এবং নীতিশিক্ষার সমারোহ চলে ফেসবুকে এবং বাস্তবেও। অথচ শালীনতা কোনো পোশাক কিংবা ভঙ্গিতে সীমাবদ্ধ নয়।

শাড়ি পরা যাবে না, পরতে হবে তাদের নির্দেশিত ডিজাইনের জামা, হিজাব কিংবা বোরখা। চুল খোলা যাবে না, টিপ পরা যাবে না— এরকম আরও অনেক কিছু। সুযোগ পেলেই এসব কানুন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। অথচ নারীর স্বেচ্ছাসেবী রাখালেরা জানে না— শালীনতা ব্যক্তিত্বের লালন, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে আসে। শালীনতা আর পর্দাপ্রথার দোহাই দিয়ে নারীর চিন্তার স্বাধীনতা, বা পোশাক নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করার এই মানসিকতা মূলত তাদের উপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। শালীনতা ব্যাপারটি সমাজে নিক্তিপাল্লার ওজনে একই মাপে চর্চিত হয় না। তাতে কি! যার যার রুচি, বিশ্বাস এবং অনুশীলনের ব্যাপার। বাধ্যতামূলক চাপিয়ে দিলে শিকল হয়ে যাবার সম্ভাবনা নিশ্চিত। তখন তা হয়ে ওঠে অধিকার-পরিপন্থি। অনলাইন স্পেসকে নারীর জন্য সুস্থ, নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে সাইবার আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি আমাদের মানসিকতার পরিণত রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।

নিজেদের মতো করে বাঁচা, চলাফেরা, বাস্তব কিংবা ভার্চুয়ালে উপস্থিত থাকা বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এই স্বাচ্ছন্দ্য বহুলাংশে বিঘ্নিত হয় সাইবার বুলিং, ট্রোলিং এবং অযাচিত উপদেশের কারণে। নারীদের সাফল্য, মতপ্রকাশ কিংবা ছবি—সব কিছুর নিচে একদল হিংস্র মানুষের ব্যক্তিগত আক্রমণ করার প্রবণতা প্রমাণ করে যে, স্ক্রীনের আড়ালে বসে অন্যকে বিচার করা যতটা সহজ, অন্যের আত্মমর্যাদাকে সম্মান করা তার চেয়ে বেশি কঠিন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে প্রধান শিক্ষিকার ছোট্ট একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা কেবল একটি রিল নয়, তা আমাদের সমাজের মানসিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংস্কৃতি এবং পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। একজন শিক্ষক একজন মানুষ; তারও ব্যক্তিগত জীবন, শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। সব পেশার মানুষ গান শুনতে পারেন, লিখতে পারেন, অভিনয় করতে পারেন, সামাজিক মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারেন। হ্যাঁ শিক্ষকতা একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পেশা, সচেতন শিক্ষকমাত্রই বিষয়টি জানেন। কিন্তু আমরা বিচারকের আসনে বসার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে জানি না। যে কারণে একটি ছোট ভিডিও, কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপ, কিংবা একটি স্থির চিত্রের ভিত্তিতে একজন মানুষের চরিত্র, যোগ্যতা কিংবা নৈতিকতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় দিয়ে দেই। কখনও ব্যক্রিগত আক্রমণ, কখনও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য, কখনও অপমান, নারীত্ব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ পুরো বিষয়ের পেছনের প্রেক্ষাপট, সময়, উদ্দেশ্য কিংবা প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।

তবে শিক্ষক যদি বিদ্যালয়ের পরিবেশ, সরকারি সম্পদ বা দাপ্তরিক পরিচয় ব্যবহার করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করেন যা সরকারি আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তবে সেটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই হওয়া উচিত। সে দায়িত্ব ফেসবুক সদস্যদের নয়, আপামর জনতারও নয়, এই জ্ঞানটুকুই আমাদের জাতির সর্বাগ্রে হওয়া দরকার।

