সুনামগঞ্জ জেলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও এক স্পিডবোট চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে স্পিডবোট চালক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মধ্যনগর সদর বাজারের স্পিডবোট ঘাটে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত এম. শহীদ মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দুগনই গ্রামের বাসিন্দা এবং সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। ভুক্তভোগী রাজু আহমেদ ও স্পিডবোট চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাহিরপুর থেকে মধ্যনগরে যাত্রী পরিবহনকারী স্পিডবোট চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে চাঁদা আদায় করে আসছেন শহীদ ও তার সহযোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার স্পিডবোট চালক রাজু আহমেদ যাত্রী নিয়ে মধ্যনগর ঘাটে পৌঁছালে এম. শহীদ তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। হঠাৎ এত বড় অঙ্কের টাকা দাবি করায় রাজু চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাজু তাহিরপুরে ফিরে এসে বিষয়টি স্পিডবোট চালক সমিতিকে অবহিত করেন। ঘটনার পর চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তাহিরপুর স্পিডবোট চালক সমিতির সভাপতি হবিব মিয়া বলেন, আমাদের চালকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ রাজু আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাহিরপুর-মধ্যনগর রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে।
এদিকে, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েস বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। যদি কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যায়; তাহলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এম. শহীদকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা এম. শহীদের কাছে জানতে চেয়ে একাধিকবার মোবাইলে কল করলেও তার তা বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বছরের পর বছর নিজের বড় বোনকে ধর্ষণ ও গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছিলেন ১৯ বছর বয়সী মানিক হোসেন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রতিশোধ নিতে ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বোন। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর সহযোগীর সহায়তায় হত্যা করিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দীঘিতে ফেলে দেন তিনি।
এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পঞ্চগড়ে মানিক হত্যা মামলার তদন্তে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও হত্যার কারণ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন নিহতের বড় বোন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে মানিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মূল ঘটনাটি খুঁজে বের করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় বোন (২৪) ও একই এলাকার শাহাবুদ্দিনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মানিকের বড় বোন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পঞ্চগড় জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানিক তার বড় বোনকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। এ ঘটনার গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন তিনি। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও চালাতেন মানিক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বড় বোন ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হত্যার দিন পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মানিককে পান করান। ওষুধের প্রভাবে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট গুঁজে দেন বোন। পরে সহযোগী শাহাবুদ্দিন তাকে হত্যা করে মরদেহ মহারাজার দীঘিতে ফেলে দেন। তদন্তের সময় ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটের লেখার সঙ্গে নিহতের বড় বোনের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল খুঁজে পায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে মানিকের বোন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনের ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।