Abdullah Hel Bubun
ডিসেন্টে রবি হোসাইনের লেখায় একটা বিষয়কে অনেক ফোকাস করা হয়েছিল, তা হলো প্রথম আলোর শিরোনামের কারণে একজন ব্যক্তির উপর শারিরীক আক্রমণের ঘটনাটি হাস্যরসে রূপান্তরিত হয়; রবি হোসাইন প্রথম আলোর রিপোর্টের রিয়েকশন (ফেসবুক পোস্ট) সেকশনে হাহার প্রাধান্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
এখন যদি কেউ ডিসেন্টের অপিনিয়নের রিএকশন বা কমেন্ট সেকশন দেখেন তা হলে এটা নিশ্চিত যে একটা এবসোলিউট মেজোরিটি ওই অপিনিয়ন পিস দেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রথম আলো "জুলাইপন্থী"- দের বিরুদ্ধে বায়াস এবং আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে সফট। এবং তা ফ্যাক্ট, কারো কঞ্জেকচার না।
আর মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি, বাংলাদেশের লোকজন রিপোর্ট আর অপিনিয়নের পার্থক্য করবে না৷ প্রথম আলো আর ডেইলি স্টারের ক্ষেত্রে এটা আরো বেশী সত্য। বিশেষ করে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে রাইট উইং বক্তব্য বেশী এম্পলিফাইড হয়।
আমি এখন একটা অপিনিয়ন দেবো। ডিসেন্টের প্রথম আলো সংক্রান্ত আগের রিপোর্টটা (তখন ওইটা 'অপিনিয়ন' ছিল না) প্রকাশের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল, ওটার মেথডলজি নিয়ে। তাই এবার সে 'অপিনিয়ন' এ শিফট করছে। প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় কাজেরই লক্ষ্য এক; এটা প্রমাণ করা যে, প্রথম আলো আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাতী।
দ্য ডিসেন্ট এর একটা মতামত পিস নিয়ে বেশ কিছু মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। এর মধ্যে প্রথম আলোতে আসিফ বিন আলী লিখেছেন, ঢাকা পেপার্সের সম্পাদক আরিফুজ্জামান তুহিন ভাইও লিখেছেন। সবাইকে ধন্যবাদ।
যে কোন ধরনের সমালোচনা/পর্যালোচনাকে ওয়েলকাম করি।
তবে প্রথম আলোর এবং ঢাকা পেপার্সের লেখা দুটি নিয়ে দুই লাইন করে একটু বলা দরকার মনে করলাম।
দুটি লেখাতেই দ্য ডিসেন্ট এর লেখাটির সমালোচনা করতে কিছুটা ফেলাসির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। রবি হোসাইনের লেখাটি যে মতামত, কোন গবেষণা নয় তা ক্লিয়ারলি বলা হয়েছে।
কিন্তু প্রথম আলো এবং ঢাকা পেপার্সের লেখা দুটিতে দ্য ডিসেন্ট ওই নিবন্ধের ‘মেথোডোলজিকাল দুর্বলতা’কেই প্রধান সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
অথচ রবির লেখায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সেটি তৈরিতে কোন স্ট্রিক্ট মেথোডোলোজি মানা হয়নি কারণ এটি কোন গবেষণা নয়। একটি সংবাদ প্রতিবেদনকে উপলক্ষ্য করে দুটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষদের কেন্দ্র করে প্রকাশিত সিমিলার সংবাদ খুঁজতে নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড দিয়ে র্যান্ডম গুগল সার্চ করা হয়েছে। এর ভিত্তি যেসব সংবাদ পাওয়া গেছে সেগুলোতে ফ্রেইমিংয়ের কোন ধরনের পার্থক্য আছে কিনা সেটা শুধু বুঝার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ধরনের পার্পাসিভ স্যাম্পলিং এনালিটিকাল কাজের জন্য, এমনকি গবেষণার জন্য খুবই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।
ফলে, ‘দ্য ডিসেন্ট এর লেখায় গবেষণা পদ্ধতি মানা হয়নি’-- এইটা একটা ফেলাসি। কারণ ওটা যে গবেষণা নয়, তা একাধিকবার লেখায় বলা হয়েছে।