সোশ্যাল মিডিয়া কোনো আলাদা জগত নয়, এটি আমাদের বাস্তব সমাজেরই ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি। এখানে নারীর অধিকার নিশ্চিত হওয়া মানে তার স্বাচ্ছন্দ্যে বাঁচার অধিকার থাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে একজন শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় শাড়ি পরে হাঁটছেন। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি। কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সেকেন্ডেই ছড়িয়ে পড়ে। সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। দৃশ্যটি নিয়ে দেশ বিদেশ থেকে অনেকেই ট্রল করা শুরু করে। নেট দুনিয়ায় তারা ওই শিক্ষিকাকে সাইবার অ্যাটাক করে।

পরবর্তীতে জানা যায় তিনি সিলেট জেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সেটি আলাদা বিষয়। তার সেই ভিডিওতে কি আছে যা তাকে ‘অপরাধী’ করে? আতস কাঁচের নিচে রেখেও অপরাধ ধরতে না পেরে তার পাশে দাঁড়ান দেশের শিক্ষক সমাজ, সকল পেশার সাধারণ মানুষ। তারা প্রতিবাদে নেমে পড়েন। তারা নিজেদের ভিডিও, স্থির ছবি আর ওই ‘শ্রাবণের  মেঘগুলো’ গান দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতে থাকেন— এমন অভিনব প্রতিবাদে সয়লাব হয়ে ওঠে নেট দুনিয়া। এটিও ভাইরাল হয়ে যায়। এত চমৎকার ভাইরাল ইতিপূর্বে কেউ দেখেছে কিনা জানি না। একটি গানের টিকটক রিল তাকে নেতিবাচকভাবে ভাইরাল করেছে আর সেটির প্রতিবাদে তার প্রতি তথা সুস্থতার প্রতি মানুষের সংহতি কয়েকদিন ধরে চলছে! 

উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশের মানুষ আজ যে প্রতিবাদ করছে তা আরো পূর্বেই করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের আরেকটি শিক্ষা দেয়, ডিজিটাল যুগে খ্যাতি যেমন মুহূর্তে আসে, তেমনি অপবাদও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনই অপমান, হয়রানি বা চরিত্র হননের লাইসেন্স হতে পারে না। সবশেষে একটি সভ্য সমাজের পরিচয় হয় তার বিচারবোধে। আবেগ গুজব কিংবা জনরোষের ওপর নয়।

প্রাসঙ্গিকভাবে আসে ধর্মের মানবিক শিক্ষা নয় বরং ধর্মের নামে বজ্জাতি, ধর্মান্ধতার উচ্চকণ্ঠ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সংকুচিত করে দিচ্ছে। সহনশীলতার জায়গায় জন্ম দিচ্ছে অসহিষ্ণুতা, প্রশ্ন করার সাহসকে ঢেকে দিচ্ছে অন্ধ আনুগত্য। মানুষের পোশাক, সংস্কৃতি, শিল্পসাহিত্য, আনন্দ— সব কিছুই যেন এক অদৃশ্য নজরদারির জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। যে ধর্মবোধ মানুষের হৃদয়ে মায়া, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবতার আলো জ্বালানোর কথা বলে, সেই ধর্মের নাম ব্যবহার করে যখন ত্রাস, ঘৃণা, বিভাজন কিংবা সংকীর্ণতা ছড়িয়ে দেওয়া হয় তখন সমাজ ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক ছন্দ হারাতে থাকে।

একটি সুস্থ সমাজের শক্তি ধর্মান্ধতায় নয়, বরং ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, যুক্তিবোধ এবং মানবিক সহাবস্থানে। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে তাদের ফেসবুক নাই। আমাদেরও সময় এসেছে, ভেবে দেখার। সবকিছু সবার জন্য নয়। যেমন বানরের হাতে কোদাল নয়। অনেক বছর আগের কথা— আমার জীবনের এক উজ্জ্বল সকাল ছিল সেদিন। দেশের বাইরে যাব বলে নির্দিষ্ট দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র হাতে পেয়ে আনন্দিত মনে গাড়িতে উঠেছি। ভবিষ্যতের কিছু স্বপ্ন রঙিন প্রজাপতির মতো উড়ছে চোখের সামনে, সামান্য দু’চাকা এগুতেই চোখ আটকে গেল একটি দেয়ালে। মোটা অক্ষরে সেখানে লেখা: ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না, করিলে জরিমানা করা হইবে’।

