কওমি মাদ্রাসায় ছাত্রলীগকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ জুন ২০২৪, ১৬:২২আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ১৮:৪০

দেশের কওমি মাদ্রাসায় ছাত্রলীগকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। একইসঙ্গে দেশের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকেও কওমি মাদ্রাসায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে কওমি শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করাতে একটি সেল গঠন করে তাতে ছাত্রলীগ ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে কওমি মাদ্রাসাগুলোয় তারা তাদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দল পরিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্রসংগঠন নিয়েও কাজ করছে। রাজনৈতিকভাবে মতাদর্শের দিক থেকে তারা দেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে যাতে বিচ্যুত না হয় তাই কাউন্সিলিং করার জন্য বিশেষ সেল গঠন করা উচিত।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর বকশিবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ আয়োজিত গ্রিন, ক্লিন ও স্মার্ট ক্যাম্পাস বিনির্মাণে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম (বাপ্পি) ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডুসহ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক চিন্তা-চেতনা যদি তৈরি করতে না পারি তাহলে পরিণত বয়সে গিয়ে সেটা যথাযথভাবে হয় না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মূল্যবোধের বিষয়ে কাজ করছে। মহান স্বাধীনতার অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা পেয়েছি বাংলাদেশ স্বাধীন করার মাধ্যমে। জাতির পিতা সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছেন সেটার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া, পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব সেটা মেনে চলা থেকে শুরু করা আইনশৃঙ্খলা মেনে চলা, পরিবেশের বিষয়টি মেনে চলার কাজটি সবাই যেন করতে পারি।

441998703_1031301868620749_987253672583737599_nছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল সব ছাত্রসংগঠনকে কওমি মাদ্রাসায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল

শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ তৈরির আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মূল্যবোধের জায়গায় আমি বলবো—ছাত্রলীগ আলিয়া মাদ্রাসাগুলোয় সাংগঠনিক কার্যক্রম করছে সেটা খুবই ভালো বিষয়। আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা আমাদের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এখন কিন্তু বেশ সমপর্যায়ে এসেছে। এখন মাদ্রাসাগুলো যাতে বেশি করে আরবি ভাষা শেখায়, শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে চাকরির যোগ্য হয়, পাশাপাশি এই দক্ষতার জায়গা উন্নত হবে এবং মূল্যবোধ ও আদর্শের জায়গায়ও। দক্ষতার সঙ্গে আদর্শ যদি না থাকে সেটা বিপজ্জনক। সেই দক্ষতা তখন আদর্শবিরোধী কাজে ব্যবহৃত হবে।

তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহনশীলতার দৃষ্টি, অন্যান্য ধর্ম বা সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা, ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য আমাদের মানসিকতা তৈরি করা, মাদ্রাসায় অবশ্যই সেটা করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনের সঙ্গে দ্বীন ইসলামের যে শিক্ষা তাতে কোনও সাংঘর্ষিক বিষয় নেই। এটি অপপ্রচার করে কিছু ধর্মব্যবসায়ী, এভাবে দ্বীন ইসলামকে কলুষিত করার জন্য এটি তারা করছে। রাজনীতি করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছে। ইসলামের কোথাও বলা নেই, পবিত্র কোরআন শরিফের কোথাও বলা নেই যে ধর্মীয় তত্ত্ব দিয়ে রাষ্ট্র চলবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি যদি তার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে তবে রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে যেতে পারে না। আমরা দেখেছি অনেক অপপ্রচার করা হয়েছে। তাই এবারের কারিকুলামে সতর্কতার সঙ্গে যেখানে অপ্রচারের সুযোগ আছে—অবশ্যই আমাদের ধর্মবিশ্বাস, শুধু ইসলাম ধর্মীয় বিষয়ে নয়, অন্যান্য ধর্মেরও যে বিশ্বাস আছে, সেগুলোর প্রতি কোনও বিভ্রান্তিকর কিছু থাকলে সেটা পরিবর্তন করবো, সংশোধন করবো। এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কারিকুলাম আছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের নেতাদের বিশেষভাবে বলবো, কওমি মাদ্রাসার সন্তানরাও আমাদের সন্তান, তারাও এ দেশের নাগরিক। রাজনৈতিকভাবে মতাদর্শের দিক থেকে তারা দেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে যাতে বিচ্যুত না হয়। আমি বলবো, তাদের (শিক্ষার্থীদের) কাউন্সিলিং করার জন্য বিশেষ সেল গঠন করা উচিত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বলতে চাই—আমাদের অনেক প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন আছে আছে। তারাও যাতে কওমি মাদ্রাসাসমূহে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা, সংবিধানের যে চার মূলনীতি, সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাউন্সিলিং করান। দেশপ্রেম, দেশের প্রতি আনুগত্য এবং সমাজে ধর্মনিরপেক্ষ একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ তৈরির কাজে অবশ্যই তাদের আনতে হবে, যাতে তারা বিচ্যুত না হয় অপপ্রচারকারীদের মাধ্যমে।

