ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিচারের লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি গত ৪ জুলাই নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও দলটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি সুযোগ রয়েছে।
এর আগে ৩ জুলাই ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন, নিপাত ও নির্মূল হয়েছে এবং দলটি আর কোনোদিন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের দাবি উঠেছে, তদন্ত চলছে এবং শিগগিরই আইন অনুযায়ী তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরদিনই চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের সামনে তদন্তের অগ্রগতি এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মত হলো, কোন আইনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে, তা অস্পষ্ট। এ ছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও তা রাজনীতির জন্য ভালো বার্তা দেবে না। এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে অমোচনীয় সংকট ও ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। তারা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার হতে পারে। তবে এই কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের বিচার দেশ, গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য শুভ হবে না।
জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীকে নিষিদ্ধ করার উদাহরণ টানা হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর অপরাধ আর ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের অপরাধ এক নয়। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার হতে পারে।
এদিকে সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পরে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যদি প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, রিপোর্ট যদি দাখিল করা হয়, চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’
‘তদন্তে যদি মানবতাবিরোধী অপরাধসহ উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার করতে পারবে। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ হলে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে আইনে দলটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও সুযোগ রয়েছে,’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিয়ে আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলছেন, কোন আইনে কীভাবে আওয়ামী লীগের বিচার করা যাবে, সেটি অস্পষ্ট। তার মতে, ‘এ পর্যন্ত শুধু শুনেই আসছি আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে। অথচ কোন আইনে, কোন অপরাধে বিচার হবে, সেটি স্পষ্ট করে কারও মুখে শুনিনি। নিয়মিত আইনে বিচার হবে, নাকি বিশেষ আইনে হবে, সেটিও জানি না। পৃথিবীতে কোনো দলকে বিচারের মুখোমুখি করা ও আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার নজির আমার জানা নেই।’
ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘বাংলাদেশে ৩২ হাজার পৃষ্ঠার আইনের বই আছে। সব আইন তো মুখস্থ করে রাখাও সম্ভব নয়। যেসব আইনে নিয়মিত মামলা হয়, সেগুলো আমি জানি, মনে থাকে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যদি বিচার করা হয়, সেটি আরও ভালো করে জানতে হবে।’
খবরটি শেয়ার করুন