মুহূর্তেই আমার রঙিন প্রজাপতিরা কালোকুষ্টি গুবরে পোকা হয়ে গেল। যেখানে সভ্যতার সবচেয়ে সাধারণ পাঠটুকু দেয়ালে লিখে, জরিমানার ভয় দেখিয়ে আমাদের শেখাতে হয়, সেখানে আমি ঐ উন্নত দেশে যাবার কতটুকু যোগ্যতা রাখি? মনে হলো, একটি জাতির পরিচয় কেবল তার পাসপোর্টে নয় দেয়ালেও লেখা থাকে।
 
লেখক: কথাসাহিত্যিক

ঢাকা/তারা//

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০০, ২৮ জুলাই ২০২৬  আপডেট: ২১:০২, ২৮ জুলাই ২০২৬
সংসদ ভবন চত্বরে অগ্নিকাণ্ড, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল ভবনে গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ-১) মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে ওই কার্যালয়ে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। আগুন লাগার কারণ উদঘাটন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা/আসাদ/সাইফ

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ২৮ জুলাই ২০২৬  
স্ত্রীর আবদার পূরণে রাতে ঘুরতে বেড়িয়ে বিপাকে দম্পতি

পাবনার ঈশ্বরদীতে চোর সন্দেহে আটক দম্পতি

মধ্যরাতে স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের (১৮) আবদার পূরণ করতে নিজের পিকআপ নিয়ে ঘুরতে বের হন রায়হান শেখ (২৫)। এক ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোর পর হঠাৎ যান্ত্রিক সমস্যায় পিকআপটি বিকল হলে স্থানীয়দের সন্দেহে পড়েন এই দম্পতি। স্থানীয়রা গরু চোর সন্দেহে দুজনকে আটক করে থানায় খবর দেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর শহরের উমিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে এই দম্পতিকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

রায়হান শেখ জানান, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সুমাইয়া পিকআপে ঘুরতে যাওয়ার বায়না ধরে। স্ত্রীর আবদার রাখতে তিনি পিকআপ নিয়ে বের হন। প্রায় এক ঘণ্টা বেড়ানোর পর উমিরপুর এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। তিনি সেখানে গাড়ি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ফজল মালিথা তাদের দেখতে পান এবং গরু চোর মনে করেন। পরে তিনি আরও কয়েকজনকে ডাকলে তারা এসে প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের আটকে রাখেন।

দম্পতির দাবি, এ সময় কয়েকজন মিলে রায়হান শেখকে মারধর করেন। পরে ভোর ৪টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

ঈশ্বরদীর আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, গরু চোর সন্দেহে স্থানীয়রা স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে খবর দিয়েছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা গরু চোর নন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মধ্যরাতে ওই এলাকায় অবস্থানের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যবহৃত পিকআপটিও জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন রায়হান শেখকে মারধর করেছে উল্লেখ করে আফজাল হোসেন বলেন, তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের পক্ষে-বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ঢাকা/শাহীন//

শরীয়তপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ২৮ জুলাই ২০২৬  
স্বামীকে জিম্মি করে নারীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩ 