কওমি মাদ্রাসায় ছাত্রসংগঠনগুলো যদি সুশৃঙ্খলভাবে, সৃষ্টিশীলভাবে তাদের কার্যক্রমগুলো করে তাহলে এটা সবার জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে। একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে ব্রেইন ওয়াশ করে সরকারে বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে, সমাজের বিরুদ্ধে, সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের অনেক সময় লেলিয়ে দেওয়া হয় কমেন্ট করার জন্য। নানানভাবে তাদের মোটিভেট করা হয়, উৎসাহিত করা হয়। সে জন্য অবশ্যই বিশেষ সেল গঠন করুন। আপনারা তাদের সঙ্গে বসেন, বিশেষ সেল করেন। কীভাবে তাদের ওরিয়েন্টেশন করানো যায়, সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে, বলেন শিক্ষামন্ত্রী। 

/এসএমএ/এফএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
কওমি মাদ্রাসায় কি প্রগতিশীল সংগঠনগুলো সক্রিয় হতে পারবে?
শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ নাকি খোলা, সিদ্ধান্ত ঈদের পর
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোলাবোরেশন বাড়াতে চায় জাপান
সর্বশেষ খবর
‘মাস্তান’ গরুটির জন্য কাঁদছে দর্শক (ভিডিও)
‘মাস্তান’ গরুটির জন্য কাঁদছে দর্শক (ভিডিও)
বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম
৬ ঘণ্টায় পরিষ্কার হবে কোরবানির পশুর বর্জ্য: মেয়র আতিক
ডাচদের হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সুপার এইটে যেতে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের সামনে যে সমীকরণ
সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট আল আমিন।
মালয়েশিয়ায় সোনার পদক জিতলেন বাংলাদেশের আল আমিন
সর্বাধিক পঠিত
নাজিম উদ্দিন/ফাইল ছবি
অবশেষে বদলি হলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার সেই সিইও
মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট (ছবি: প্রতিবেদক)
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ‘পিঁপড়ার গতিতে’ চলছে গাড়ি
হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান (ছবি: প্রতিবেদক)
ঈদের পর বাজারে আসছে হাঁড়িভাঙা আম, ২৫০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা
এই সপ্তাহ জুড়েই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস (ফাইল ছবি)
কেমন থাকবে ঈদের দিনের আবহাওয়া?
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা (ছবি: প্রতিবেদক)
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজট, বাড়ছে আরও

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে মূল্যায়ন হবে যেভাবে

এস এম আববাস
১৪ জুন ২০২৪, ১০:০০ আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ১০:০০

নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ষান্মাসিক মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে আগামী ৩ জুলাই থেকে। পরীক্ষা শেষ হবে ৩০ জুলাই। একটি কর্মদিবসে একটি বিষয়ের মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে বিরতিসহ ৫ ঘণ্টায়। মূল্যায়নে লিখিত অংশও থাকবে।

ষান্মাসিক মূল্যায়নে যুক্ত হবে শিক্ষার্থীর শিখনকালীন পারদর্শিতা, অর্থাৎ সে কতটুকু শিখতে পারলো। ছয় মাসের মূল্যায়নের পর বছর শেষে অনুষ্ঠিত হবে বার্ষিক মূল্যায়ন। বার্ষিক মূল্যায়ন শেষে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠতে হতে না পারলেও শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে রিপোর্ট কার্ড।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়নের রিপোর্ট কার্ডে উল্লেখ থাকবে বিষয়ভিত্তিক পারদর্শিতার ক্ষেত্র (নির্ধারিত কোন ক্ষেত্রে কতটা দক্ষ), উপস্থিতির হার ও শিক্ষার্থীর আচরণগত মূল্যায়ন দক্ষতা। উল্লেখ থাকবে শিক্ষকের মন্তব্যের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মন্তব্যও।

‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২’ এর মূল্যায়ন কৌশল ও বাস্তবায়ন নির্দেশনায় ষষ্ঠ থেকে নবম ও দশম শ্রেণির পারদর্শিতার নির্দেশকসহ (পিআই) বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে না পারলেও রিপোর্ট কার্ড পাবে। কারণ, সব বিষয়ে তো আর অনুত্তীর্ণ হবে না। তাতে লেখাপড়া যদি সে নাও করে, তারপরও তার যোগ্যতা অনুযায়ী কোনও না কোনও কাজে যেন নিযুক্ত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উপস্থিতির হার উল্লেখ থাকবে। তবে দশম শ্রেণির রিপোর্ট কার্ডে উপস্থিতির হার থাকবে না। কারণ, এই শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে তো মূল্যায়নেই অংশ নিতে পারবে না।’

আচরণগত মূল্যায়ন প্রসঙ্গে অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির রিপোর্ট কার্ডে শিক্ষার্থীর আচরণগত দক্ষতা কতটা অর্জন করতে পেরেছে, সেই বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।’

শ্রেণি উত্তরণ

প্রতিটি শিক্ষার্থীর ১০টি বিষয়ে সামগ্রিক পারদর্শিতা যাচাই করে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তরণ নির্ধারিত হবে। ১০টি বিষয় হচ্ছে— বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, জীবন ও জীবিকা, ধর্ম শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি।  

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তরণের বিষয়ে দুটি দিক হচ্ছে—শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার এবং বিষয়ভিত্তিক পারদর্শিতা বিবেচনা।

বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার

একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ৭০ শতাংশ কর্মদিবসে উপস্থিত না হলে সে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার জন্য বিবেচিত হবে না। তবে জরুরি বা বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উপস্থিতির হার ৭০ শতাংশের কম হলেও সব বিষয়ের শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে কোনও শিক্ষার্থীকে শ্রেণি উত্তরণের জন্য বিবেচনা করতে পারবেন। তবে তার জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ ও তার সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ থাকতে হবে।

মূল্যায়নের সাতটি ধাপ

বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সাতটি স্কেল বা ধাপের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে— প্রারম্ভিক (ইলিমেন্টারি), বিকাশমান (ডেভেলপিং), অনুসন্ধানী (এক্সপ্লোরিং), সক্রিয় (অ্যাকটিভেটিং), অগ্রগামী (অ্যাডভানসিং), অর্জনমুখী (এচিভিং) ও অনন্য (আপগ্রেডিং)। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে কোন শিক্ষার্থী কোন ধাপে আছে, তা নির্ধারণ করতে এই সাতটি স্কেল বা ধাপ রাখা হয়েছে।

‘প্রারম্ভিক’ মানে হলো সবচেয়ে নিচের ধাপ। আর ‘অনন্য’ হলো সবচেয়ে ভালো। 

প্রতিটি পারদর্শিতার ক্ষেত্রের জন্য আলাদাভাবে শিক্ষার্থীর অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি পারদর্শিতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশক (পিআই) শিক্ষার্থীর অর্জিত মাত্রাগুলো সমন্বয় করে ওই পারদর্শিতার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর অবস্থান কী, তা বোঝানো হবে।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সবাই যাতে শিক্ষার্থীর অবস্থান স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে, এ জন্য এই সাতটি অবস্থানকে সাতটি স্তর বিশিষ্ট ‘মূল্যায়ন স্কেল’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।    

বিষয়ভিত্তিক পারদর্শিতা

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়নে যদি দুটি বিষয়ে পারদর্শিতার ক্ষেত্রে ‘বিকাশমান’, অথবা এর নিচের স্তরে থাকলে ওই শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে না। কোনও বিষয়ে একের বেশি পারদর্শিতার ক্ষেত্রে ‘প্রারম্ভিক’ স্তরে থাকলে শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

কোনও শিক্ষার্থী তিন বা ততোধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ থাকলে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে না। তবে কোনও শিক্ষার্থী এক বা দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে শর্ত সাপেক্ষে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা যাবে। এক্ষেত্রে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে অনুত্তীর্ণ বিষয়গুলোতে উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে এই শর্ত শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়ন উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

শ্রেণি উত্তরণে পারদর্শিতা ও উপস্থিতির হার দুটোই লাগবে

পারদর্শিতার বিবেচনায় কোনও শিক্ষার্থী যদি পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তরণের জন্য বিবেচিত না হয়, তবে শুধু উপস্থিতির হারের ভিত্তিতে তাকে উত্তীর্ণ করানো যাবে না। পারদর্শিতার বিবেচনায় যদি শিক্ষার্থী শ্রেণি উত্তরণের জন্য বিবেচিত হয়, কিন্তু উপস্থিতির হার নির্ধারিত হারের চেয়ে কম থাকে, সেক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিদ্যালয় প্রধান ওই শিক্ষার্থীর পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

