Bogdan Laurentiu, একজন ইউরো-আমেরিকান প্রভাবশালী ক্রুসেডার, আমার ঈমানী ট্রেডমার্ক “ইসলাম অথবা মৃত্যু” দেখে ট্রিগারড হয়ে গেছে!
.
এই লোকটা রোমানিয়ান বংশোদ্ভূত কনসারভেটিভ ইনফ্লুয়েন্সার। বর্তমানে টেক্সাসের অস্টিনে থাকছে। সে আক্ষরিক অর্থে ক্রুসেড ২.০ এর জন্য নিজ জাতিকে প্রস্তুত করছে। এদের নিজস্ব শক্তিশালী সাইবার টিম আছে।
.
গাজা গণহ√ত্যা চলাকালীন আমরা ক্রাউড-ফান্ডিংয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা ইনস্টাগ্রামে Reels Collaboration করতাম, অধিকাংশ সময়ে সরাসরি ডোনেশন লিংক দিয়ে দিতাম। অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে সিংহভাগ খ্রিস্টান ছিল, কিছু নাস্তিকও ছিল। বাংলাদেশ থেকে nomadicvoyagerx এর সরোয়ার সোহেল ভাই আর আমি ছিলাম।
.
তো আমরা সবচেয়ে বড় যে প্রবলেমটা ফেস করতাম সেটা হচ্ছে— Account Banned হয়ে যাওয়া। এর কারণ জালিম কুফফাররা সবাই মিলে একত্রে রিপোর্ট মারতো। বোম্বিং করে মারছে তাতে হবে না, না খাইয়েও মারতে হবে মুসলিম নারী, শিশু ও পুরুষদের! হুহ।
.
যাই হোক, ক্রুসেডাররা সর্বাত্মকভাবে আমাদের (সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে) ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছিল (লেগে আছে)।
.
মুসলিমদের প্রতি ওদের এত ঘৃণা, এত বিদ্বেষ— ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না এমন। কমেন্ট বক্সে কিছু স্ক্রিনশট দিয়ে দিচ্ছি, দেখলে আপনি হতভম্ব হয়ে যাবেন নিশ্চিত!
.
ইনস্টাগ্রামে এতদিন ঐতিহাসিক ক্রুসেডাররা (খ্রিস্টানরা) হ√ত্যার হুমকি দিত, ফেসবুকে আসার পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী মালাউনরা দিচ্ছে।
.
এগুলো কোনো সমস্যা না, আমরা মুসলিমরা তো শাহাদাতের জন্যই মায়ের উদর থেকে পৃথিবীতে পা রেখেছি, তাই মৃত্যুকে পরোয়া করি না, আলহামদুলিল্লাহ।
.
কিন্তু মাঝে মাঝে খুব কষ্ট লাগে, কেন লাগে জানেন..!? যখন দেখি আমার চারপাশের “মুসলিমরা” নিজেদের আদর্শ (ঈমান) বিসর্জন দিয়ে দিছে, ক্রুসেডারদের দাসত্ব করছে।
.
আমরা মানুষ, ফেরেশতা না, তাই আমাদের ভুল হবেই— এটা স্বাভাবিক। আমাদের বারবার পাপ হবে, আমরা বারবার আল্লাহর কাছে মাফ চাইবো। কিন্তু আমরা বেঈমান, মুরতাদ কেন হব? কুফর, শির্ক কেন করব? জালিম, মুনাফিক কেন হব? ছোটখাটো পাপ আর ঈমান-বিধ্বংসী কুফর, শির্ক এক বিষয় নয়— এগুলা কবে বুঝব?
.
বাড়ির পাশের কালো চামড়ার মুশরিকরা থেকে শুরু করে সুদূর আমেরিকান, ইউরোপীয় সাদা চামড়ার কুফফাররা দ্বীনুল হক্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের কী খবর? মুসলিমবঙ্গের মুসলিমদের কী খবর? তিন পাশে ইন্ডিয়া, এক পাশে বঙ্গোপসাগর— পালানোর জায়গা কই??
.
আজ আমাদের বেহাল দশা, আমরা এখন মনস্তাত্ত্বিকভাবে পরাজিত, আদর্শিকভাবে পরাজিত, আমরা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগি, ঈমান আমলের খবর রাখি না, জান্নাত জাহান্নাম সম্পর্কে মাথা ব্যথা নাই আমাদের, নিজেদের সঠিক ইতিহাস জানি না। পৃথিবী অন্তিম পর্যায়ে চলে এসেছে, নবীর (সা.) ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, পৃথিবীতে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটবে— গাজওয়াতুল হিন্দ, ইমাম আল-মাহদী (আ.), দাজ্জালের ধ্বংসযজ্ঞ, ঈসা মসীহের আবির্ভাব, বিশ্বব্যাপী খিলাফা, ইয়া'জুজ মাজুজ...!
.
হ তা শা..!!! তবুও বুক ভরা আশা— এই উম্মাহ শীঘ্রই আবার জাগবে, অবাধ্যতার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় আল্লাহর দাসত্ব মেনে নিবে, আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৃথিবীর কর্তৃত্ব আমাদের হাতে দিবেন!
.
যাই হোক, দিনশেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, হে আল্লাহ আমাকে-সহ আপনার সকল সৎহৃদয়বান বান্দাদের আমৃত্যু তাওহীদ-পূর্ণ ঈমানের পথে রাখুন, আমাদের সম্পূর্ণরূপে পরিশুদ্ধ করে দিন, জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।
.
সর্বোপরি— হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল

All reactions:
14 comments
Like
Comment