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে জিম্মি করে তার এক স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে নড়িয়া উপজেলাধীন এলাকা থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ওই এলাকার মৃত আলমগীর বেপারীর ছেলে রাব্বি বেপারী (২৮), আব্দুল হাই খন্দকারের ছেলে হযরত আলী খন্দকার (৪২) ও মালেক খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৬)।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে উপজেলাধীন এলাকার একটি বাগানে ভুক্তভোগীর স্বামীকে ডাকে হযরত আলী খন্দকার। তিনি সেখানে পৌঁছালে হযরত আলী খন্দকার, রাব্বি বেপারী, ইমন খন্দকারসহ আরো ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বেঁধে ফেলেন। পরে তার স্ত্রীকে ফোন করে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় জরুরি সেবার নম্বরে (৯৯৯) খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত হযরত আলী খন্দকারের স্ত্রীর সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ করেন, রাত ৯টার দিকে তার স্বামী মোবাইল ফোনে তাকে বাসা থেকে বের হতে বলেন এবং একজন ব্যক্তির সঙ্গে অটোরিকশায় যেতে বলেন। পরে তাকে একটি বাগানে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, তার স্বামীকে বেঁধে রেখে গলায় ছুরি ধরে রাখা হয়েছে। এর পর স্বামীর সামনেই হযরতসহ তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েন, গভীর রাতে বাগানের দিক থেকে চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। পরে তাদের কাছ থেকে ধর্ষণের অভিযোগ জানতে পেরে স্থানীয় নারীরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানিয়েছেন, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে অভিযুক্তদের মাদক-সংক্রান্ত লেনদেন ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

ঢাকা/আকাশ/রফিক

নাটোর প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪০, ২৮ জুলাই ২০২৬  আপডেট: ২০:৪৪, ২৮ জুলাই ২০২৬
খামারে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

নিহত সিহাব আলী

নাটোরের লালপুর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে মুরগির খামারের চারপাশে অবৈধভাবে বিদ্যুতায়িত জিআই তারে জড়িয়ে সিহাব আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিয়াল, বেজি ও চোরের উপদ্রব ঠেকাতে আসলাম হোসেন মুরগির খামারের চারপাশে জিআই তারের বেড়া দিয়ে তাতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার পর সিহাব আলী বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন সকাল ৬টার দিকে খামারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে গিয়ে আসলামের ছেলে রায়হান আলী তারে জড়ানো অবস্থায় সিহাব আলীর মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সোহান আলী বাদী হয়ে লালপুর থানায় আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, “ঘটনার পর নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’’

ঢাকা/আরিফুল// 

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৭, ২৮ জুলাই ২০২৬  আপডেট: ২১:০৪, ২৮ জুলাই ২০২৬
জনগণ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেবে না: সারজিস 

আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সারজিস আলম।

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ উপলক্ষে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার লক্ষ্যে এনসিপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, “দেশের ১ হাজার ৪০০ সন্তানকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা তাদের পক্ষে কথা বলে, তাদের কথা শোনার সময় জনগণের নেই। বৈষম্যমূলক চাকরি ব্যবস্থা ও কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি। যখন আমরা যৌক্তিক দাবির পক্ষে রাজপথে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা আমাদের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের ওপর গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে শহীদ করা হয়েছে। তাই জনগণ আর কোনোভাবেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার সুযোগ দেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকারও যদি ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি করে, তবে জনগণ তাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবে।”

সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, “জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’’ 

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘আমি একজন গ্রামের সন্তান। যখন চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল এবং নিয়োগে দলীয় প্রভাব ছিল, তখন বিবেকের তাড়নায় লাখো ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষ কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘দেশকে পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভোগী কর্মকর্তারা জনগণের সেবক, শাসক নন। হবিগঞ্জে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প-কারখানার মালিকরা এ অঞ্চলের নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে যথাযথ ভূমিকা রাখেননি। বরং অল্প বেতনে স্থানীয় তরুণদের শ্রম কাজে লাগানো হচ্ছে।’’ 

নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী আরো বলেন, ‘‘তারেক রহমানের দ্বারা বাংলাদেশের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি সমাজের সবচেয়ে খারাপ লোকদের পার্লামেন্টে নিয়ে গিয়েছেন।’’ তিনি দাবি বলেন, ‘‘সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা অপকর্মে জড়িত। তারা মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত।’’ 

ঢাকা/মামুন/বকুল

আর নেই

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়