যদি কোনও শিক্ষার্থী শ্রেণি উত্তরণের জন্য ন্যূনতম উপস্থিতির শর্ত পূরণ করে কিন্তু অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ইত্যাদি কোনও যৌক্তিক কারণে বাৎসরিক সামষ্টিক মূল্যায়নে অংশ না নিতে পারে, সেক্ষেত্রে আগের পারদর্শিতার রেকর্ডের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়-শিক্ষকের দেওয়া মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

শিক্ষার্থীর আগের পারদর্শিতার রেকর্ড বলতে ষান্মাসিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং শিখনকালীন মূল্যায়নের রেকর্ডকে বিবেচনা করতে হবে।

একইভাবে যদি কোনও শিক্ষার্থী উপস্থিতির শর্ত পূরণ করে যৌক্তিক কারণে ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নে অনুপস্থিত থাকে, কিন্তু বাৎসরিক সামষ্টিক মূল্যায়নে অংশ নেয়— সেক্ষেত্রেও শর্তগুলো প্রযোজ্য হবে। যদি কোনও শিক্ষার্থী উপস্থিতির শর্ত পূরণ করে, কিন্তু যৌক্তিক কারণে ষান্মাসিক ও বাৎসরিক সামষ্টিক মূল্যায়ন— দুই ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত থাকে, সেক্ষেত্রে শিখনকালীন মূল্যায়নের পারদর্শিতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়-শিক্ষকের দেওয়া মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। উত্তরণের জন্য বিবেচিত না হলেও সব শিক্ষার্থী বছর শেষে তার পারদর্শিতার ভিত্তিতে ট্রান্সক্রিপ্ট পাবে।

যদি কোনও শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে শিখন ঘাটতি নিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শিক্ষার্থীর জন্য পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে বাস্তবায়নের জন্য একটি শিখন সমৃদ্ধকরণ পরিকল্পনা করে— সেটি পরবর্তী শ্রেণির সেই বিষয়ের শিক্ষককে অবহিত ও হস্তান্তর করবেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীর নিজেরও একটি আত্মউন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করার সুযোগ থাকবে।

যেসব শিক্ষার্থী কোনও বিষয়ে বয়সের তুলনায় ‘অগ্রসরমান’ হয়, তাদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

একইভাবে দশম শ্রেণির মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। উত্তীর্ণ বা শর্ত সাপেক্ষে উত্তীর্ণ কোনও শিক্ষার্থী মান উন্নয়নের জন্য এক বা একাধিক বা সব বিষয়ে পুনরায় পাবলিক মূল্যায়নে অংশ নিতে পারবে।

একজন নিবন্ধিত শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির শিখনকালীন মূল্যায়নের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী যেকোনও পাবলিক মূল্যায়নে (এসএসসি মূল্যায়ন) অংশ নিয়ে রিপোর্ট কার্ড বা পারদর্শিতার সনদ নিতে পারবে।

আরও পড়ুন- ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়ন: যেসব নির্দেশনা দেওয়া হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে

/ইউএস/এপিএইচ/এফএস/

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়ন: যেসব নির্দেশনা দেওয়া হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ জুন ২০২৪, ২০:৫০ আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ২১:১১

২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন কার্যক্রমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতিমূলক নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।  গত ১২ জুনের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) অধিদফতরগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা পাঠায়।  

এনসিটিবির নির্দেশনায় জানানো হয়, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ বেকে নবম শ্রেণিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ এর আলোকে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য জানানো হয়েছে। এরজন্য ইতোমধ্যে মূল্যায়নের সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে। ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নের আওতায় যেসব অধ্যায় বা শিখন অভিজ্ঞাসমূহ নেওয়া হয়েছে তার একটি বিষয়ভিত্তিক তালিকাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরাবর পাঠানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা:

১) জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ এর আলোকে আগামী ৩ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত যষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময়সূচি এবং বিষয়ভিত্তিক সর্বশেষ কোনও অভিজ্ঞতা/অধ্যায় পর্যন্ত ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নের আওতায় আসবে তা ইতোমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।

২) ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরুর আগেই অর্থাৎ আগামী ৩ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পাদিত সব বিষয়ের শিখন অভিজ্ঞতার পারদর্শিতার নির্দেশকগুলো নৈপুণ্য অ্যাপে ইনপুট দিতে হবে।