আরেকটা বিষয় পরিষ্কার করি। দ্য ডিসেন্ট বলেনি যে, মাহদীকে নিয়ে প্রথম আলোর শিরোনামগুলো ভুল বা সমস্যাজনক বা কম ভালো। বরং দ্য ডিসেন্ট দেখিয়েছে এমন ভালো শিরোনাম অন্য একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজনের ব্যাপারে করা হয়নি।
আবারা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ওবায়দুল কাদের, শামীম ওসমানদের জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত থাকায় তাদের ক্ষেত্রে তাদের অতীতের অপকর্মের প্রসঙ্গ টানাটা অযৌক্তিক। মাহদীর সেরকম পরিচিত না থাকায় করতে হয়েছে। এই ক্ষেত্রে যদি আপনি কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা কানুর প্রসঙ্গ টানেন তাহলে দেখবেন, কানু খুব অপরিচিত লোক। স্থানীয়ভাবে তার তিনটি পরিচয় আছে- আওয়ামী লীগ নেতা কানু, আরেক আওয়ামী লীগ নেতার খুনি কানু এবং মুক্তিযোদ্ধা কানু। কিন্তু যখন কানু ভিকটিম হলো ৫ আগস্টের পর তখন প্রথম আলো তার প্রথম দুই পরিচয় না দিয়ে শিরোনামে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয়টি সামনে এনেছে। অথচ, কানু এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খ্যাতিমান নন। বরং গডফাদার হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের আমলে আরেক লীগ নেতা খুন করা, আরেক মুক্তিযোদ্ধাকে জুতা গলায় দিয়ে অপমান করা সহ মোট ৯টি মামলা তার বিরুদ্ধে আছে। কিন্তু এসব নেতিবাচক পরিচয় ছাপিয়ে তার পরিচয় হয়েছে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কানু’।
ফলে, ওবায়দুল কাদের, শামীম ওসমান জাতীয়ভাবে পরিচিত হওয়ায় তাদের আগের অপকর্মের প্রসঙ্গ শিরোনামে না আনার যুক্তি দিয়ে প্রথম আলোর শিরোনামের পক্ষপাতমূলক ফ্রেইমিং অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
ঢাকা পেপার্সের লেখায় আরও মজার জিনিস দেখলাম। দ্য ডিসেন্ট এর লেখাটি ছিল শুধু প্রথম আলোর নির্দিষ্ট কিছু শিরোনামের ওপর একটা পর্যালোচনা। কিন্তু আরিফুজ্জামান তুহিন তার লেখায় প্রথম আলোর বাইরে আরও বিভিন্ন পত্রিকার ৫০টি (নাকি ১০০টি) শিরোনাম তুলনা করে দেখিয়েছেন, দ্য ডিসেন্ট এর লেখার দাবি নাকি সত্য নয়! বিষয়টাকে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলো আরকি! দ্য ডিসেন্ট যেসব সংবাদমাধ্যমের শিরোনামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেনি, সেগুলোকে দিয়ে কিভাবে বলা গেল যে, ডিসেন্ট এর কাজ ঠিক হয়নি?!
যাইহোক, আলোচনা চলুক।
তবে ঢাকা পেপার্স শিরোনামে যেভাবে দ্য ডিসেন্ট-কে এগ্রেসর হিসেবে (কোপানলে) এবং মাইটি প্রথম আলোকে ভিকটিম হিসেবে ফ্রেইম করেছে সেটা খুবই ইন্টারেস্টিং হয়েছে!
আরও ইন্টারেস্টিং হয়েছে, ‘লিবারেল মিডিয়া’ নামক বর্গটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে। ডিসেন্ট এর ওই লেখা কিন্তু শুধু প্রথম আলোর কিছু শিরোনাম নিয়ে। কিন্তু তুহিন ভিকটিম হিসেবে হাজির করেছেন ‘প্রথম আলো সহ লিবারেল মিডিয়া’।
মানে, শুধু প্রথম আলোকে ভিকটিম বানালে এনাফ আগ্রাসন বুঝানো যাচ্ছে না। ফলে যাবতীয় ‘লিবারাল মিডিয়া’কে বর্গে ঢুকাতে হবে। তাতে ভিকটিমহুডটাকে একটা আইডিওলোজিকাল শেইপ দেয়া যাবে! এবং একইসাথে উচ্চারণ না করেও এর মাধ্যমে দ্য ডিসেন্টকে ‘ইলিবারাল’ বা ‘কনজারভেটিভ’ কিম্বা বাংলাদেশি কনটেক্সেটে চিন্তা করলে ‘জঙ্গি’ হিসেবেও পোর্ট্রে করা গেল।
তারপরও চলুক আলোচনা।
All reactions:
Like
Comment