পুচ্ছকুর আম্মু
কদরুদ্দিন শিশিরদের আজানকে সামনে রেখে অ্যালার্জির বিষয়টা মূলত ইসলাম। কদরুদ্দিন এর মন্তব্য হচ্ছে - মসজিদের মাইকে ‘নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি সাউন্ডে’ আজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলার কারণে বাংলাদেশের অনেকে ফেইসবুকে ‘আবেগ’ দেখাচ্ছে।
তবে, আমরা এও দেখে ফেলেছি, বাংলাদেশ দখল করার হুমকি দেয়া শুভেন্দুর কথিত, ‘যৌক্তিক বন্তব্য’ দেখে কদরুদ্দিন’রা কীভাবে আপ্লুত হয়ে উঠেছে! উফ কী যে এক বিষয়!
সত্য কথা হচ্ছে আমাদের লজ্জা হয় এদের নিয়ে লিখতে! যারা কমেন্ট সেকশনে মহিলাদের নিয়ে জঘন্য মন্তব্য করে!
.
যে কোন উচ্চ মাত্রার শব্দই ক্ষতিকর - এটি নিয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু কথিত ফ্যাক্টচেকার গংদের চেরি পিকিং উদোম করা এবং এদেশের মুসলিম জনগণের ধর্মীয় আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ বুঝতে পারা আমাদের জন্য জরুরী।
কদরুদ্দিন, শুভেন্দুর বক্তব্যকে খুব যৌক্তিক হিসেবে উপলব্ধি করতে পেরেছে কারণ শুভেন্দু মসজিদ এবং মন্দিরকে এক সাথে উল্লেখ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা কি তা আমরা সবাই জানি। কদরুদ্দিন যদি রেটোরিক এবং রিয়েলিটির মধ্যে পার্থক্য করার মত যোগ্যতা না রাখে তাহলে তার ‘ফ্যাক্ট চেকার’ টাইটেল মৌলিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ!
যেমন মনে করুন - নরেন্দ্র মোদি টিভি সাক্ষাতকারে একাধিকবার স্বীকার করেছে গুজরাট ম্যাসাকারের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই, এখন উঠতি কোন ফ্যাক্ট চেকার যদি বলে বসে - মোদির কথা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে, তাহলে আপনি তাকে তাত্বিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন না। কারণ তার কাছে ‘ফ্যাক্ট’ হচ্ছে সাব্জেক্টিভ।
.
দেশে শব্দ দূষণ একটি স্বীকৃত সমস্যা। শব্দ দূষনের উৎস এক, দুই নয় - অসংখ্য! ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় শব্দ দূষন কিন্তু আজান নয়, বরং - রোড ট্র্যাফিক অ্যান্ড হাইড্রোলিক হর্ন। দ্বিতীয় শব্দদূষণ লিস্টে আছে - আরবান কন্সট্রাকশন। [১, ২]
আরো লক্ষ্য করুন, এখানে কি বলা হচ্ছে তার মূল্যায়ন হবে কে বলছে তার ভিত্তিতে। একটি সহজ উদারহন দেই, যখন - অ্যামেরিকান কোন প্রেসিডেন্ট বলবে - islam is a religion of peace তখন আমাদের বুঝে নিতে তাদের এই ইসলাম যদিও শব্দগত ভাবে ইসলামকেই বুঝাচ্ছে কিন্তু অর্থগত ভাবে এটির ইমপ্লাইড মিনিং আলাদা। ঠিক এমনি ভাবে উঠতি ফ্যাক্ট চেকারদের কাছে যখন বাংলদেশ দখল করার হুমকি দেয়া শুভেন্দুর বক্তব্য খুব ‘যৌক্তিক’ মনে হবে তখন তার ইমপ্লাইড মিনিং আলাদা।
.
হাসিনা রেজিমের ‘এসো ভারত চাটি’ দর্শনের ছায়ায় বাংলাদেশে ইসলাম বিদ্বেষ তার সোনালী অধ্যায় পার করেছে। এই সোনালী অধ্যায়েই জন্ম নিয়েছে অসংখ্য ইসলাম বিদ্বেষী। ইসলাম বিদ্বেষ এর মৌলিক আলোচনা নিয়ে আমাদের আলাদা ডকুমেন্টারি আছে, - Islamophobia: It's just not Fear! It's Strategy - দেখে নেয়ার অনুরোধ রইল।
হাসিনা চলে গেলেও এই ইসলাম বিদ্বেষী গং অবসর নেয়নি, আমরা আশাও করিনা তারা অবসর নিবে। আমরা বার বার বলে আসছি - আমরা অবশ্যই একটি আদর্শিক সংঘাতের মুখোমুখি, তারা অবসর নিলে এই সংঘাততের ফুট সোলজার আর কারা!
আমাদের বুঝতে হবে তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য - তারা কি চায়? কিভাবে চায়? কেন চায়? আমাদের মত তারাও উত্তাপ টের পায়! তারাও টের পায় এই জমিনের জনগণ আগের ‘সহমত ভাই’ নয়। হাসিনা রেজিমের ইসলাম বিদ্বেষ এবং ইসলামকে সামনে রেখে যে জলুমের অধ্যায় এ জমিনে বাস্তবায়িত ছিল তা আজ ইসলামকে জান দিয়ে ভালোবাসা কোটি, কোটি জনগণের সামনে সাধারণ বাংলা বইয়ের মত উন্মুক্ত।
.
ফ্যাক্ট চেকার গং এটি খুব ভালো করেই জানে, তাদেরকেও ‘বাক স্বাধীনতার’ চেতনা ধারণ করে কমেন্ট সেকশন অফ/রেস্ট্রিকটেড রাখতে হয়, এবং সুশীল মুখোশ পরে কমেন্টে অন্যের স্ত্রীকে জড়িয়ে বস্তি! সুলভ খিস্তি! আউড়াতে হয়! কী একটা অবস্থা!
আমরা স্পষ্ট করেই বলে দিচ্ছি - বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে তারা পরাজিত হয়েছে, আদর্শিক ভাবেও তারা পরজয়ের স্বাদ নিচ্ছে, বাকি যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন তা কেবল মাত্র আমাদের পরিপূর্ন জেগে ওঠার অপূর্ণতা।
.
শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে আজান নিয়ে কারো আপত্তি কেবল মাত্র একটি বিষয়ই নির্দেশ করে আর তা হচ্ছে কোটি, কোটি মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে নিজেকে জাহির করা!
Like
Comment