৩) মূল্যায়ন কার্যক্রম চলাকালীন অর্থাৎ ৩ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিবসে মূল্যায়ন কার্যক্রম ছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির কোনও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

৪) পাঠানো সময়সূচি অনুসারে নির্ধারিত দিনে একটি বিষয়েরই মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত বিষয়ের মূল্যায়ন কার্যক্রম নির্ধারিত দিনেই শেষ করতে হবে। আগের মতো কোনও শ্রেণির একটি বিষয়ের মূল্যায়ন কার্যক্রম একাধিক দিনে সম্পন্ন করা যাবে না।

৫) বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন কার্যক্রম নির্ধারিত দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে মূল্যায়ন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে একটি মধ্যবর্তী বিরতি দেওয়া যেতে পারে।

৬) মূল্যায়ন কার্যক্রমে হাতে-কলমে কাজ এবং কার্যক্রমভিত্তিক লিখিত অংশ উভয় ধরনের কার্যক্রম আছে। হাতে-কলমে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং লিখিত অংশের জন্য প্রয়োজনীয় খাতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করতে হবে।

৭) বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নে উপকরণে বৈচিত্র রয়েছে যা বিস্তারিত মূল্যায়ন নির্দেশিকায় উল্লেখ করা থাকবে। মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উপকরণ সরবরাহের জন্য সাধারণ নির্দেশনা হচ্ছে—

# মূল্যায়ন কার্যক্রমে হাতে-কলমের কাজের জন্য উপকরণ হচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় সাদা/রঙিন কাগজ, সাইন পেন, কাঁচি, আঠা বা গাম ইত্যাদি। লিখিত অংশের মূল্যায়ন কার্যক্রমের জন্য ১৬ পাতার খাতা, প্রয়োজনে অতিরিক্ত পাতা সরবরাহ করতে হবে। 

# সরবরাহ করা মূল্যায়নপত্র থেকে শিক্ষার্থীর নির্দেশনা ও মূল্যায়ন/প্রশ্নপত্র অংশটি ফটোকপি করে সব শিক্ষার্থীকে সরবরাহ করতে হবে।

৮) উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে কোনও উপকরণই যেন ব্যয়বহুল না হয়। রিসাইকেল, রিউইজ, আপসাইকেল উপকরণ ব্যবহার করতে হবে।

৯) অভিভাবক বা শিক্ষার্থীকে উপকরণ সরবরাহের জন্য কোনও নির্দেশনা দেওয়া যাবে না।

১০) মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছ থেকে সীমিত পরিমাণে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা ফি নেওয়া যেতে পারে।

১১) মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মূল্যায়ন নির্দেশনা মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরুর আগের দিন নৈপুণ্য অ্যাপের প্রতিষ্ঠান ড্যাসবোর্ড (master.noipunno.gov.bd) এবং সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন নির্দেশনা মূল্যায়ন কার্যক্রমের সময়সূচি অনুসারে নির্ধারিত দিনের আগের দিন পাওয়া যাবে।

১২) মূল্যায়ন নির্দেশনায় শিক্ষকের জন্য করণীয়, শিক্ষার্থীদের জন্য করণীয়, মূল্যায়নপত্র, শিক্ষকের জন্য পর্যবেক্ষণ চেক লিস্ট এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক উপকরণের বিবরণ থাকবে।

১৩) ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা শেষে শিক্ষার্থীর অর্জিত পারদর্শিতার রেকর্ডের ভিত্তিতে নৈপুণ্য অ্যাপে পারদর্শিতার নির্দেশক (পিআই) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইনপুট দিতে হবে।

/এসএমএ/এফএস/

মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক হলেন ড. বিশ্বজিৎ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ জুন ২০২৪, ২০:২৪ আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ২০:২৪

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরের রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হলেন অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক পদে তিনি যোগদান করেছেন।

এর আগে, রবিবার (৯ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বদলি ও পদায়ন আদেশ জারি করে।

ড. বিশ্বজিৎ ইতিহাস বিষয়ের অধ্যাপক। তিনি রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও ইউজিসি ফেলো ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পিএইচডি করেছেন।

ড. বিশ্বজিৎ-এর জন্মস্থান নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর।

 

/এসএমএ/এমএস/
 
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল 
ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল সব ছাত্রসংগঠনকে কওমি মাদ্রাসায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল 
১ / ০